ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসন সোমবার এমন একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যার অধীনে মার্কিন নাগরিকত্ব প্রত্যাশী বৈধ অভিবাসীদের আবেদন ফি আরো ৫৭০ ডলার বাড়বে; পাশাপাশি কম আয়ের আবেদনকারীদের জন্য ফি মওকুফ ও ফি কমানোর সুবিধাও বাতিল করা হবে।
ইউ.এস. সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর প্রস্তাবিত এই নিয়মের ফলে নাগরিকত্বের আবেদনের ফি ৭৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১,৩৩০ ডলার এবং অনলাইনে আবেদনের ফি ৭১০ ডলার থেকে বেড়ে ১,২৮০ ডলার হবে। এছাড়া, নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যান বা বাতিল হওয়ার পর ইউএসসিআইএসকে তা পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানানোর ফি-ও একলাফে ৬৪৫ ডলার বাড়বে।
এই পরিকল্পনার আওতায় নাগরিকত্বের মামলার ক্ষেত্রে ফি মওকুফের সুবিধা পুরোপুরি বাতিল করা হবে। যেসব অভিবাসীর পারিবারিক আয় ফেডারেল দারিদ্র্য সীমার ৪০০% বা তার নিচে, তাদের জন্য যে ফি কমানোর সুযোগ ছিল, সেটিও বাতিল করা হবে। তবে নাগরিকত্ব প্রত্যাশী সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য ফি মওকুফের সুবিধাটি বহাল থাকবে।
এই পরিবর্তনগুলো এখনই কার্যকর হচ্ছে না। কারণ এগুলো একটি প্রস্তাবিত নিয়মের অংশ, যা ফেডারেল সরকারের বিধি প্রণয়ন প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর মধ্য দিয়ে যাবে। এই পরিবর্তনের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত জমা দেওয়ার জন্য সাধারণ জনগণকে ৬০ দিনের একটি সময় দেওয়া হবে।
ইউএসসিআইএস-এর তদারককারী সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তাদের পরিকল্পনায় জানিয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়াকরণের পুরো খরচ মেটাতে এই ফি বাড়ানো প্রয়োজন, বিশেষ করে আবেদনকারীদের আরো নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া প্রচেষ্টার আলোকে। অন্য বেশিরভাগ ফেডারেল সংস্থার মতো নয়, বরং ইউএসসিআইএস মূলত তার আরোপিত ফি-র মাধ্যমেই তাদের বেশিরভাগ অর্থায়ন সংগ্রহ করে।
ডিএইচএস উল্লেখ করেছে, আগের প্রশাসনগুলো ‘নাগরিকত্ব ও একীভূতকরণকে উৎসাহিত করতে’ অন্যান্য সুবিধার তুলনায় নাগরিকত্বের আবেদন ফি তুলনামূলকভাবে কম রেখেছিল। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এবার ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে।
সংস্থাটি তাদের প্রস্তাবিত নিয়মে বলেছে, ‘যদিও বিগত প্রশাসনগুলোর স্বাভাবিকীকরণের (নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া) অগ্রাধিকারকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ডিএইচএস ঐতিহাসিকভাবে নাগরিকত্ব-সম্পর্কিত ফি সীমিত রেখেছিল, তবে ডিএইচএস এখন আর মনে করে না যে অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার সম্ভাব্য ক্ষতি করে নাগরিকত্ব সুবিধার আবেদনের ফি কম রাখা উচিত।’
মার্কিন সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে উৎসাহিত করে আসছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ন্যাচারালাইজেশন’ বা স্বাভাবিকীকরণ নামে পরিচিত। সাধারণত, যারা মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য তারা হলেন সেসব বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা যাদের নিজেদের ক্ষেত্র বা মামলা অনুযায়ী তিন বা পাঁচ বছর ধরে গ্রিন কার্ড রয়েছে।
নাগরিকত্ব আবেদনকারীদের সাধারণত একটি ইংরেজি এবং নাগরিকত্ব (ইতিহাস ও সরকার বিষয়ক) পরীক্ষায় পাস করতে হয় এবং অন্যান্য শর্তাবলী পূরণ করতে হয়, যেমন কোনো গুরুতর অপরাধমূলক ইতিহাস না থাকা।
অভিবাসন কঠোরকরণের অংশ হিসেবে, দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অভিবাসন সুবিধার সুযোগ সীমিত ও কঠোর করার চেষ্টা করেছে, যার মধ্যে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় আরো নতুন স্তর যুক্ত করাও অন্তর্ভুক্ত।
নাগরিকত্ব আবেদনের ক্ষেত্রে, আবেদনকারীরা যাতে ‘উন্নত নৈতিক চরিত্র’ প্রদর্শন করতে পারেন, সেই শর্তটি আরো জোরালোভাবে খতিয়ে দেখতে প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া তারা ‘নেইবারহুড চেক’ (প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া) নামক দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা একটি প্রথা আবার চালু করেছে, যার মাধ্যমে নাগরিকত্ব আবেদনকারীদের প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের সাথে কথা বলা হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন সেসব বিদেশজাত মার্কিন নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) প্রচেষ্টাও জোরদার করেছে, যাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বা জালিয়াতির মাধ্যমে (যেমন আবেদনে অপরাধমূলক কর্মকা- লুকিয়ে) নাগরিকত্ব পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

















