ছবি: সংগৃহীত
গত এক দশকে ইউ.এস. সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস-এর ব্যাকলগ (নিষ্পত্তিহীন মামলার সংখ্যা) তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০১৬ সালে যেখানে ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা ছিল ৩৫ লাখ (৩.৫ মিলিয়ন), ২০২৫ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখে (১১.৬ মিলিয়ন)। এই বিশাল ব্যাকলগের কারণে গ্রিন কার্ড আবেদনকারী, সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদা (পিপিএস) প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং অভিবাসী শ্রমিকদের এমন এক অনিশ্চিত অপেক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা আইনজীবী ও গবেষকদের মতে, আইন মেনে চলা সাধারণ মানুষের আইনি মর্যাদাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিল ইউএসসিআইএস-এর উপাত্তের ভিত্তিতে একটি ইন্টারেক্টিভ ড্যাশবোর্ড প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, নতুন জমা পড়া আবেদনের তুলনায় সংস্থাটির ফাইল নিষ্পত্তির সক্ষমতা দিন দিন আরও পিছিয়ে পড়ছে। বর্তমান কাজের গতি অনুযায়ী, নতুন কোনো আবেদন জমা না পড়লেও, শুধুমাত্র বিদ্যমান ব্যাকলগ পরিষ্কার করতেই সংস্থাটির আরও ১৩.৮ মাস সময় লাগবে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত অভিবাসন আইনজীবী ইয়ান রচস্টেইন জানান, তার মক্কেলদের ক্ষেত্রে এই ধরনের বিলম্ব এখন খুব সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রচস্টেইন বলেন, ‘প্রথমবার কেউ যখন পরামর্শ করতে আসেন, তখন আমি শুরুতেই তাদের বলি যে সময়সীমা এখন অত্যন্ত অনিশ্চিত। কখনো কখনো আমরা একটি আবেদন জমা দেওয়ার পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই অনুমোদন পেয়ে যাই, আবার অন্য সময়ে আমাদের এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।’
তিনি আরও জানান, কোনো আবেদন আটকে গেলে তার অফিস নিয়মিতভাবে অভিবাসন সংস্থা এবং কংগ্রেস সদস্যদের কার্যালয়গুলোতে যোগাযোগ করে, তবে তাতে খুব একটা লাভ হয় না।
তিনি বলেন, ‘কী ঘটছে তা জানতে চেয়ে অভিবাসন দপ্তরে যোগাযোগ করার জন্য আমাদের প্রায়ই চিঠি বা ড্রাফট তৈরি করতে হয়। সিদ্ধান্তটি দ্রুত নেওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে বাড়তি কিছু যোগ করার বা সাহায্য করার সুযোগ আছে কিনা, তা আমরা জানতে চাই। কিন্তু সাধারণত এই অনুসন্ধানগুলোর কোনো উত্তর মেলে না।’
তিনি জানান, তার সম্প্রতি অনুমোদিত একটি গ্রিন কার্ডের আবেদন মূলত ২০২৪ সালের মার্চ মাসে জমা দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, তার আরেক মক্কেলের গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকার গত বছরের জানুয়ারি মাসে সম্পন্ন হলেও, একাধিকবার খোঁজখবর নেওয়া এবং কংগ্রেসের সাহায্য পাওয়ার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তিনি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
কাউন্সিলের উপাত্ত অনুযায়ী, দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম তিন প্রান্তিকে (কোয়ার্টার) নতুন আবেদন বৃদ্ধি এবং নিষ্পত্তির হার কমে যাওয়ার কারণে ২০২৫ সালে ব্যাকলগে আরও ২০ লাখ মামলা যুক্ত হয়েছে। সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদা বা টিপিএস-এর ক্ষেত্রে ঝুলে থাকা আবেদনের সংখ্যা প্রায় ১৫০% লাফিয়ে ৪,৬৫,১১৮টি থেকে প্রায় ১২ লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে, গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের কাজের অনুমতির অপেক্ষমাণ অনুরোধের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
আবেদন নাকচের হারও ঊর্ধ্বমুখী। ২০১৬ সালে ইউএসসিআইএস-এর সামগ্রিক আবেদন নাকচের হার যেখানে ছিল ৮.৬%, ২০২৫ সালের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.১%।
মেট্রোপলিটন স্টেট ইউনিভার্সিটি ডেনভারের ‘চিকানো স্টাডিজ’-এর খ-কালীন অধ্যাপক জাজমিন চাভেজ বলেন, এই বিলম্বগুলো এমনি এমনি ঘটছে না। এর ফলে যারা আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলছেন, তারাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
চাভেজ বলেন, ‘এটি কোনো দুর্ঘটনা নয় যে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর মানুষ এখন তাদের আইনি মর্যাদা হারাতে বসেছে। এর ফলে তাদের দেশত্যাগ করানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা মূলত যেকোনো উপায়ে নির্বাসনের নির্ধারিত কোটা বা লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার পথকেই প্রশস্ত করে।’
চাভেজ এই সংকটের জন্য বিগত প্রশাসনগুলোর বছরের পর বছর ধরে চলে আসা অপর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং নীতিগত সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন, যা কোভিড-১৯ মহামারি এবং বর্তমান বাজেট ও কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে আরও ঘনীভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই ব্যবস্থাটি ঐতিহাসিকভাবেই ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু সাধারণ অভিবাসী, পরিবার বা সম্প্রদায়ের মানুষ যারা এই প্রক্রিয়াগুলোর জন্য আবেদন করছেন, তাদের জন্য কার্যকর হতে পারে, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পেছনে কোনো বিনিয়োগই করা হয়নি।’
কাউন্সিলের উপাত্ত ইঙ্গিত করে, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে ইউএসসিআইএস-এর ব্যয় মূলত আবেদন নিষ্পত্তির অবকাঠামো উন্নয়নের চেয়ে অপরাধ দমন ও আইন প্রয়োগের পেছনে বেশি ব্যয় করা হয়েছে। ফলে, ঝুলে থাকা বিশাল পরিমাণের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংস্থাটিতে এখনও চরম কর্মী সংকট রয়ে গেছে।

















