শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

আকাশচুম্বী স্কুল ব্যয়

মামদানিকে ধুয়ে  দিলেন বেজোস

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:০৪, ২২ মে ২০২৬

মামদানিকে ধুয়ে  দিলেন বেজোস

ছবি: সংগৃহীত

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস নিউইয়র্ক সিটির আকাশচুম্বী স্কুল ব্যয়ের বিষয়ে মেয়র জোহরান মামদানিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেছেন, তার এই বিশাল খুচরা ব্যবসা (অ্যামাজন) যদি সিটির পাবলিক স্কুল ব্যবস্থার মতো চালানো হতো, তবে নিউইয়র্কবাসীদের তাদের পার্সেল পাওয়ার জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো।

গত বুধবার এই ধনকুবের সিটির অব্যবস্থাপনায় ভরা শিক্ষা ব্যবস্থায় রেকর্ড ৪,৩০০ কোটি (৪৩ বিলিয়ন) ডলার ঢালার জন্য গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক (ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট) মেয়রের তীব্র সমালোচনা করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরীক্ষার হতাশাজনক ফলাফল এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও নিউইয়র্ক সিটি প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে অবিশ্বাস্যভাবে ৪৪,০০০ ডলার খরচ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় নগরীর তুলনায় প্রায় ৩০% বেশি।
বেজোস দাবি করেন, তার বিলিয়ন ডলারের ট্যাক্স দ্বিগুণ করলেও তা কুইন্সের একজন শিক্ষকের কোনো উপকারে আসবে না, যার জবাবে মামদানি পাল্টা খোঁচা দিয়ে বলেন, তিনি এমন কিছু শিক্ষককে চেনেন, যারা ‘এই বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন।’
সিএনবিসির স্কোয়াঙ্ক বক্স অনুষ্ঠানে অ্যান্ড্রু রস সর্কিনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে অ্যামাজন প্রধান বলেন, ‘নিউইয়র্ক সিটি যেভাবে তাদের স্কুল ব্যবস্থা চালায়, আমরা যদি সেভাবে অ্যামাজন চালাতাম, তবে আপনার প্যাকেজটি পৌঁছাতে ছয় সপ্তাহ সময় লাগত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আপনার কাছ থেকে ১০০ ডলার ডেলিভারি ফি নিতে হতো। আর তারপর যখন প্যাকেজটি অবশেষে আপনার হাতে পৌঁছাত, দেখা যেত ভেতরে ভুল জিনিস পাঠানো হয়েছে।’
জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার আগে কোনো স্থায়ী চাকরি না করা এবং একজন অনভিজ্ঞ ‘নেপো বেবি’ (স্বজনপ্রীতির সুবিধাভোগী) হিসেবে প্রায়ই সমালোচিত হওয়া মামদানির প্রতি বেজোসের এই তীব্র তিরস্কারের ঘটনাটি এমন সময়ে এলো, যখন বেজোস পরিবার নিউইয়র্ক সিটির প্রাথমিক শৈশব শিক্ষার জন্য ১৫ কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিপরীতে, নিজে একজন কিশোরী মা এবং কিউবান অভিবাসী বাবার কাছে বড় হওয়া বেজোস যুক্তি দেন যে, সিটির কর্মকর্তারা স্কুলের পেছনে যে অতিরিক্ত অর্থ ঢালছেন, তা আসলে শিক্ষকদের পকেটে যাচ্ছে না, বরং তা গ্রাস করছে একটি ফুলেফেঁপে ওঠা আমলাতন্ত্র।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, এই টাকার একটি অংশও শিক্ষকেরা পাচ্ছেন না।’
তিনি বলেন, ‘আপনি যদি প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ৪৪,০০০ ডলার খরচ দেখান, তবে আপনার কী মনে হয়, এর কতটুকু অংশ চুইয়ে চুইয়ে শিক্ষকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে? খুব বেশি নয়।’
ফর্বসের মতে ২৬৯ বিলিয়ন ডলারের নেট ওয়ার্থের মালিক এবং একজন ‘স্বনির্ভর’ বিলিয়নেয়ার হিসেবে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট নিজের ট্যাক্সের পক্ষে সাফাই গান এবং ধনীদের ওপর কর আরোপের বিষয়ে মামদানির নীতি ও বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর প্রস্তাবিত করের তীব্র সমালোচনা করেন, যা ধনী ব্যবসায়ীদের ক্ষুব্ধ করেছে।
ব্লু অরিজিন-এর প্রতিষ্ঠাতা জোর দিয়ে বলেন, ৩৪ বছর বয়সী ব্যর্থ র‌্যাপার থেকে মেয়র বনে যাওয়া মামদানি যদি বেজোসের বর্তমান দেওয়া করের পরিমাণ আরও বিলিয়ন ডলার বাড়িয়েও দেন, তাও তা ‘কুইন্সের সেই শিক্ষকের’ কোনো উপকারে আসবে না।
মেয়র এই বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন এবং বুধবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর পাল্টা জবাব দেন।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ মামদানি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি কুইন্সের এমন কয়েকজন শিক্ষককে চিনি, যারা এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করবেন।’
বিশ্বের চতুর্থ ধনী ব্যক্তি বেজোস যুক্তি দেন, ধনীদের ওপর কর বাড়ানো বা কোনো সমস্যার ওপর কেবল টাকা ঢাললেই সেটির সমাধান হয় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর জন্য এমন দক্ষতার প্রয়োজন যা মেয়রের নেই।
আর্থিক এই বিশৃঙ্খলাকে ‘দুই অর্থনীতির গল্প’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে যা ঘটছে তা হলো, রাজনীতিকরা সেই পুরোনো কৌশলগুলোই ব্যবহার করছেন... জানেন তো, একজনকে খলনায়ক বানানো এবং অপরের দিকে আঙুল তোলা।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু সমস্যা হলো, এতে কোনো সমাধান আসে না। তাই আপনি যদি সত্যিই সংগ্রাম করতে থাকা একদল মানুষকে সাহায্য করতে চান, তবে আপনাকে সমস্যার আসল মূল কারণ এবং তার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। আর সেটির জন্য দক্ষতার প্রয়োজন।’
বেজোস জানান, অ্যামাজনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে কর্মীরা ‘পাঁচটি কেন’ পদ্ধতি ব্যবহার করে মূল কারণে পৌঁছানোর এবং একটি স্থায়ী সমাধান বের করার চেষ্টা করেন।
মামদানি যখন আরেক বিলিয়নেয়ার এবং সিটাডেল-এর সিইও কেন গ্রিফিনকে নিশানা করেছিলেন, সে প্রসঙ্গে টেনে বেজোস বলেন, ‘যে কাজটি আমরা করি না, কারণ এটি কোনো কাজে আসে না, তা হলো কেবল অন্যের দিকে আঙুল তোলা এবং দোষারোপ করা।’
তিনি পরিশেষে বলেন, ‘এটি হয়তো ১০ সেকেন্ডের জন্য আত্মতৃপ্তি দিতে পারে, কিন্তু এতে কোনো কিছু অর্জন করা যায় না।’
 

শেয়ার করুন: