ছবি সংগৃহীত
প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত মুসলিম ডে প্যারেড ২০২৬-এ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। শিশুদের হাত ধরে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ইমাম এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্যারেডে সমবেত হন।
বৃষ্টিভেজা ম্যাডিসন অ্যাভিনিউতে তাঁদের সরব উপস্থিতি মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও শান্তির বার্তাকে সামনে নিয়ে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের প্রেক্ষাপটে এবারের প্যারেডের প্রতিপাদ্য ছিলÑ“বিশ্বাসে ঐক্যবদ্ধ, সংস্কৃতিতে বৈচিত্র্যময়।” আয়োজকদের প্রচারপত্রে “এক উম্মাহ, এক জাতি, গর্বিত আমেরিকান” এবং “সবার প্রতি ভালোবাসা, কারও প্রতি ঘৃণা নয়”Ñএই আহ্বানও তুলে ধরা হয়। নানা ভাষা, দেশ ও সাংস্কৃতিক পটভূমির মানুষের অংশগ্রহণে সেই বার্তার প্রতিফলন ঘটে।এবড়মৎধঢ়যরপ জবভবৎবহপব
প্যারেডে কমিউনিটি ও ধর্মীয় নেতাদের পাশাপাশি অংশ নেন এনওয়াইপিডির মুসলিম কর্মকর্তা, এফডিএনওয়াই সদস্য, বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তাঁদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে একটি প্রাণবন্ত ও স্মরণীয় কমিউনিটি সমাবেশে পরিণত করে।
প্যারেডের আহ্বায়ক কাউন্সিল অব পিপলস অর্গানাইজেশনস (কোপো)-এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাজভি অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পুরো আয়োজন সফল করতে পর্দার আড়ালে যাঁরা কাজ করেছেন, সেই আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও স্পনসরদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাজভি বলেন, নিউইয়র্কের মুসলমানরা ঐক্য ও শান্তির প্রতীক। বৃষ্টির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি সেই ঐক্যের শক্তিকেই তুলে ধরেছে।
কুইন্সের এলহাম একাডেমি তাদের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্কুল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্যারেডে অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের কাছে দিনটি ছিল নিজেদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব প্রকাশের পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশেরও একটি সুযোগ। অভিভাবক ও শিক্ষকেরাও শিশুদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
এলহাম একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা এবং সেভ দ্য পিপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমাম মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, “ইসলাম শান্তির ধর্ম। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরের ইতিহাসে মুসলমানদের অবদান আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। এই দেশের শিক্ষা, সেবা, সংস্কৃতি ও উন্নয়নে মুসলিম আমেরিকানরা যে ভূমিকা রেখেছেন, তা আমেরিকাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। আগামী দিনেও আমরা সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরতে এবং আমেরিকাকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে চাই।”
প্যারেডের প্রচারপত্রে পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে তাহির মুস্তাফা কুকিগি, রফিক মোহামেদ, ইব্রাহিম আহমেদ, আইনুল হক, জিলফা বকশ, এড পাওয়েল, সাকিবেহ মুস্তাফা, সুলেইমানে কোনাতে, বাজাহ রুহি, কেনান তাসকেন্ট, আহমাদ আলী, হাফিদা টরেস, মনি লুৎফি, ইমাম মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও মোহাম্মদ রাজভির নাম উল্লেখ করা হয়।
প্রচারপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোপো, দারুল উলুম নিউইয়র্ক, সেভ দ্য পিপল, আল-আমিন স্কুল, জালালাবাদ ফাউন্ডেশন ফর চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ুথ, আফ্রিকা কমিউনিটি সার্ভিসেস, আফ্রিকান কালচারস প্রমোশনস, আলবিয়ানা ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, আল-ইহসান একাডেমি, আল-ইমান স্কুল, আল-মামুর স্কুল, আমেরিকান কাউন্সিল অব মাইনরিটি উইমেন, বাস্টি, কাউন্সিল অব আফ্রিকান ইমামস, ইসলামিক লিডারশিপ স্কুল, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার এবং জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির নাম উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন মসজিদ, স্কুল ও সংগঠনের মধ্যে ছিল আল-মেদনি মসজিদ, মসজিদ আল-হিকমাহ, মসজিদ আল-গাফার, মাক্কি মসজিদ, মসজিদ আসরি, মিরাজ ইসলামিক স্কুল, রাজি স্কুল, ইয়ানকাসা অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ, মরোক্কান সোসাইটি অব নিউইয়র্ক, ইয়েমেনি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক, ইয়ংকার্স ইসলামিক সেন্টার, এলহাম ফর অল, নিউইয়র্ক ইমাম কাউন্সিল, ইসলামিক স্কুলস অ্যাসোসিয়েশন, ক্যারিবিয়ান আমেরিকান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন এবং স্মাইল অব লাইফ। তবে দিনশেষে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
প্রবল বৃষ্টিও তাঁদের থামাতে পারেনি। বৃষ্টিভেজা ম্যানহাটনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও প্রজন্মের মুসলমানদের একসঙ্গে পথচলা প্যারেডটিকে শুধু একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং এটি হয়ে ওঠে ঐক্য, সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্প্রীতির এক দৃশ্যমান প্রকাশ। আয়োজকদের মতে, এবারের প্যারেড নতুন প্রজন্মের কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছেÑনিজেদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও পরিচয় নিয়ে গর্বের সঙ্গে এবং অন্য সব সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ, বৈচিত্র্যময় ও ঐক্যবদ্ধ আমেরিকা গড়ে তোলা সম্ভব।

















