শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

অবৈধ ওষুধ বিক্রি

আলিবাবাকে এবার ৬০  কোটি ডলার জরিমানা 

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:২৯, ৪ জুলাই ২০২৬

আলিবাবাকে এবার ৬০  কোটি ডলার জরিমানা 

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অবৈধ ওষুধ, নিয়ন্ত্রিত উপাদান, নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক এবং বড়ি (পিল) তৈরির সরঞ্জাম বিক্রি ও আমদানির অভিযোগ নিয়ে মার্কিন সরকারের সাথে চলা বিরোধ মেটাতে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট আলিবাবা ৬০ কোটি (৬০০ মিলিয়ন) ডলার পরিশোধ করবে। চীনের হাংঝুভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছিল।

আলিবাবা ডটকম এবং এক্সপ্রেস ডটকম-সহ বিশ্বের বৃহত্তম কিছু ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আলিবাবা।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, আলিবাবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পেমেন্ট প্রসেসর (অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান) ‘এইউএস মার্চেন্ট সার্ভিসেস’ ব্যবসায়ীদেরকে আলিবাবা ডটকম এবং এক্সপ্রেস ডটকমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অবৈধ পণ্য বিক্রি ও আমদানিতে বাধা দিতে ব্যর্থ হয়ে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে।
বিচার বিভাগের (জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট) সাথে হওয়া একটি চুক্তিতে আলিবাবা স্বীকার করেছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তারা প্রায় ৮০,০০০ পণ্য বিক্রির প্রক্রিয়া থামাতে ব্যর্থ হয়েছিল, যা ‘ফেডারেল ফুড, ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিক অ্যাক্ট’ এবং অন্যান্য ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে আমদানি করা হয়েছিল।
এই রফাদফা-সংক্রান্ত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আলিবাবার নিজস্ব কর্মচারীরাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, কোম্পানির কমপ্লায়েন্স কন্ট্রোল (আইন মেনে চলার তদারকি ব্যবস্থা) অপর্যাপ্ত ছিল এবং এটি অবৈধ পণ্য বিক্রি ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছিল। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে, ব্যবসায়ীরা অবৈধ বিক্রি সহজ করতে ক্রেতাদের আলিবাবার মেসেজিং সার্ভিস থেকে অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের (থার্ড পার্টি) মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যেত।
এক বিবৃতিতে আলিবাবা জানিয়েছে, তাদের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের দ্বারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে আরো কঠোর আইনি নিয়মকানুন নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি এবং মার্কিন সরকার একটি পারস্পরিক সন্তোষজনক চুক্তিতে পৌঁছেছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এফডিএ, এফডিআইসি, আইআরএস-সিআই এবং অন্যান্য সংস্থার আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা ছদ্মবেশে ক্রেতা সেজে ৪০টিরও বেশি এমন ওষুধ ও সরঞ্জাম কিনেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পুরোপুরি অবৈধ। এই ঘটনার পর আলিবাবা এবং বিচার বিভাগের মধ্যে একটি ‘নন-প্রসিকিউশন চুক্তি’ (মামলা না করার চুক্তি) সই হয়।
আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের প্রধান জ্যারেড কুপম্যান বলেন, এ সিদ্ধান্তটি ‘অবৈধ অর্থের উৎস খুঁজে বের করতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো যাতে ফেডারেল আইন পুরোপুরি মেনে চলে তা নিশ্চিত করতে আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের প্রতিশ্রুতিকেই পুনর্ব্যক্ত করে।’
 

শেয়ার করুন: