শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রক  সংকট কাটাতে  প্রশিক্ষণ 

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:৩৬, ৪ জুলাই ২০২৬

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রক  সংকট কাটাতে  প্রশিক্ষণ 

ছবি: সংগৃহীত

তিনি সব সময়ই নিজের ভবিষ্যতের জন্য আকাশের দিকে চেয়ে থাকতেন। গত শিক্ষাবর্ষে তিনি কুইন্সের ‘ভন কলেজ অব অ্যাভিয়েশন’-এ একটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিমুলেটরে (কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা) প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। খুব শিগগিরই তিনি সত্যিকারের একটি বিমান নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারে কাজ শুরু করবেন। কথাগুলো অ্যাডাম কুটসেরার।

কুটসেরা বলেন, ‘আমার দাদা বিমান চালনা খাতের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিমান বাহিনীতে ছিলেন, আর আমাদের এই আগ্রহটা অনেকটা এভাবেই শুরু হয়েছিল। আমি প্রায়ই লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে যেতাম এবং প্লেনগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতাম।’
ভন কলেজের ‘এনহ্যান্সড এয়ার ট্রাফিক কলেজিয়েট ট্রেনিং’ কর্মসূচির প্রথম ব্যাচ থেকে গত জুনে যে ৯ জন শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করেছেন, কুটসেরা তাদের একজন। এই কর্মসূচির সুবিধা হলো, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এফএএ (ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-এর ওকলাহোমা সিটির মূল একাডেমির দীর্ঘ প্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি বিমান নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান।
কোভিড-১৯ মহামারি এবং বাধ্যতামূলক অবসরের বয়সসীমার কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রকদের (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার) একটি তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ওকলাহোমা একাডেমির সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন প্রশিক্ষণার্থী নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দ্রুত নতুন নিয়ন্ত্রক নিয়োগের সুবিধার্থে মার্কিন পরিবহন মন্ত্রী শন ডাফি ভন কলেজসহ ৯টি বিমান চালনাবিষয়ক কলেজকে একই ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অনুমতি দেন।
ভন কলেজের প্রেসিডেন্ট শ্যারন ডেভিভো বলেন, ‘আমার পেছনে যে সিমুলেশন ব্যবস্থাটি দেখছেন, ঠিক এটার কারণেই আমরা ওকলাহোমা একাডেমিতে যা যা শেখানো হয়, হুবহু সেই পরিবেশ ভন কলেজের মতো জায়গাগুলোতেও তৈরি করতে পারছি।’
প্রশিক্ষকেরা জানান, এখানকার পাঠ্যসূচি এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলো অত্যন্ত কঠিন। এতে সফল হতে প্রচুর দক্ষতা এবং একাগ্রতার প্রয়োজন হয়।
অবসরপ্রাপ্ত বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রক এবং বর্তমান প্রশিক্ষক স্টিভ ফ্যানো বলেন, ‘এতে যে পরিমাণ সময় দিতে হয় এবং একই সাথে একাধিক কাজ করার (মাল্টিটাস্কিং) যে দক্ষতা লাগে, তা সত্যিই কঠিন। একটি সাধারণ উদাহরণ হলো, একই সাথে লেখা এবং কথা বলা। শুনতে সহজ মনে হলেও কাজটি মোটেও সহজ নয়।’
তবে কুটসেরা জানান, তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমি এখন যেকোনো টাওয়ারে গিয়েই সেখানকার কাজকর্মে খুব দ্রুত ভালো দখল নিয়ে নিতে পারব।’
তবুও, একটি সত্যিকারের টাওয়ারে তাকে আরো প্রায় দুই থেকে তিন বছর প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে। এফএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যে ৪,০০০ নিয়ন্ত্রক নিয়োগের প্রক্রিয়ার (পাইপলাইন) মধ্যে রয়েছেন, কুটসেরা তাদেরই একজন।
এফএএ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩০০টি টাওয়ারে প্রায় ১১,০০০ প্রত্যয়িত বা সার্টিফাইড নিয়ন্ত্রক কর্মরত ছিলেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বছরের শেষের মধ্যে আরো ২,২০০ জন নিয়ন্ত্রক নিয়োগ দেওয়া হবে এবং ফেডারেল সরকার জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে এই লক্ষ্যের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি পথ সফলভাবে পার করেছে।
 

শেয়ার করুন: