শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

আইস পরিচালিত অভিযান 

নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে  গ্রেফতার ৪০ হাজার 

নবযুগ রিপোর্ট 

প্রকাশিত: ১৮:১৩, ৯ অক্টোবর ২০২৬

নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে  গ্রেফতার ৪০ হাজার 

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সিজুড়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০,০০০ অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে। ‘ডিপোরটেশন ডাটা প্রজেক্ট’ -এর মাধ্যমে প্রাপ্ত এবং ‘গথামিস্ট’-এর বিশ্লেষণ করা সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া অভিবাসীদের বেশিরভাগই লাতিন আমেরিকান পুরুষ, যাদের পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।

অভিযানের তীব্রতা এতটাই বেশি, বাইডেন প্রশাসনের শেষ ১৮ মাসের তুলনায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম ১৮ মাসে গ্রেফতারের সংখ্যা দ্বিগুণ অপেক্ষা বেশি। ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৪১ শতাংশেরও বেশি মানুষকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২২ শতাংশ গ্রেফতার হওয়ার পর নিজ ইচ্ছায় দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে মোট ১৯,৫০০টিরও বেশি গ্রেফতারির মধ্যে প্রায় অর্ধেক (৮,৮০০টির বেশি) ঘটেছে নিউ ইয়র্ক সিটিতে।
সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় এমন এলাকাগুলোর মধ্যে অভিবাসীবহুল এলাকা কুইন্স ছিল সবচেয়ে বড় হটস্পট। এখানে অন্তত ২,২০২ জন গ্রেফতার হয়েছেন, যার মধ্যে জ্যামাইকা, করোনা ও ফ্লাশিং অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে।
ব্রুকলিনে ৫৫৫ জন, ব্রঙ্কসে ৫১৪ জন, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে ১১৫ জন এবং ম্যানহাটনে ৬১ জন গ্রেফতার হয়েছেন। তবে প্রায় ৫,৪০০টি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পাড়ার নাম না উল্লেখ করে কেবল ‘নিউ ইয়র্ক’ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
সিটির বাইরে লং আইল্যান্ডের নাসাউ (কাউন্টি এবং ওয়েস্টার্ন নিউ ইয়র্কের ইরি কাউন্টিতে প্রতিটি অঞ্চলে প্রায় ২,০০০টি করে গ্রেফতারির ঘটনা ঘটেছে।
নিউ জার্জিতে মোট ১৭,৮০০টির মতো গ্রেফতারি রেকর্ড করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই ছিল ফেডারেল অফিস ও আদালত-সংলগ্ন শহরগুলোতে।
রাজ্যটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ প্রায় ৪,৫০০ জন গ্রেফতার হয়েছেন এখানে। এখানে একটি ফেডারেল ইমিগ্রেশন কোর্ট এবং আইসিই চেক-ইন অফিস রয়েছে।
ইমিগ্রেশন কোর্ট থাকায় এলিজাবেথ শহরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (১,১০০-এর বেশি) এবং চেক-ইন অফিস থাকা মাউন্ট লরেলে তৃতীয় সর্বোচ্চ গ্রেফতারি ঘটে।
ফোর্ট ডিক্স সামরিক ঘাঁটির ফেডারেল জেলখানা থেকে বহু কয়েদিকে আইসিই কাস্টডিতে নেওয়া হয়। এছাড়া প্লেনফিল্ড, কিয়ার্নি ও ফ্রিহোল্ডের মতো লাতিনো-সংখ্যাগরিষ্ঠ শহরগুলোতেও বড় পরিসরে গ্রেফতারি চালানো হয়েছে।
আইসিই ফিল্ড অফিস, চেক-ইন অফিস এবং ইমিগ্রেশন আদালতগুলোতেই বড় ধরনের গ্রেফতারির ঘটনা ঘটে চলেছে। নিয়মিত অভিবাসন শুনানিতে বা নিয়মমাফিক হাজিরা দিতে আসা অভিবাসীদের সরাসরি এসব দপ্তর থেকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে।
নাসাউ কাউন্টির অয়েস্টার বায় এলাকার বেথপেজে অ্যাসাইলাম অফিসে প্রায় ৩৪৫ জন গ্রেফতার হয়েছেন। এমনকি এক সিটি কাউন্সিল ডাটা অ্যানালিস্টকে এখান থেকে গ্রেফতার করার পর তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল (পরে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় পান)।
চামপ্লেইন এবং বলস্টনের মতো ছোট ছোট যেসব শহরে কেবল একটি করে চেক-ইন অফিস রয়েছে, সেগুলোও শীর্ষ ১৫টি গ্রেফতারি এলাকার তালিকায় চলে এসেছে।
উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, লাতিন আমেরিকান অভিবাসীদের জনসংখ্যা যেখানে বেশি, সেখানে অভিযানের মাত্রা তীব্র।
লং আইল্যান্ডের এই এলাকায় ১,১১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা নিউ ইয়র্ক সিটির বাইরে একক এলাকা হিসেবে সর্বোচ্চ।
ইসলিপ (৩৮ শতাংশ লাতিনো), পোর্ট চেস্টার (৫৮ শতাংশ লাতিনো), কপিয়াগ (৪৫ শতাংশ লাতিনো) এবং ওয়ায়ানডানচ (৩৯ শতাংশ লাতিনো) অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়।
ইরি কাউন্টির অলডেন শহরে ৪৭৮ জন গ্রেফতার হন, যাদের মূলত স্থানীয় কাউন্টি জেল বা ওয়েন্ডি কারেকশনাল ফ্যাসিলিটি থেকে ধরে আইসিই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
তাদের মুখপাত্র জানান, দেশে বেআইনিভাবে অবস্থানরতদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে এটি তাদের সফল পদক্ষেপ।
তিনি আইসিই-এর এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে একে সাধারণ মানুষের মনে ‘সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গাড়ি, বাড়ি ও নিজ জীবন থেকে মানুষকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার ছবি নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নাসাউ কাউন্টির রিপাবলিকান প্রধান ব্রুস ব্লেকম্যান স্থানীয় পুলিশকে অভিবাসী গ্রেফতারের ক্ষমতার অংশীদারত্ব দিয়েছিলেন। তবে রাজ্য সরকার সম্প্রতি এই ধরনের অংশীদারত্ব নিষিদ্ধ করে আইন পাস করায় চুক্তিটি বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি। সূত্র: গথামিস্ট।
 

শেয়ার করুন: