শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

১১ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে

যুুক্তরাষ্ট্রে এক দশকের ভুয়া বিবাহ চক্র ফাঁস

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:১৯, ১৫ আগস্ট ২০২৬

যুুক্তরাষ্ট্রে এক দশকের ভুয়া বিবাহ চক্র ফাঁস

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও ভিসা প্রক্রিয়ায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক বিশাল ভুয়া বিবাহ চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইউএস স্থানান্তরিতকরণ ও নাগরিকত্ব সেবা (ইউএসসিআইএস) এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই)-এর যৌথ অভিযানে এ চক্রটিকে ধরা সম্ভব হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটি ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এক হাজারের বেশি ভুয়া বিয়ে আয়োজন করে প্রধানত চীনা নাগরিকদের বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব পাইয়ে দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যসহ চীন ও ভানুয়াতুতে পর্যন্ত তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছিল।
জালিয়াতির এই কৌশল ব্যবহার করে তারা বিপুল অর্থ আদায় করত। জানা গেছে, গ্রিন কার্ড ও স্থায়ী রেসিডেন্সির জন্য বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত নেওয়া হতো। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রলোভন দেখিয়ে বিয়েতে রাজি করানো মার্কিন নাগরিকদের ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ৩০,০০০ ডলার দেওয়া হতো। আর তাদের খুঁজে আনা রিক্রুটাররা প্রতিজনের জন্য ৫,০০০ ডলার কমিশন পেত।
লাইসেন্স নেওয়ার ঠিক আগে বর-কনের প্রথম দেখা করানো হতো। এরপর সাজানো বিয়ের অনুষ্ঠান, ভুয়া ছবি তোলা, যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, যৌথ ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভিসা আবেদন জমা দেওয়া হতো। এমনকি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার আগে শিখিয়ে দেওয়া হতো কীভাবে মিথ্যা উত্তর দিতে হবে।
গ্রিন কার্ড আবেদনের জন্য শত শত কোটি ডলারের ব্যবসা চালানো এই চক্রের গ্রেফতার হওয়া ১১ সদস্য হলেন : অ্যামি চেং (৭২), শাও মেই চান (৬৪), ক্রিস্টিন লু (৫২), জিং ইয়ান ইয়ে (৪৩), শাও ইয়ান চেন (৪৮), গ্যাং ঝেং (৬১), অ্যান্থনি চেং (৪৭), মিশেল ডুয়েনাস (৩৫), অ্যাঞ্জেলা ডুয়েনাস (২৬), সিগ্রিড সেতিনো (৩২) এবং এরিকা জনসন (৪৩)। তারা সবাই নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
আসামিদের বিরুদ্ধে বিয়ে ও ইমিগ্রেশন জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের (প্রথম অভিযোগে ৫ বছর এবং দ্বিতীয় অভিযোগে ১০ বছর) কারাদ- হতে পারে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এটি আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনি ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। অন্যায়ভাবে নাগরিকত্ব হাতিয়ে নেওয়া এবং জালিয়াতির সাথে যুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
 

শেয়ার করুন: