ছবি: সংগৃহীত
‘গভর্নরস ট্রাফিক সেফটি কমিটি’ ঘোষণা করেছে যে, ১৮ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত চলতে থাকা বার্ষিক ‘বাকল আপ নিউইয়র্ক, ক্লিক ইট অর টিকিট’ সিট বেল্ট-সংক্রান্ত বিশেষ অভিযানে পুরো অঙ্গরাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেবে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো চালক এবং যাত্রী উভয়কেই মনে করিয়ে দেওয়া যে, সিট বেল্ট জীবন বাঁচায় এবং এটি একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।
এই অভিযানের আওতায় নজরদারি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে। যেসব যাত্রী বা চালক সিট বেল্ট বাঁধেননি কিংবা ভুলভাবে বেঁধেছেন, তাদের চিহ্নিত করতে রাস্তায় পুলিশের তৎপরতা সরাসরি দৃশ্যমান থাকবে। এর পাশাপাশি গাড়িতে শিশুরা সঠিকভাবে সুরক্ষিত (চাইল্ড সিট বা বেল্টের মাধ্যমে) আছে কিনা, সেদিকেও কর্মকর্তারা কড়া নজর রাখবেন।
নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলস-এর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ক্রিশ্চিয়ান জ্যাকস্ট্যাড বলেন, ‘একটি সিট বেল্ট বাঁধতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে, কিন্তু তা না করার খেসারত হিসেবে সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করতে হতে পারে, এমনকি জীবন প্রদীপও নিভে যেতে পারে। এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া যে, খুব কম দূরত্বের পথ হলেও প্রতিবার গাড়িতে ওঠার পর সিট বেল্ট বাঁধুন। এবং আপনার সহযাত্রী, বিশেষ করে শিশুরা যেন সঠিকভাবে সুরক্ষিত থাকে তা সবসময় নিশ্চিত করুন। বছরের এই সময়টিতে সিট বেল্ট পরার বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখন তরুণরা তাদের প্রম বা গ্র্যাজুয়েশন উদযাপনে অংশ নেয়। তাই আমরা চাই আমাদের তরুণ চালকেরা শুরুতেই সিট বেল্ট ব্যবহারের গুরুত্ব অনুধাবন করুক এবং এটিকে একটি আজীবন অভ্যাসে পরিণত করুক।’
নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট স্টিভেন জি জেমস বলেন, ‘অনেক বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিট বেল্ট এবং চাইল্ড সিটের ব্যবহার বাড়াতে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। যদিও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অনেক চালকই স্টিয়ারিং হাতে সুরক্ষার নিয়মগুলো মেনে চলেন, তবুও এখনও এমন অনেকেই আছেন যারা তা করেন না। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার এবং আরও জীবন হারিয়ে যাওয়ার আগেই সিট বেল্ট ও কার সিটের নিয়ম মানার বিষয়টি নিশ্চিত করাই আমাদের এই অভিযানের লক্ষ্য। আর আমরা যখন নিশ্চিত করার কথা বলছি, তার মানে হলো শিক্ষা, গণমাধ্যম এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে তা করা হবে। নিউইয়র্কজুড়ে সিট বেল্টের ব্যবহার যেন সর্বজনীন হয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলস-এর সাথে আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’
নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসোসিয়েশন অফ চিফস অফ পুলিশও অত্যন্ত গর্বের সাথে গভর্নরস ট্রাফিক সেফটি কমিটির এই ‘বাকল আপ নিউইয়র্ক/ক্লিক ইট অর টিকিট’ ট্রাফিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ উদ্যোগকে সমর্থন জানাচ্ছে।
সংস্থাটির সভাপতি চিফ পল অলিভা বলেন, দুর্ঘটনায় আঘাত বা মৃত্যু রোধ করার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো সিট বেল্ট ব্যবহার করা। এই উদ্যোগকে সমর্থন করার মাধ্যমে আমরা প্রতিটি অঞ্চলের সব বয়সী নিউইয়র্কবাসীর জীবন রক্ষায় সাহায্য করছি।
যদিও নিউইয়র্ক সামনের সিটের যাত্রীদের সিট বেল্ট বাঁধার ক্ষেত্রে ৯২ শতাংশের একটি চমৎকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে, তবুও সুরক্ষার ক্ষেত্রে কিছু মারাত্মক ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে।
ইনস্টিটিউট ফর ট্রাফিক সেফটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ-এর ২০২৪ সালের উপাত্ত থেকে জানা যায়, মোট প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার ৩৫ শতাংশেরই শিকার হয়েছেন এমন ব্যক্তিরা, যারা সিট বেল্ট বা কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেননি।
যদিও এই প্রবণতাটি উদ্বেগজনক, তবুও এটি ২০২৩ সালের তুলনায় ৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ৩৮ শতাংশেরই শিকার হয়েছিলেন সুরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়া ব্যক্তিরা।
পেছনের সিটের যাত্রীদের মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক (৪৬ শতাংশ) ঘটনাই ঘটেছে তখন, যখন তারা সিট বেল্ট বাঁধেননি। এটি বিশেষ করে পেছনের সিটগুলোতে বেল্টের ব্যবহার বাড়ানোর জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে ফুটিয়ে তোলে।
২০২০ সালের নভেম্বর থেকে আইন অনুযায়ী গাড়ির সকল যাত্রীর জন্যই সিট বেল্ট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর প্রাথমিক ফলাফল বেশ ইতিবাচক; পেছনের সিটে বেল্ট ব্যবহারের হার ৮৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
সুরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়া যাত্রীরা বিশেষ করে রাতের বেলা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। ২০২১-২০২৪ সালের আইটিএসএমআর উপাত্ত একটি বড় ব্যবধান স্পষ্ট করে তুলেছে : দিনের বেলার তুলনায় রাতের বেলা সিট বেল্ট না থাকা যাত্রীদের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে, মদ্যপান ও অতিরিক্ত গতির কারণে যেসব দুর্ঘটনা ঘটে (যা সাধারণত রাতেই বেশি হয়), সেগুলোর শিকার হওয়া ব্যক্তিদের একটি বিশাল অংশই সিট বেল্ট ছাড়া ছিলেন।

















