শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

বিমানবন্দর কর্মকর্তাদের  তথ্যে গ্রেফতার ৮০০

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:১৩, ১০ এপ্রিল ২০২৬

বিমানবন্দর কর্মকর্তাদের  তথ্যে গ্রেফতার ৮০০

ছবি: সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির শুরু থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফেডারেল বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮০০-এরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই সংখ্যাটি আগে জনসমক্ষে প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি। রয়টার্সের পর্যালোচিত মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-এর অভ্যন্তরীণ তথ্যে এমনটা জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্ভাব্য অভিবাসন আইন প্রয়োগের জন্য আইসিই-কে ৩১,০০০-এর বেশি যাত্রীর রেকর্ড সরবরাহ করেছিল, যেখান থেকেই এই গ্রেপ্তারের সূত্রপাত হয়।
আইসিই এবং টিএসএ উভয়ই মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অন্তর্ভুক্ত। ঐতিহাসিকভাবে এই সংস্থাগুলো জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান করলেও, গত বছর থেকে ট্রাম্পের ‘গণ-ডিপোর্টেশন’ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তারা নিয়মিত অভিবাসন প্রত্যাশীদের গ্রেফতারের দিকে মনোনিবেশ করতে শুরু করে।
সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল টিএসএ প্রোগ্রাম
এই ৩১,০০০ যাত্রীর তথ্য টিএসএ-র ‘সিকিউর ফ্লাইট প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য পর্যালোচনা করা। এ-সংক্রান্ত বিধিমালার উদ্দেশ্য অনুযায়ী, এটি একটি সন্ত্রাসবাদ বিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে পরিকল্পিত ছিল, অভিবাসন অপরাধীদের খুঁজে বের করার জন্য নয়।
টিএসএ কর্তৃক আইসিই-কে যাত্রীদের তথ্য দেওয়ার বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ কোনো সরাসরি উত্তর দেয়নি। তবে তারা জানিয়েছে যে, ট্রাম্পের অধীনে টিএসএ এমন সমাধান খুঁজছে যা পুরো ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা, নিরাপত্তা এবং দক্ষতা বাড়াবে। ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের আগে টিএসএ কতজন যাত্রীর তথ্য আইসিই-এর সাথে শেয়ার করেছিল, সেই পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্কিন বিমানবন্দর এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো একটি দলীয় তহবিল লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের এই কঠোর অভিবাসন অভিযানের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যতক্ষণ না এই আক্রমণাত্মক কৌশলগুলো কমানোর সংস্কার আনা হয়।
এই অচলাবস্থার কারণে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অর্থায়ন সংক্রান্ত বিল পাস আটকে যায়, যার ফলে টিএসএ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অন্তত দুটি পূর্ণ বেতন পাননি। বেতন না পাওয়া কিছু টিএসএ কর্মকর্তা অসুস্থতার কথা বলে কাজে আসা বন্ধ করে দিলে, মার্চ মাসে ট্রাম্প নিরাপত্তা কাজে সহায়তার জন্য এক ডজনেরও বেশি বিমানবন্দরে আইসিই কর্মকর্তাদের মোতায়েন করেন।
বিমানবন্দরে অপ্রত্যাশিত গ্রেফতারের খবর
মার্কিন বিমানবন্দরগুলোতে আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে যাত্রীদের গ্রেফতারের বেশ কিছু ঘটনা তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
গত নভেম্বরে থ্যাঙ্কসগিভিং পালন করতে বোস্টন থেকে টেক্সাস যাওয়ার পথে এক কলেজ ছাত্রকে আটক করা হয়। এছাড়াও, ট্রাম্পের বিমানবন্দর মোতায়েন শুরু হওয়ার আগের দিন সান ফ্রান্সিসকো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে এক ক্রন্দনরত মাকে গ্রেফতার করা হয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উভয় গ্রেফতারের পক্ষ নিয়ে বলেছে যে, তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ  ছিল।
রয়টার্স তিনজন অভিবাসন আইনজীবীর সাথে কথা বলেছে যারা বৈধ কাগজপত্রহীন ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে গ্রেফতারের ঘটনার সাথে পরিচিত। আইনজীবী ক্রিস্টিনা ক্যান্টি জানান, এমন একটি মামলায় গত গ্রীষ্মে ফ্লোরিডা থেকে নিউ ইয়র্কে ফেরার পথে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক আইরিশ দম্পতিকে তাদের সন্তানদের সামনেই আটক করা হয়। ওই দম্পতির স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলেও তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় এবং তাদের ৭ ও ১০ বছর বয়সী দুই সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ভাইবোনদের কাছে রেখে যেতে হয়।
অন্য একটি ঘটনায় দেখা যায়, স্থায়ী বসবাসের সুযোগ প্রত্যাশী এক চীনা নারীকে গত বছর আটলান্টা বিমানবন্দর থেকে ফিলাডেলফিয়া যাওয়ার পথে আইসিই আটক করে, যার বিরুদ্ধে আগে থেকেই বহিষ্কারাদেশ ছিল।
 

শেয়ার করুন: