শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

আসন্ন রমজানের আগেই নতুন প্রকল্প সম্পন্নের প্রত্যাশা

জেএমসি’র ফান্ডরেইজিংয়ে  প্রায় মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ

নিউইয়র্ক 

প্রকাশিত: ১৪:১৮, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

জেএমসি’র ফান্ডরেইজিংয়ে  প্রায় মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ

ছবি সংগৃহীত

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি) নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত শীর্ষ স্থানীয় মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। শুধু বাংলাদেশী মুসলিম নয়, অন্যান্য দেশের মুসলিম কমিউনিটির জন্য জেএমসি একটি আদর্শ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দিনে দিনে মূলধারাতেও বাড়ছে জেএমসি’র গুরুত্ব। আর মুসল্লীদের স্বার্থেই পরিধিও বাড়ছে জেএমসি ভবনের।

এজন্যই জেএমসি’র তিনতলা ভবন চার তলায় পরিণত করা হচ্ছে। এজন্য চার মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বিশাল এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের ৫০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে। প্রকল্পের বাকী কাজ এগিয়ে চলছে এবং এই প্রকল্প শেষ করতে আরো দুই মিলিয়ন ডলার অর্থের প্রয়োজন। আর এই প্রয়োজন মেটাতেই আয়োজন করা হয় বিশেষ ফান্ডরেইজিং ডিনারের। এতে নগদ, চেক ও প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার সংগৃহীত হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক লাগোর্ডিয়া এয়ারপোর্ট ম্যারিয়ট হোটেলের বলরুমে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। খবর ইউএনএ’র।   
ধর্মীয় ভাব-গম্ভীর পরিবেশে অনুষ্ঠিত বিশেষ ফান্ডরেইজিং ডিনার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন রাওদাহ ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শেখ ড. জাকির আহমেদ ও জেএমসি’র ডিরেক্টও ইমাম শামসী আলী এবং কীনোট স্পীকার ছিলেন ইন্টারফেইথ স্কলার, ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের সানডিয়াগোর মসজিদ আল রিবাত-এর ইমাম শেখ ওসমান বিন ফারুক। অনুষ্ঠানে ফান্ডরেইজিং-এর মূল পর্ব পরিচালনা করেন জেএমসি’র প্রধান ইমাম ও খতিব মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ। এসময় ট্রাষ্টিবোর্ড ও ইসি কমিটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।    
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কারী নূহ কাওকাব। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফান্ডরেইজিং কমিটির চেয়ারম্যান আফতাব মান্নান ও জেএমসি’র বোর্ড অব ট্রাষ্টির চেয়ারম্যান ডা. মাহমুদুর রহমান তুহিন। পরবর্তীতে জেএমসি’র সম্প্রসারিত প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন জেএমসি পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. নাজমুল এইচ খান। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেএমসি’র বোর্ড অব ট্রাষ্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন জেএমসি’র সেক্রেটারী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার। 
নিউইয়র্কে বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটির সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানে ডা. নাজমুল এইচ খান বলেন, সবার সহযোগিতায় জেএমসি সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। আসন্ন রমজান মাস সমানে রেখে পবিত্র এই মাসের আগেই প্রকল্পটির কাজ সমাপ্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তখন জেএমসি দেখে সবার ভালো লাগবে এবং জেএমসিতে পাঁচ হাজারের বেশী মুসল্লী একত্রে নামাজ আদায় করতে পারবেন। ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানে উপস্থি হয়ে সহযোগিতার জন্য তিনি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি জেএমসি’র প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ৫০ হাজার ডলার দান করেন। এরমধ্যে কেউ কেউ তার পরিচয় গোপন রাখেন। এছাড়াও অনেকেই ৩০, ২৫, ২০, ১০ হাজার করে এমনকি দুই/এক হাজার ডলার দান করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নতুন প্রজন্মের কেউ কেউ তাদের জমানো অর্থও দান করে। 
অনুষ্ঠানের মাঝে জেএমসি সম্প্রসারন প্রকল্পের অগ্রগতি ভিডিও’র মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। 
নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মুসলিম কমিউনিটির সদস্য, জেএমসি’র সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ীরা পরিবার-পরিজনসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জেএমসির কর্মকর্তারা জানান, ১৯৭৬ সালে পুরনো একটি বাড়ীর বেসমেন্টে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমদিকে সীমিত পরিসরে নামাজের ব্যবস্থা থাকলেও পরবর্তী সময়ে নিজস্ব সম্পত্তি ক্রয়, মসজিদ নির্মাণ ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিধি বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে এটি নিউইয়র্কে বাংলাদেশীসহ দক্ষিণ এশীয় মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকা-ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৯৯৭ সালে জেএমসির নতুন মসজিদ ভবন চালু হয়। জেএমসি’র ভবন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল। বহুল প্রতীক্ষিত এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমান দ্বিতল ভবনটি উন্নীত হবে চার তলায়। আনুমানিক ৪ মিলিয়ন ডলারের সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে সম্পূর্ণভাবে অনুদানের অর্থে। এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে নতুন প্রজন্মসহ সকল বয়সের মানুষের জন্য নতুন এক সুযোগের সৃষ্টি হবে।
জেএমসির কর্মকর্তারা আরো জানান, মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি, ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার এবং শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে জরুরি হয়ে পড়েছে বিদ্যমান অবকাঠামোর সম্প্রসারণ। প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে আরও ২ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। প্রায় পাঁচ দশকের এ প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ বর্তমান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো গড়ে তুলবে। অতীতে প্রবাসী মুসলমানদের সম্মিলিত সহযোগিতায় ধাপে ধাপে বিকশিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চলমান প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান স্থাপনার পরিসর বৃদ্ধি, ভবনের বিভিন্ন অংশের সমন্বয়, অতিরিক্ত তলা সংযোজন এবং অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোর উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। লিফটের মাধ্যমে চলাচলের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রবীণদের জন্য ভবনটি আরও ব্যবহারোপযোগী করে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, জেএমসির নতুন সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় আরো ৫ হাজার ৬৫০ বর্গফুট আয়তন বাড়বে। ফলে বর্তমান ৯ হাজার ৮৪০ বর্গফুট মিলে মোট আয়তন দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৪৩৪ বর্গফুট। বর্তমান দ্বিতীয় তলা থেকে হিফজ স্কুল তৃতীয় তলায় সরানো হলে সেখানে অতিরিক্ত আরো ১৮০জন মুসল্লির নামাজের স্থান সংকুলান হবে। এছাড়া প্রথম তলা থেকে অফিস স্টোরেজ সরালে আরো ৬০ জন মুসল্লির নামাজের জায়গা বাড়বে। বর্তমান ভবনের দুই রুমের মাঝের দেয়াল ভেঙ্গে মিম্বার নিয়ে আসা হবে মাঝামাঝি স্থানে। ইমামের অফিস স্থানান্তর করা হবে চতুর্থ তলায়।  
আরো উল্লেখ্য, প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরোর জ্যামাইকার ১৬৮ ষ্ট্রীটে জেএমসি প্রতিষ্ঠিত। এই প্রতিষ্ঠান ঘিরেই জ্যামাইকায় গড়ে উঠেছে বৃহৎ বাংলাদেশী কমিউনিটি। প্রতিষ্ঠানটি মুসলিম কমিউনিটি সহ বাংলাদেশী কমিউনিটির কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা রাখার কারণে সিটি প্রশাসন সেন্টারের সামনের রাস্তাটি ১৬৮ স্ট্রীটের একাংশ (হাইল্যান্ড এভিনিউ থেকে গোথিক ড্রাইভ পর্যন্ত) জেএমসি’র নামে নামকরণ করেছে। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ শুক্রবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্ট্রীটের নাম উদ্বোধন করা হয়। ছবি: ইউএনএ
 

শেয়ার করুন: