ছবি: সংগৃহীত
আমার এক ডাক্তার বন্ধু পরিবার-পরিজন নিয়ে নিউইয়র্ক শহরে বসবাস করছে। ওর সন্তানদের জন্ম এখানে হলেও কিছুদিন আগে মেয়েকে পাঠিয়েছে ঢাকা মেডিকেলে ডাক্তারি পড়তে। মেয়েটি এখান থেকে টুয়েলভ গ্রেড শেষ করেছে। এ নিয়ে কথা হচ্ছিল বন্ধুর সঙ্গে।
ও বলল ওদের এই ডিসিশানে আত্মীয় বন্ধু সবাই হতবাক! তারা বলছে দেশ থেকে অনেকে পড়তে এখানে আসে বা অন্য বহু দেশে যায় আর এরা পাগল বলেই উল্টো বাংলাদেশে পড়ার জন্য মেয়েকে পাঠায়। এরকম নানাবিধ বিষয় আমাদের সবার জীবনে ঘটে, যা অন্যের কাছে হয়তো অপছন্দের। কিন্তু তাতে কি, যার যার জীবনতো তার তার। অন্যের কথা শুনে তো আর জীবন চলবে না। অন্যরাতো বলেই খালাস। কেউ এসে আপনার জীবন কিন্তু যাপন করে দিবে না। তাই অন্যের কথায় ভড়কে না যেয়ে নিজেকেই পথ চলতে হয়। আপনি কি খাবেন, পরবেন, কি করবেন, তা সবই আপনার বিষয়। কথায় আছে না, ‘নিজে বুঝে ঠকাও ভালো‘। পরচর্চা যারা করে তারা আপনি ঠকলেও কথা বলবে আর লাভবান হলেও কথা বলবে। এই বাড়তি কথা বলা মানুষের সংখ্যাই সমাজে বেশি। কি যে মজা অন্যের সমালোচনা করায়! তা যারা দূরবীন আর নিত্তি নিয়ে বসে থাকে তারাই ভালো জানে। কত সহজে অন্যের বিষয়ে মানুষ জাজমেন্ট দিয়ে দেয়! জীবনে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে যদি ভাবতে থাকেন, কে কি ভাবলো, বললো, তাহলে কারো পক্ষেই আগানো সম্ভব নয়। জীবন থমকে যাবে আটকে যাবে। তাই পরের মন্তব্যের ভয়ে নিজের হাঁটাচলা থামানো যাবে না। আপনার দৃষ্টি আপনার। আপনার চোখের আলো দিয়ে আপনিই দেখুন। অন্যের কথা শুনে সাদা কে কালো ভাবার প্রায়শ্চিত্ত আপনাকেই ভোগ করতে হবে। মনে রাখবেন মন্দ লোকেরা মন্দই ছড়ায়। দুঃখজনক হলেও সমাজে এদের সংখ্যাই বড়! আপনার ভালো চাইবে এমন ক’জন পাবেন? তাই আগে পিছে অত না ভেবে নিজের বুদ্ধি বিবেচনায় চলুন। তাতে লাভ বা লোকসান যাই হোক। ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ এ প্রবাদকে ছুঁড়ে ফেলে দিন। মনে রাখুন আপনার ক্ষুধা আপনাকেই মেটাতে হবে। আর অন্যের কথাতে চিড়েও ভিজবে না, দুধ-পানি আপনাকেই ঢালতে হবে।
লেখক : অভিনেতা।

















