ছবি: সংগৃহীত
পার্কচেস্টারের ইউনিয়নপোর্ট রোডে অবস্থিত ক্যাফে এবং রেস্টুরেন্ট ‘নিউ ফাইভ স্টার’-এ গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি টেবিলই বাংলাভাষী গ্রাহকদের উপস্থিতিতে মুখরিত।
রেস্টুরেন্টের মালিক মোস্তাক ‘রফিক’ আহমেদ বলেন, “এটি খুবই আনন্দদায়ক, আমি সবার কথা শুনি। মনে হয় যেন আমরা কোনো এক ‘লিটল বাংলাদেশ’-এ আছি।”
ইউনিয়নপোর্ট রোড এবং স্টার্লিং অ্যাভিনিউকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই জাতিগত এলাকাটিকে অনেকেই ভালোবেসে ‘লিটল বাংলাদেশ’ বলে ডাকেন। গ্রাহক সুমাইয়া মিম বলেন, ‘আমি এখানকার সবকিছু ভালোবাসি। এটি আমার নিজের কমিউনিটির মতো। আমার মানুষ, আমার সংস্কৃতি। আমাদের মুদি দোকান, আমাদের রেস্টুরেন্ট, সবকিছুই এখানে আছে।’
পোশাক বিক্রেতা এবং মসজিদ থেকে শুরু করে আমদানি করা দুর্লভ পণ্যের সুপারমার্কেট, সবই আছে এখানে। ব্রঙ্কস কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট ৯-এর অন্তর্ভুক্ত এই পার্কচেস্টার এখন বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা হাজার হাজার মানুষের আবাসস্থল।
২০২৪ সালের ডেটা ইউএসএ-এর একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই ডিস্ট্রিক্টের ১২,২০০-এরও বেশি পরিবারে বাংলা ভাষায় কথা বলা হয়, যা সাউন্ডভিউসহ এই অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ৭.৭ শতাংশ।
মোহাম্মদ মজুমদার ১৯৯০-এর দশকে মার্কিন সরকার ‘ডাইভার্সিটি ভিসা’ (ডিভি) প্রোগ্রাম চালু করার পর বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। মজুমদার বলেন, ‘আমাদের দেশের জন্য তখন ৫০,০০০ ভিসার লটারি ছিল। তাদের অর্ধেকই এখানে এসেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কম এমন দেশগুলোর মানুষকে আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই প্রোগ্রামের অধীনে বাংলাদেশের অধিবাসীদের প্রায় ৫০,০০০ ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়া হয়েছিল। মজুমদার আরো যোগ করেন, ‘তারা আসার পাঁচ বছর পর তাদের স্ত্রী, মা-বাবা, প্রতিবেশী এবং ভাগ্নে-ভাগ্নিরা আসতে শুরু করেন।’
মজুমদার বর্তমানে পার্কচেস্টারসহ কমিউনিটি বোর্ড ৯-এর দীর্ঘতম সময়ের সদস্য। নিউ ইয়র্ক সিটির কোনো কমিউনিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিও তিনি। কমিউনিটিকে নেতৃত্ব দেওয়াকে তিনি নিজের কর্তব্যের অংশ মনে করেন।
সম্প্রতি তিনি এনওয়াইপিডি অফিসার দিদারুল ইসলামের পরিবারকে সান্ত¡না দিয়েছেন। পার্কচেস্টারের বাসিন্দা দিদারুল গত জুলাই মাসে মিডটাউনে একটি নির্বিচার গোলাগুলিতে নিহত হন। মজুমদার বলেন, ‘আমি তার বাড়িতে গিয়েছিলাম এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছি। আমরা সবাই শোকাহত। তবে অন্যদিকে, আমাদের কমিউনিটি গর্বিত যে একজন মুসলিম এবং বাংলাদেশি আমেরিকান সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের জীবন কোরবানি করেছেন।’
নিহত এই স্বামী ও পিতাকে মরণোত্তর ডিটেকটিভ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং তার জানাজায় পার্কচেস্টারের স্থানীয় একটি মসজিদে বিপুলসংখ্যক লোকের সমাগম ঘটে। পার্কচেস্টারের বাসিন্দা মোহাম্মদ আজাদ বলেন, ‘এ কমিউনিটি সত্যিই খুব শক্তিশালী, ভালো এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল।’
অনেক বাসিন্দাই মনে করেন, এমন একটি সুসংবদ্ধ পরিবেশে বসবাস করা, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ একই মুসলিম ধর্মবিশ্বাস এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন শেয়ার করে, তা পার্কচেস্টারকে বসবাসের জন্য একটি আদর্শ স্থানে পরিণত করেছে। সুমাইয়া মিম বলেন, ‘আমি চাই আমার সন্তানরাও আমাদের সংস্কৃতি অর্থাৎ বাংলাদেশি সংস্কৃতি সম্পর্কে জানুক। এখানে অনেক মসজিদ আছে। আমরা মসজিদে যাই, নামাজ পড়ি; তাই বাচ্চাদের বেড়ে ওঠার জন্য এটি একটি চমৎকার জায়গা।’

















