ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। আর এই গ্রীষ্মে যে ১৬টি শহরে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেগুলোর মতোই নিউইয়র্কেও এখন প্রধান চিন্তার বিষয় হলো নিরাপত্তা।
হোয়াইট হাউস এই টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য যে কয়েকটি সংস্থাকে একসাথে যুক্ত করেছে, এফবিআই তার মধ্যে অন্যতম। অমিত কাচ্ছিয়া-প্যাটেল হলেন এফবিআই-এর নিউইয়র্ক কার্যালয়ের ‘মিশন সার্ভিসেস ডিভিশন’-এর দায়িত্বে থাকা বিশেষ কর্মকর্তা (স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ)।
তিনি সংবাদমাধ্যম এনওয়াই১-কে বলেন, ‘হুমকি যেভাবে বা যে রূপেই আসুক না কেন, তা মোকাবিলা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই কার্যালয়ের ভেতরেই আমাদের একটি কাউন্টার-টেররিজম (সন্ত্রাসবাদবিরোধী) বিভাগ এবং একটি সাইবার বিভাগ রয়েছে। আমরা আমাদের নিজস্ব তদন্তের মাধ্যমে সম্ভাব্য সব ধরনের হুমকির ওপর নজর রাখছি।’
তিনি রাজ্য ও স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার ৪০০-এরও বেশি কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
কাচ্ছিয়া-প্যাটেল বলেন, “আমরা যেকোনো ইভেন্টের আকার এবং পরিধির ওপর ভিত্তি করে সেটির ‘সিয়ার’ রেটিং অর্থাৎ হুমকির মাত্রা নির্ধারণ করি। সেই অনুযায়ী এটি একটি ‘সিয়ার ১’ পর্যায়ের ইভেন্ট হতে যাচ্ছে। এর মানে হলো, এই ইভেন্টের জন্য আমাদের একটি যৌথ অপারেশন সেন্টার ২৪ ঘণ্টা এবং সপ্তাহের ৭ দিনই সক্রিয় থাকবে।”
এই যৌথ অপারেশন সেন্টার বা ‘জেওসি-তে এনসিআইএস, এফএএ, ডিওডি এবং আরও বেশ কিছু সংস্থার সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। কাচ্ছিয়া-প্যাটেলের তথ্য অনুযায়ী, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব জায়গায় রিয়েল-টাইমে (সরাসরি) ম্যাচগুলোর ওপর নজর রাখবেন।
তিনি বলেন, ‘উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বিভিন্ন ফ্যান সাইট বা দর্শকদের জমায়েতের জায়গার ফুটেজ আমরা সরাসরি দেখতে পাব। সেখানে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক কর্মকা- ঘটছে কিনা তা যাচাই করতে এবং যেকোনো সম্ভাব্য হুমকির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।’
এই গ্রীষ্মে বিশ্বকাপের পাশাপাশি আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতাবার্ষিকী এবং ‘সেইল ২৫০’ উৎসবও উদযাপিত হবে। এই উৎসবের অংশ হিসেবে ২০টিরও বেশি দেশ থেকে ৬০টি বিশাল পালতোলা জাহাজ ছয় দিনের জন্য নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সি বন্দরে এসে পৌঁছাবে।
কাচ্ছিয়া-প্যাটেল বলেন, ‘সেইল ২৫০’ আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমীকরণটি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। মানুষ সাধারণত ড্রোন ব্যবহার করে উপর থেকে খুব সুন্দর দৃশ্য ধারণ করতে পছন্দ করে... তবে বড় কোনো জনসমাবেশের ওপর যদি ড্রোন উড়তে দেখা যায়, আমরা সাথে সাথেই সেই ড্রোনটি অকেজো বা নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা করব। সেই সাথে ড্রোনটি কে ওড়াচ্ছে এবং এটি জনসাধারণের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করছে কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি জানান, ব্যুরো (এফবিআই) তাদের বছরের পর বছর ধরে অর্জিত অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রাখছে এবং অতীতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মতো বড় বড় আয়োজন থেকে শেখা সেরা কৌশলগুলো এই ক্ষেত্রে কাজে লাগাচ্ছে।

















