ছবি: সংগৃহীত
নিউজার্সির শহরতলিতে বাড়ি কেনার হিড়িক বা ‘গোল্ড রাশ’ থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না; ক্রেতারা যেকোনো মূল্যেই বাড়ি নিজেদের করে নিতে প্রস্তুত।
ম্যাপলউডের ৪২ ইউক্লিড অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি ১৭ লাখ ৯৫ হাজার (১.৭৯৫ মিলিয়ন) ডলারে বাজারে তোলা হয়েছিল। সেটি বিক্রি হয়েছে ২২ লাখ ৭৯ হাজার ডলারে, যা চাওয়া দামের চেয়ে অবিশ্বাস্য রকমের ২৭% বেশি। ঠিক একই সড়কের একটু আগে সাউথ অরেঞ্জের ৩৭৬ মেলরোজ প্লেসের একটি বাড়ির তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৯ ডলার, কিন্তু সেটি বিক্রি হয়েছে ১৩ লাখ ৩২ হাজার ডলারে, অর্থাৎ ৩৩% বেশি দামে।
এগুলো কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। এসেক্স এবং ইউনিয়ন কাউন্টির শহরতলি জুড়ে এটিই এখন নতুন সাধারণ চিত্র (নিউ নরমাল)। সেখানে বিক্রির মতো বাড়ির সংখ্যা (ইনভেন্টরি) প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং ক্রেতারা সব ধরনের সতর্কতা ভুলে লাখ লাখ ডলার উড়িয়ে দিচ্ছেন।
এই দৌড়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে ম্যাপলউড, সাউথ অরেঞ্জ ও মন্টক্লেয়ার। এই অঞ্চলের বাড়িগুলো চাওয়া দামের চেয়ে গড়ে দুই অঙ্কের শতাংশ (১০%-এর বেশি) বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এবং চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে বাজারে মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময় থাকছে।
‘কেলার উইলিয়ামস মিডটাউন ডাইরেক্ট রিয়েলটি’-এর মার্ক স্লেডের সংকলিত সাপ্তাহিক বাজার পরিসংখ্যান থেকে এ চিত্রটি পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
জুন মাসের শেষ নাগাদ ম্যাপলউডে একটি বাড়ির গড় বিক্রয় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যেখানে ক্রেতারা চাওয়া দামের চেয়ে ১৫.৬% বেশি পরিশোধ করছেন। সাউথ অরেঞ্জও খুব একটা পিছিয়ে নেই, সেখানে চাওয়া দামের চেয়ে ১৬.২% বেশি মূল্যে গড় বিক্রয় মূল্য ১২ লাখ ৭০ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, এই দলটির মধ্যে মন্টক্লেয়ারের বাজার সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত; সেখানে ক্রেতারা তালিকাভুক্ত মূল্যের চেয়ে প্রায় ২৫% বেশি দাম দিচ্ছেন।
২০০৯ সালে রিয়েলটর হওয়ার পর থেকে এই বাজারগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন স্লেড। তিনি জানান, দামের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ অত্যন্ত স্থিতিশীল।
তিনি ‘দ্য পোস্ট’-কে বলেন, ‘আমি মনে করি না যে ম্যাপলউড, সাউথ অরেঞ্জ বা মন্টক্লেয়ারে কখনো দাম কমার প্রবণতা দেখেছি।’ তিনি আরো যোগ করেন যে, বিশেষ করে গত কয়েক বছর বাজারের কার্যকারিতায় ‘নাটকীয় পরিবর্তন’ এনেছে।
স্লেডের মতে, মহামারি (কোভিড-১৯) এই চলমান প্রবণতাকে আরো বেগবান করেছে। তিনি এই নগরীগুলোর প্রতি মানুষের আকর্ষণের সূত্রপাত ১৯৯৭ সাল থেকে ধরেন, যখন হোবোকেনে কোনো ট্রেন পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি পেন স্টেশনে যাওয়ার ‘মিডটাউন ডাইরেক্ট’ ট্রেন সেবা চালু হওয়ার দুই বছর পূর্ণ হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘ঠিক তখনই আমরা এই এলাকার প্রতি মানুষের এক ধরনের উল্লেখযোগ্য স্থানান্তর এবং আকর্ষণ দেখতে শুরু করি।’
বর্তমানে যা ঘটছে, তার জন্য স্লেডের একটি নিজস্ব পরিভাষা রয়েছে। তিনি একে বলেন ‘ভ্যালু কনভারজেন্স ইকুইলিব্রিয়াম’ (মূল্য সামঞ্জস্যের ভারসাম্য)। এটি এমন একটি তত্ত্ব যা নির্দেশ করে যে, উত্তর নিউ জার্সির ক্রেতারা এখন সেই দামের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছেন, যা ওয়েস্টচেস্টার এবং লং আইল্যান্ডের যাত্রীরা দশকের পর দশক ধরে দিয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন যা দেখছি তা হলো, আরো বেশি সংখ্যক ক্রেতা বুঝতে পারছেন, তাদের অর্থনৈতিক সামর্থ্য অনুযায়ী তারা উত্তর নিউ জার্সিতে কম টাকায় আরো বড় বাড়ি পেতে পারেন।’
এই উন্মাদনা তৈরি করা ক্রেতারা যে কেবল ম্যানহাটন থেকেই পালিয়ে আসছেন তা নয়। স্লেড জানান, এদের বেশিরভাগই আসছেন ব্রুকলিন, হোবোকেন এবং কুইন্স থেকে, যারা বর্তমানে ফ্ল্যাটে থাকেন এবং এখন আরো বড় ও উন্নত বাড়িতে নিজেদের উন্নীত করতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমার মতো একজন মানুষের কাছে এই দামের লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়াটা পাগলামি মনে হলেও, উত্তর নিউ জার্সিতে এখনো সেরা দামে ভালো বাড়ি পাওয়া যায়। বিশেষ করে যদি আপনি শহর থেকে ৪৫ মিনিট বা তার কম সময়ের যাতায়াত দূরত্ব খুঁজছেন, তবে এটিই সেরা।’
অর্থনীতির সাধারণ নিয়মই বাকিটা ব্যাখ্যা করে, চাহিদার তুলনায় জোগান একেবারেই কম। স্লেড সুনির্দিষ্টভাবে ম্যাপলউডের উদাহরণ দেন; ২৫,০০০ বাসিন্দা এবং ৫,৫০০-এরও বেশি একক পরিবারের বাড়ি থাকার এই নগরীতে যেকোনো মুহূর্তে মাত্র হাতে গোনা বিশ-ত্রিশটির মতো বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত থাকে।
তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাচ্ছি, এটা স্রেফ হাস্যকর।’ তিনি এমন একটি পরিস্থিতি ট্র্যাক করেন যাকে তিনি ‘হাইপারমার্কেট’ বলেন, যেখানে চুক্তিবদ্ধ বাড়ির সংখ্যা সক্রিয়ভাবে তালিকাভুক্ত বাড়ির সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এই রেশিও বা অনুপাতটিকে তিনি পুরো শিল্পে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী ছয় মাসের বাড়ি বিক্রির গতির চেয়ে বেশি অর্থবহ বলে মনে করেন।
এদিকে, এই বিপুল চাহিদা নগরীগুলোর পুরোনো চরিত্র বদলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন দীর্ঘদিনের বাসিন্দারা।

















