ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কবাসীদের হতাশ করেছেন জোহরান মামদানি। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিনের মধ্যেই তার জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। বুধবার প্রকাশিত একটি জরিপ অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রথম ১০০ দিনের কর্মক্ষমতায় সন্তুষ্ট মাত্র অর্ধেক বাসিন্দা।
মেরিস্ট কলেজের নতুন এই জরিপে দেখা গেছে, মামদানির জনসমর্থন বা ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং’ মাত্র ৪৮%, যা তার পূর্বসূরি মেয়র এরিক অ্যাডামসের একই সময়ের রেটিংয়ের চেয়েও কম।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ‘বিগ অ্যাপল’ (নিউইয়র্ক সিটি)-এর বাসিন্দাদের মধ্যে মাত্র ৩০% জানিয়েছেন, এই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালাইস্ট মেয়রের তিন মাসের কাজে তারা সন্তুষ্ট। বাকিরা এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
মেরিস্ট পোলিং ডিরেক্টর লি মিরিংঅফ জানান, এই জরিপে মামদানির দুটি প্রধান দুর্বলতা ধরা পড়েছে, প্রথমত, অনেক ভোটার এখনো তাকে নিয়ে অনিশ্চিত, এবং দ্বিতীয়ত, ইহুদি ভোটারদের মধ্যে তার অজনপ্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে। মিরিংঅফ মিডিয়াকে বলেন, ‘অনেকেই এখনো দোদুল্যমান অবস্থায় আছেন। চূড়ান্ত রায় দেওয়ার সময় এখনো আসেনি।’
ইসরাইলবিরোধী অবস্থানের কারণে অনেক ইহুদি ভোটারের সাথে মামদানির সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত। তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাঙ্কশনস’ (বিডিএস) আন্দোলনকে সমর্থন করেন, গাজায় ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছেন এবং হাসান পিকারের মতো বামপন্থী কর্মীদের সাথে যুক্ত, যাদের অনেকে ইহুদি-বিদ্বেষী বলে মনে করেন।
মিরিংঅফ বলেন, ‘ইহুদি সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেতে মামদানিকে সময়ের অগ্নিপরীক্ষায় পাস করতে হবে। ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ইহুদিরাই মামদানিকে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে সবচেয়ে অনড়।’
২০২২ সালের মার্চ মাসে করা মেরিস্টের জরিপে দেখা গিয়েছিল এরিক অ্যাডামসের রেটিং ছিল ৬১%। সেই তুলনায় মামদানি বেশ পিছিয়ে আছেন। উল্লেখ্য, অ্যাডামসের সেই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পরে দুর্নীতি কেলেঙ্কারি এবং অভিবাসী সংকটের কারণে এতটাই ধসে পড়েছিল যে, গত বছর তিনি পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান।
তবে এই জরিপে মামদানির জন্য যেমন উদ্বেগের কারণ আছে, তেমনি কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। নিবন্ধিত ভোটারদের একটি বড় অংশ, ৫৫%, জানিয়েছেন যে মামদানির প্রতি তাদের ইতিবাচক ধারণা রয়েছে।
জরিপের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য তথ্য
৬০% মানুষ মনে করেন মেয়র তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন।
৫৬% মনে করেন শহরটি সঠিক পথে এগোচ্ছে।
৫২% বিশ্বাস করেন মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির পরিবর্তন আনছেন ভালোর জন্য।
৬১% তাকে একজন দক্ষ নেতা হিসেবে মনে করেন যিনি সাধারণ মানুষের সমস্যা বোঝেন এবং শহরকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।
প্রায় ৭৫% মানুষ বিশ্বাস করেন যে তিনি মেয়র হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করছেন।
বুধবার ব্রুকলিনে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই জরিপের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মামদানি বিষয়টি নিউ ইয়র্কবাসীদের ওপরই ছেড়ে দেন। তিনি বলেন, ‘নম্বর দেওয়ার কাজ আমি সবসময় নিউ ইয়র্কবাসীদের জন্যই তুলে রাখি। আমি শুধু এটাই বলব, আমাদের দায়িত্ব পালনের ১০০ দিন পূর্ণ হতে চলেছে এবং আমরা এই সময়ে নিউইয়র্কবাসীদের একটি আভাস দেওয়ার চেষ্টা করেছি যে আগামী চার বছর কেমন হতে যাচ্ছে।’
তিনি লক্ষ্য পূরণে উচ্চাকাক্সক্ষী হওয়ার এবং নিউ ইয়র্কবাসীদের গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার অঙ্গীকার করেন।

















