ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) এবং বিচার বিভাগ যৌথভাবে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত প্রায় ৪০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের হয়ে চরবৃত্তি, নরহত্যা, যৌন নিপীড়ন এবং জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য দিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে বা অবৈধভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করলে তা বাতিল করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দায়ের করা মামলাগুলোর উল্লেখযোগ্য কিছু বিবরণ :
জিনচাও ওয়ে (বয়স ২৬, চীন) : চীনা সরকারের পক্ষে চরবৃত্তির অভিযোগে তার নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা হয়েছে। মার্কিন আর্মড ফোর্সে চাকরির সুযোগ নিয়ে সামরিক গোপনীয়তা পাচার করার অপরাধে তিনি ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে ২০০ মাসের কারাদ- দেওয়া হয়।
পিং লি (বয়স ৬১, চীন) : মার্কিন আইন বিভাগকে না জানিয়ে অবৈধভাবে চীনা গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করা এবং মার্কিন টেলিকম কোম্পানির সংবেদনশীল তথ্য পাচার করার অভিযোগে তার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করা হয়েছে।
ইয়ুস্মারি শার্লি ডুরান মেজিয়া (বয়স ৪৭, কলম্বিয়া) : নাগরিকত্ব নেওয়ার সময় অপরাধের তথ্য ও অর্থ পাচারের অপরাধমূলক অতীত গোপন করায় ফ্লোরিডায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
আইয়েন লামসডেন (বয়স ৫০, যুক্তরাজ্য) : শিশু পর্নোগ্রাফি পরিবহন ও অপরাধের ইতিহাস গোপন করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কলোরাডোতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালিকায় থাকা বেশির ভাগ ব্যক্তির বিরুদ্ধেই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, জালিয়াতির মাধ্যমে বিয়ে করে গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব অর্জন, ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর যৌন নিপীড়নের মতো গুরুতর অভিযোগ লুকানোর প্রমাণ মিলেছে।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই ব্যক্তিরা মার্কিন নাগরিক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নৈতিক চরিত্রের মানদ-ে উত্তীর্ণ নন এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে তথ্য গোপন করেছেন। তবে আদালতে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগ কেবল অভিযোগ হিসেবেই গণ্য হবে।

















