ছবি: সংগৃহীত
মাসব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপনের জোয়ার চালানো সত্ত্বেও সিটির বিনামূল্যে প্রাক-কিন্ডারগার্টেন (প্রি-কে) এবং ৩-কে কর্মসূচিতে আরও বেশি পরিবারকে আবেদন করাতে ব্যর্থ হয়েছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। এমনকি গত বছরের তুলনায় আবেদনের সংখ্যা সামান্য কমে যাওয়ার খবরও মিলেছে। নতুন উপাত্তে এমনটি দেখা গেছে।
শিক্ষা বিভাগের উপাত্ত নিয়ে মিডিয়ায় প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই বছর সিটির বিনামূল্যে ৩-কে কর্মসূচিতে প্রায় ৫৯০ জন কম শিক্ষার্থী আবেদন করেছে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ১.৪% কমেছে। অন্যদিকে প্রাক-কিন্ডারগার্টেন আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র সামান্য ০.৩% (বা ১৭২টি আবেদন)।
মেয়র মামদানি সর্বজনীন শিশুসেবাকে তার নির্বাচনী প্রচার ও প্রশাসনের একটি প্রধান এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। গভর্নর ক্যাথি হোকুল তার ২,০০০ আসনের ‘২-কে পাইলট কর্মসূচি’-এর জন্য রাজ্য তহবিল থেকে ৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন, যার অর্থ দাঁড়ায় শিশুপ্রতি প্রায় ৩৬,৫০০ ডলার।
ইতিমধ্যে, ৩ ও ৪ বছর বয়সীদের জন্য সিটির বিদ্যমান বিনামূল্যে প্রাক-স্কুল কর্মসূচির গতি বাড়াতে মেয়র একটি গণসংযোগ অভিযান শুরু করেছিলেন। তবে উপাত্ত বলছে, গত বছরের তুলনায় এই বছরও আবেদনের যোগ্য পরিবারগুলোর ঠিক সমহারেই আবেদন করেছে।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট বাজেট অফিসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০২৬ উভয় বছরেই ৩-কে-এর জন্য যোগ্য শিশুদের মাত্র অর্ধেক এই কর্মসূচিতে আবেদন করেছিল। অথচ স্পটের জন্য নগরীজুড়ে চাহিদা বাড়ছে এবং ২০২৩-২৪ সালের তুলনায় মোট আসন ধারণক্ষমতা ৮১% থেকে লাফিয়ে প্রায় ৮৪%-এ পৌঁছেছে।
গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেয়র তার পূর্বসূরি এরিক অ্যাডামসকে দোষারোপ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, অ্যাডামস তার জন্য একদম নামমাত্র বা ‘কঙ্কালসার’ এক গণসংযোগ দলসহ একটি ভেঙে পড়া সর্বজনীন শিশুসেবা ব্যবস্থা রেখে গেছেন।
মামদানি বলেন, ‘সিটি কাউন্সিলের অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আমরা দেখেছি যে সর্বজনীন শিশুসেবা সংক্রান্ত প্রচারণায়, বিশেষ করে ৩-কে এবং প্রাক-কিন্ডারগার্টেনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক বিনিয়োগহীনতা বজায় ছিল।’
আবেদনের সংখ্যা বাড়াতে তার প্রশাসনের এই লড়াইয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা দেখেছি তা হলো আমাদের নগরীতে অভিবাসন কমেছে এবং সিটির সেবাগুলোতে নাম লেখানো ও তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ করে অভিবাসী সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে ভয় ও সন্দেহ বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম যে আমাদের এই বছর একটি ধারাবাহিক প্রচারণায় বিনিয়োগ করতে হবে এবং এটিকে অনেক বছরের প্রচারণার অংশ করতে হবে, যাতে আমরা সেই পরিবারগুলোর আস্থা আবার ফিরিয়ে আনা শুরু করতে পারি।’
নগরীজুড়ে শিক্ষার্থীদের তাদের বাড়ি থেকে মাইলের পর মাইল দূরের এলাকায় প্রাক-স্কুলের স্পট বরাদ্দ পাওয়ার মতো ঘটনাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে মেয়র ‘আসলে কী কী সুবিধা পাওয়া যাচ্ছিল তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলা বিভ্রান্তি’-কেও দায়ী করেন।
সিটি হল জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত সিটি প্রাক-কিন্ডারগার্টেন এবং ৩-কে-এর জন্য প্রায় ১,০০,০০০টি অফার বা আসন বরাদ্দ দিয়েছে। তবে এবার নিজেদের আবেদনে উল্লেখ করেনি এমন কর্মসূচিতে আসন পাওয়ার হার ১৫% থেকে কমে ১২%-এ নেমে এসেছে, যা ‘আরও বেশি পরিবারের জন্য এমন অফার নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে যা তারা বাস্তবসম্মতভাবেই গ্রহণ করতে পারে।’

















