ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের মুখে অভিবাসীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় অভিবাসন আদালতে তাদের অধিকারের দাবি ছেড়ে দিচ্ছেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ’ করার পথ বেছে নিচ্ছেন। ফেডারেল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
‘ভেরা ইনস্টিটিউট অফ জাস্টিস’-এর এই প্রতিবেদনটি দেখায় যে, বহিষ্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের ‘স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ’-এর সিদ্ধান্তের হার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে যারা ফেডারেল ডিটেইনি বা আটক অবস্থায় আছেন তাদের মধ্যে।
প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক জ্যাকলিন প্যাভিলন বলেন, ‘এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই ঘটছে। আমেরিকার তিন-চতুর্থাংশ অঙ্গরাজ্য এবং অঞ্চলগুলোতে বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদের শেষের তুলনায় স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সিদ্ধান্তের সংখ্যা পাঁচ গুণেরও বেশি বেড়েছে।’
অভিবাসন আদালতে ‘স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ’, যেখানে একজন বিচারক দেশ ছেড়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ মঞ্জুর করেন (যদি আবেদনকারীর আইনত চলে যাওয়ার অনুমতি থাকে), তা ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর মাধ্যমে আয়োজিত ‘সেলফ-ডিপোর্টেশন’ বা নিজস্ব উদ্যোগে প্রত্যাবর্তনের চেয়ে আলাদা। সেলফ-ডিপোর্টেশনের ক্ষেত্রে অভিবাসীরা আটক হওয়া বা বহিষ্কারাদেশ এড়াতে নিজেরাই ডিএইচএস-কে জানায় যে তারা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনের সহ-লেখক এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সংখ্যা বাড়ার অর্থ এই নয় যে মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যেতে চায়।
প্যাভিলন বলেন, ‘এই লোকেদের অনেকেরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি পথ থাকতে পারে। স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সিদ্ধান্তের মানে এই নয় যে আপনার থাকার কোনো আইনি অধিকার নেই। মানুষ মূলত খুবই কঠোর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে এই কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নিতে বাধ্য হচ্ছে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসনের শেষের দিকে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সংখ্যা মাসে গড়ে ৮০০-এর মতো ছিল, যা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বেড়ে ৮,৮০০ ছাড়িয়ে গেছে।
প্যাভিলন এবিসি নিউজকে বলেন, স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের এই বৃদ্ধি বহিষ্কারাদেশের পরিবর্তে ঘটছে না; বরং এটি বহিষ্কারাদেশের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এর ফলে সামগ্রিক চিত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাওয়া মানুষের সংখ্যা বা ‘পাইয়ের অংশ’ ক্রমাগত ছোট হয়ে আসছে।
ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক মুখপাত্রের কাছে এই বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও এবিসি নিউজ তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পায়নি।
সংস্থাটি অভিবাসন আদালত পরিচালনাকারী ফেডারেল সংস্থা ‘এক্সিকিউটিভ অফিস ফর ইমিগ্রেশন রিভিউ’ থেকে তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় এই তথ্য সংগ্রহ করেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নবনিযুক্ত অভিবাসন বিচারকরা অভিজ্ঞ বিচারকদের তুলনায় অনেক বেশি হারে ‘স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ’ মঞ্জুর করছেন, যদিও তারা একই হারে বহিষ্কারাদেশও দিয়ে যাচ্ছেন।
এই নতুন বিচারকদের অধীনে প্রাথমিকভাবে আটক অবস্থায় থাকা মামলাগুলোর ৯৩ শতাংশেরই ফলাফল এমন এসেছে যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয়েছে।
প্যাভিলন এবিসি নিউজকে আরও বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে অভিবাসন বিচারকরা ওই ব্যক্তিদের দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করার সম্ভাবনা কম রাখেন, যাদের আইনি পরামর্শদাতা বা আইনজীবী আছে। আমাদের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আটক থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের নিযুক্ত বিচারকরা ডেমোক্র্যাটদের নিযুক্ত বিচারকদের তুলনায় অনেক বেশি হারে দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করছেন।’

















