ছবি: সংগৃহীত
গ্রীষ্মকাল বা সামারে সম্ভাব্য অপরাধ ও সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা মাথায় রেখে তা প্রতিরোধ করতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এই মৌসুমে গভীর রাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত টহল দেওয়ার জন্য ২,৬০০ জন পুলিশ অফিসারকে পায়ে হেঁটে দায়িত্ব পালনের (ফুট প্যাট্রোল) নির্দেশ দিচ্ছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ‘আমরা চাই আরও বেশি অফিসার পায়ে হেঁটে বিভিন্ন এলাকায় টহল দিন; একই সাথে আমরা তরুণদের পেছনে এবং তাদের কল্যাণে আমাদের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে চাই।’
এছাড়া ব্রঙ্কস বরোকে এনওয়াইপিডি দুটি আলাদা কমান্ড পোস্টে বিভক্ত করায় সেখানে আরও ২০০ জন অতিরিক্ত পুলিশ অফিসার মোতায়েন করা হবে।
ব্রঙ্কসে গত বছরের তুলনায় এই বছর প্রধান প্রধান ফৌজদারি অপরাধের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ, মেয়র মামদানি এবং গভর্নর ক্যাথি হোকুল সাউথ ব্রঙ্কসে একত্রিত হয়েছিলেন।
গভর্নর হোকুল বলেন, ‘অপরাধের সবচেয়ে বড় পতনটি ঘটেছে একটি নির্দিষ্ট বরোতে, আর সেটি হলো এই ব্রঙ্কস বরো, ঠিক এই জায়গাটিতেই।’
মেয়রের মামদানি বলেন, ‘এই বছর গাড়ি চুরি কমেছে, গোলাগুলির ঘটনা কমেছে এবং হত্যাকা-ের সংখ্যাও কমেছে।’
অথচ, এ সংবাদ সম্মেলনটি যেখানে হচ্ছিল, তার ঠিক উল্টা দিকের রাস্তায় ‘ক্রাইম স্টপার্স’-এর একটি পোস্টার ঝুলছিল। সেখানে ৭৮ বছর বয়সী এডগার স্পেন্সের হত্যাকারীকে খুঁজে দেওয়ার জন্য ৩,৫০০ ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া ছিল। এনওয়াইপিডি-র তথ্য অনুযায়ী, স্পেন্স নামের ওই বৃদ্ধকে তার হুইলচেয়ারে থাকা অবস্থায় কাছের একটি সরকারি আবাসন প্রকল্পের বাইরে পেটে গুলি করা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা টনি রুলান বলেন, ‘আমি এতে অবাক হইনি, কারণ ওই এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি একদম কাছে থাকা সত্ত্বেও সেখানে এমন অনেক ঘটনাই অনবরত ঘটছে।’
রুলান ব্রঙ্কসের ‘ম্যুর হাউসেস’-এর একজন বাসিন্দা এবং সেখানকার ভাড়াটিয়া সংগঠনের একজন কর্মকর্তা। সংবাদ সম্মেলনটি দেখার পর তিনি সংবাদমাধ্যম এনওয়াই১-এর সাথে কথা বলছিলেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘অপরাধের সংখ্যা যদি কমেই থাকে, তবে কেন একের পর এক এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে? এই সংখ্যা কমে যাওয়ার মাঝে আমি কোনো বাস্তব অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না।’
গভর্নর হোকুলের জন্য অপরাধের এই পতনকে সামনে আনা মূলত একটি নির্বাচনী বছরের কৌশল। যদিও মহামারি-পূর্ববর্তী ২০১৯ সালের তুলনায়, অর্থাৎ মহামারিকালীন অপরাধের উল্লম্ফন এবং প্রগতিশীল ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সংস্কার শুরু হওয়ার আগের চেয়ে, প্রধান প্রধান অপরাধের হার এখনও বেশ বেশি। অবশ্য এই বিচার ব্যবস্থার সংস্কার প্রক্রিয়ায় বদল আনার কৃতিত্ব গভর্নর হোকুল নিজেই নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার অপরাধ করা ব্যক্তি, আমাদের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত আইন এবং জামিন আইনের ওপর বিশেষ নজর দিয়েছিলাম।’
এই বছরের ১৭ মে পর্যন্ত ব্রঙ্কসে প্রধান ফৌজদারি অপরাধের সংখ্যা ১,২২৬টিরও বেশি কমেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১১% কম। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, পুরো বরোজুড়ে গোলাগুলির ঘটনাও প্রায় ১১% কমেছে।
এত কিছুর পরও ব্রঙ্কসে কিন্তু বন্দুকের সহিংসতা লেগেই আছে : সম্প্রতি একটি বুলেট এক ৫ বছর বয়সী শিশুর কান ঘেঁষে চলে যাওয়ায় সে আহত হয়। এনওয়াইপিডি-র তথ্যমতে, এই ঘটনায় এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কমিশনার জেসিকা টিশ এনওয়াইপিডি-র যুব সহিংসতাবিরোধী কৌশলের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘একটি বিষয় আমরা এই বছর শুরু করেছি, যা তরুণদের সাথে সম্পর্কিত বন্দুক সহিংসতা এবং অন্যান্য ধরণের অপরাধের গ্রাফ নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করেছে, তা হলো আমাদের ‘স্কুল করিডোর’ (স্কুল এলাকার নিরাপত্তা বলয়) ব্যবস্থা।

















