ছবি সংগৃহীত
মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়া সত্ত্বেও ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের ধারণা, আগামী ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট (০.২৫ শতাংশ) বাড়াতে পারে।
সুদের হার স্থির রাখার সিদ্ধান্তটি ১০-২ ভোটে অনুমোদিত হয়। তবে ফেড গভর্নর লিফ ড্রাফট অনুযায়ী লিসা কুক এবং বেথ হ্যামাক সুদের হার ০.২৫ শতাংশ বাড়ানোর পক্ষে তাদের মত দেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ আগাম কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তবে ফেডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির একটি অংশ দেখে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, আগামী ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর জন্য বাজারকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মূল্যস্ফীতিকে নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় ফেরাতে সঠিক পলিসি বেছে নিতে আরও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
ওয়ার্শ ফেডের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় বড় এক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে ৮ বার বৈঠকে বসলেও ২০২৭ সাল থেকে একটি এবং ২০২৮ সাল থেকে দুটি বৈঠকে সুদের হারের ওপর কোনো ভোটগ্রহণ করা হবে না। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও তথ্য বিশ্লেষণ করার সুযোগ পাওয়া যাবে বলে তিনি যুক্তি দেন। সিএমই ফেডওয়াচ-এর মতে, ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৫ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে।
আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ার কারণে ফেড রাজনৈতিক পক্ষপাত এড়াতে এবার সুদের হার বাড়ানো থেকে বিরত থেকেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে চেয়ারম্যান ওয়ার্শ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই সিদ্ধান্তে রাজনীতির কোনো প্রভাব ছিল না। অ্যালগরিদম এবং এআই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ ও ডেটা সেন্টারের কারণে সুদের হার ও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়ছে কি নাÑএমন প্রশ্নে ওয়ার্শ জানান, এআই অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেও একমাত্র কারণ নয় এবং অর্থনীতি এখনো অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠেনি।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পেট্রোল ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ যখন ক্ষুব্ধ, তখন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশ এবং পাইকারি মূল্যস্ফীতি ৬.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মধ্য-অক্টোবর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪৭.১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প অবশ্য এর আগে ফেডকে সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। অর্থনীতিবিদরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সুদের হার বাড়লে মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপ আরও বাড়ে।

















