শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

১ ট্রিলিয়ন ডলারের করদাতার অর্থ রক্ষায় বিশেষ অভিযান

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩:৩৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬

১ ট্রিলিয়ন ডলারের করদাতার অর্থ রক্ষায় বিশেষ অভিযান

ছবি: সংগৃহীত

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ মঙ্গলবার প্রকাশ করেছেন, বিচার বিভাগ বর্তমানে করদাতার অর্থায়নে পরিচালিত ফেডারেল প্রোগ্রামগুলো থেকে অর্থ আত্মসাতের হাজার হাজার মামলা তদন্ত করছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলারেরও বেশি অর্থ এই ধরণের জালিয়াতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ব্ল্যাঞ্চ সাম্প্রতিক কিছু সফল বিচার প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা এবং কোভিড-সংক্রান্ত প্রায় অর্ধ-বিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে বিচার বিভাগ ৮,০০০-এরও বেশি জালিয়াতির মামলা পরিচালনা করছে।
কিছু উল্লেখযোগ্য মামলা
দক্ষিণ ফ্লোরিডার একটি বীমা ব্রোকারেজ সংস্থা ‘অ্যাফোর্ডবল কেয়ার অ্যাক্ট’ এনরোলমেন্ট স্কিমে ১৬০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার এক ব্যক্তি দামি ওষুধের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার মেডিকেড প্রোগ্রামের মাধ্যমে ২৭০ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া দাবি জমা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ঘোষণা করেছেন, এই হাজার হাজার মামলা পরিচালনার জন্য বিচার বিভাগ একটি ‘ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন’ (জাতীয় জালিয়াতি দমন বিভাগ) গঠন করেছে। এছাড়া প্রসিকিউটররা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের টাস্ক ফোর্সের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন।
ব্ল্যাঞ্চ সতর্ক করে বলেন, ‘এই প্রশাসনের নেতৃত্বের কারণে জালিয়াতিচক্র, স্ক্যামার, কর ফাঁকিবাজ বা যারা আমেরিকান জনগণের উদারতার সুযোগ নিয়ে মিথ্যা বলে ধনী হতে চায়, তাদের জেনে রাখা উচিত যে তারা আমাদের নজরে আছে।’
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্যাম বন্ডিকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ব্ল্যাঞ্চকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সিনেটে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আগামী ২১০ দিন এই দায়িত্ব পালন করবেন। প্যাম বন্ডিকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের (যেমন নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস এবং সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি) বিরুদ্ধে মামলা করতে ব্যর্থ হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও ব্ল্যাঞ্চ তা অস্বীকার করেছেন। তবে সূত্রমতে, মৃত যৌন পাচারকারী জেফরি এপস্টাইন-সংক্রান্ত তদন্তে বিচার বিভাগের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও হোয়াইট হাউসের সাথে বন্ডির টানাপোড়েনের কারণ ছিল।
রাজ্যগুলোর ওপর চাপ
ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ডেমোক্র্যাট-শাসিত রাজ্যগুলোতে করদাতার অর্থ নিয়ে চলা জালিয়াতি তদন্ত করছে। এর অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে জেডি ভ্যান্স এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেড সেন্টারের প্রশাসক ড. মেহমেত ওজ মিনেসোটা রাজ্য থেকে ২৫৯.৫ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল ফান্ড প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া এবং নিউ ইয়র্ককেও একইভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমাদের সরকারের দীর্ঘদিনের অনেক জালিয়াতি-বিরোধী সুরক্ষা ব্যবস্থা বিডেন প্রশাসনের সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এটি কেবল আমেরিকানদের অর্থ চুরি নয়, বরং তাদের নির্ভরশীল অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাগুলোও চুরি করা।’
মিনেসোটার পরিস্থিতি
ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ গত জানুয়ারিতে তার পুনর্র্নিবাচনী প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়ান। ডেমোক্র্যাটিক এই গভর্নর বলেন, ‘জনগণের আস্থা অর্জন করতে না পারলে আমরা কার্যকরভাবে পরিষেবা দিতে পারব না। আমরা জালিয়াতিচক্রের বিরুদ্ধে জয়ী হব, কিন্তু রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক খেলা এই লড়াইকে আরো কঠিন করে তুলছে।’
 

শেয়ার করুন: