ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কের নতুন সমাজতান্ত্রিক মেয়র জোহরান মামদানি মূল নিউ ইয়র্ক সিটিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও আশপাশের উপশহরগুলোতে তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা অনেক কম। সিয়েনা কলেজের সাম্প্রতিক এক মতামত জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে।
৮১১ জন সম্ভাব্য ভোটারের ওপর চালানো এই জরিপে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে অঙ্গরাজ্যটির ৪৭ শতাংশ ভোটার মামদানির পক্ষে এবং ৪৪ শতাংশ তার বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন। তবে অঞ্চলভেদে এই পছন্দের ফারাক বিশাল।
নিউ ইয়র্ক সিটির ৬৯ শতাংশ ভোটার মেয়র মামদানির পক্ষে, যেখানে মাত্র ২৪ শতাংশ তার বিপক্ষে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং তরুণদের (১৮-৩৪ বছর) ৭২ শতাংশ তাকে সমর্থন করেন।
বিপরীত চিত্র দেখা গেছে উপশহরগুলোতে। সেখানকার ৬০ শতাংশ ভোটারই মামদানিকে অপছন্দ করেন। এছাড়া উত্তরঞ্চলীয় ভোটারদের ৪৬ শতাংশ তার বিপক্ষে ও ৪১ শতাংশ তার পক্ষে।
অন্যদিকে ইহুদি ভোটারদের সর্বোচ্চ ৬৬ শতাংশ এবং ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভোটারদের ৫১ শতাংশ মামদানির বিরোধী।
উপশহরগুলোতে মামদানির অজনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে রিপাবলিকানরা গভর্নর ক্যাথি হোকুলসহ ডেমোক্র্যাটদের কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছে। রিপাবলিকান গর্ভনর পদপ্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যানের ভোট কৌশলীদের মতে, গভর্নর হোকুল যেহেতু মামদানিকে সমর্থন দিয়েছিলেন, তাই মামদানির নীতি ও ভাবমূর্তি হোকুলের ওপর প্রভাব ফেলবে।
অবশ্য মূল নিউ ইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোতে মামদানির এই বিশাল গ্রহণযোগ্যতা গভর্নর হোকুল ও ডেমোক্র্যাটদের ভোট বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জরিপে দেখা যায়, উপশহরগুলোতে গভর্নর হোকুল নিজেও কিছুটা ব্যাকফুটে (৪০% সমর্থন, ৫৭% বিরোধিতা)। এদিকে রিপাবলিকানরা যেমন ডেমোক্র্যাটদের দমাতে ‘মামদানি জুজু’ ব্যবহার করছে, তেমনি তাদের নিজেদের জন্য চ্যালেঞ্জ সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার বিপক্ষে রাজ্যের ৬০ শতাংশ ভোটারের নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। রাজনৈতিক কৌশলীদের মতে, হোকুল কীভাবে মামদানিকে সামলান এবং ব্লেকম্যান কীভাবে ট্রাম্পের প্রভাব সামলান, তার ওপরই নির্ভর করছে নিউ ইয়র্কের আগামী রাজনৈতিক ভাগ্য।

















