শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

সেই মেয়ে এখন  ৩ সন্তানের  জননী 

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:১২, ১০ এপ্রিল ২০২৬

সেই মেয়ে এখন  ৩ সন্তানের  জননী 

ছবি: সংগৃহীত

১৩ বছর বয়সে অ্যারিজোনা থেকে নিখোঁজ হওয়া এক কিশোরী, যাকে দীর্ঘকাল ধরে অপহরণ করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তাকে জীবিত খুঁজে পাওয়া গেছে। একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৪৫ বছর বয়সী সেই নারী এখন তিন সন্তানের জননী এবং একটি বেসরকারি তদন্ত সংস্থায় কর্মরত।

ডেইলি মেইল-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ক্রিস্টিনা ‘টিনা’ মারি প্লান্তে বর্তমানে মিসৌরির স্প্রিংফিল্ডে বসবাস করছেন, যেখান থেকে ১৯৯৪ সালে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন, সেখান থেকে বর্তমান বাসস্থানের দূরত্ব ১,১০০ মাইলেরও বেশি। কিশোরী বয়সে বাড়ি ছাড়ার পর সেখানে তিনি সম্পূর্ণ নতুন এক জীবন গড়ে তোলেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্লান্তে কিশোরী বয়সেই বিয়ে করেন, তিন ছেলেকে বড় করে তোলেন এবং পরে মিসৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে মনোবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি স্প্রিংফিল্ডের একটি প্রতিষ্ঠানে বীমা জালিয়াতি তদন্তের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি তার স্বামী শন হলনের সাথে একটি পাঁচ বেডরুমের বাড়িতে থাকেন; শন একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজার এবং তাদের দাম্পত্য জীবনের বয়স প্রায় তিন দশক।
গিলা কাউন্টি শেরিফ অফিসের চিফ ডেপুটি জিম লাহতি ডেইলি মেইল-কে জানান, প্লান্তে বাড়ি ছাড়ার সময় কার সাথে ছিলেন বা কীভাবে শহর থেকে বেরিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে তিনি নিজেই পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেই সময় পরিবারের অন্য এক সদস্যের সাথে তার যোগাযোগ ছিল।
প্লান্তেকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৯৪ সালের ১৫ মে দুপুরে। স্টার ভ্যালিতে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি কাছের একটি ঘোড়ার আস্তাবলে যাচ্ছেন। এরপর আর ফিরে না আসায় বিষয়টিকে ‘সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে নিখোঁজ এবং বিপন্ন’ হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়েছিল।
তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দীর্ঘ বছর ধরে ব্যাপক তল্লাশি ও তদন্ত চালানো হয়। শুরুতে আশঙ্কা করা হয়েছিল তাকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে সেই আশঙ্কার কোনো প্রমাণ কখনো মেলেনি এবং এক সময় তদন্তটি স্থবির হয়ে পড়ে।
কয়েক দশক পর, একটি ‘কোল্ড কেস’ টিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পাবলিক রেকর্ডসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুনরায় তদন্ত শুরু করে এবং অবশেষে প্লান্তেকে শনাক্ত করে তিনি জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
তদন্তকারী ক্যাপ্টেন জেমি গ্যারেট নিউজ নেশন-কে বলেন, ‘আমি ধারণা করছি, তিনি যেখানে এবং যাদের সাথে থাকতেন, সেখানে সুখী ছিলেন না; তাই তিনি পালিয়ে যান।’
গ্যারেট আরো যোগ করেন, ‘আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি তাকে বলেছিলাম, আমরা তো ভেবেছিলাম কেউ আপনাকে অপহরণ করেছে! এটিকে একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ মামলাটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সমাধান করা হয়েছে। তিনি কিভাবে পালিয়েছিলেন সে বিষয়ে অনেক তথ্য এখনো অস্পষ্ট থাকলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্লান্তে এরপর একটি স্থিতিশীল জীবন গড়ে তুলেছেন এবং তার অতীতের বেশিরভাগ বিষয় গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
 

শেয়ার করুন: