
ছবি - নবযুগ
নিউইয়র্কের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও অন্তত দুই ডজন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এবং বহু সামাজিক সংগঠনের শীর্ষ নেতা গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ নেওয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশ কমিউনিটি একটি ছোট্ট কমিউনিটি, ক্রমবর্ধমান এ কমিউনিটিতে সবাইকে যে কোনে ধরনের বিবেধ ভুলে এক সঙ্গে চলতে হবে। আর যদি এটা হয় তাহলে কমিউনিটি দ্রুত এগিয়ে যাবে। গত মঙ্গলবার উডসাইডের গুলশান টেরেসে আয়োজিত ‘সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন কুৎসার প্রতিবাদে কমিউনিটির স্বার্থে সংহতি’ সভায় বক্তব্যে এসব কথা বলেন শাহ নেওয়াজ।
তিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এক শ্রেণীর মানসিক অপরাধি সমাজের সজ্জন ব্যক্তি, তাদের পরিবার এমনকি তাদের শিশু সন্তানদের টার্গেট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুৎসা রটনা করে পরিবেশ বিষিয়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা উপস্থিত থেকে কুৎসাকারীদের তীব্র নিন্দা জানান।
বক্তব্যে শাহ নেওয়াজ বলেন, কমিউনিটির কল্যাণে সকল ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে এক হয়ে চলতে হবে। যদি আমার বা কারো নিজের বিরুদ্ধেও কোন অভিযোগ থাকে তা সরাসরি জানানো অথবা প্রয়োজনে কমিউনিটির মুরব্বিদের নিয়ে তা সমাধান করা সম্ভব। কমিউনিটি ও কমিউনিটির পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থে ঝগড়া-ফ্যাসাদ ও কুৎসা রটনার অপসংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘ব্যাক্তিগতভাবে আমি কারো বিরুদ্ধে কখনো ফেসবুকে কোন কিছু লিখি না। এটা আমি পছন্দও করি না। কিন্তু আমার পরিচিত কেউ কিছু লিখে থাকলে সেটা তাদের দায়। তাদের জন্য কেন আমাকেই দোষারোপ করা হবে। তাদের কেউ কেউ হয়তো আমার প্রতিষ্ঠানের চাকরি করেন। তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ আছে। কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত কোন পোস্টের জন্য আমাকে দায়ী করে আমি ও আমার পরিবারের নামে যে হারে কুৎসা ও বিষেদ্বাগার করা হচ্ছে তাতে আমি সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির স্বীকার হচ্ছি। যাদের সঙ্গে জীবনে কখনো আমার ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কোন দ্বন্ধ বা কোন ঝগড়া নেই, দীর্ঘদিনের ভাই-বন্ধুর মতোই সম্পর্ক, তেমন চার-পাঁচজন আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
শাহ নেওয়াজ বলেন, এমনকি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের রেহাই দিচ্ছে না। আমার সন্তান বলছে- বাবা তোমার বন্ধুরা এতো নোংরা ভাষায় কেন কথা বলে? আমি উত্তর দিতে পারি না। যারা আমার বিরুদ্ধে লিখছেন, তাদেরও পরিবার আছে স্ত্রী-সন্তান আছে। নোংরা ভাষা ব্যবহার করে নিজেদের স্ত্রী-সন্তানের কাছে মুখ দেখান কি করে? তাদের স্ত্রী-সন্তানের বিরুদ্ধে এমনকি কারোই স্ত্রী-সন্তান বা কারো বিরুদ্ধে কেউ কুৎসা রটানো হোক এটা আমি চাইনা।
তিনি বলেন, একটা টেবিল নিয়ে ব্যবসা শুরু করে ছোট অবস্থা থেকে আমি আজ এ অবস্থানে এসেছি। একদিনে বড়লোক হয়ে যাইনি। আমার জার্নি সবাই জানেন। তবুও আমার বিরুদ্ধে যদি কারো কোন অভিযোগ থাকে তবে আমাকে বলুন। আমি তা সমাধান করব। কিন্তু যে দোষ আমি করিনি তার জন্য আমাকে দোষী করা হচ্ছে। তবুও আমার কোন দোষ বা ভুল হলে সরাসরি কথা বলে তা সমাধান করার প্রতিশ্রুত দিচ্ছি। যদি না করি তাহলে কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা আছে তাদের নিয়ে বসে সমাধান হবে। চাইলেও আমিও অন্যের বিরুদ্ধে লিখতে পারি, কথা বলতে পারি। কিন্তু আমি চাই কমিউনিটির স্বার্থে ও পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থে এসব বন্ধ হোক।
শাহ নেওয়াজের সহধর্মীনি রানো আমেনা নেওয়াজ বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যমতো যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বা অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করি। বেকার অসহায় অনেককে চাকরি দিয়েছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে বেশ কয়েজন কর্মরত আছেন। তাদের নিয়েও আমাকে নোংরা ভাষায় কুৎসা রাটাচ্ছেন, পোস্ট দিচ্ছেন কেউ কেউ। তাদেরও তো স্ত্রী-সন্তান আছে। দয়া করে এসব করবেন না।
অনুষ্ঠানে জ্যাকব মিল্টন বলেন, গুজব বা কুৎসা রটানো এখনই বন্ধ হওয়া উচিত। কমিউনিটিতে এটা মহামারির মতো ছেয়ে গেছে। আমাকে নিয়েও রটানো হয়েছিল। কেউ প্রতিবাদ করেনি। এখনো কেউ করবেন না। বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম বলেন, যে কারো জন্য যতটুকু সম্মান দেখাবে, যতটুকু ঘৃণা দেখাবে, অসম্মান করবে, কুৎসা রটাবে তিনি তা ফেরত পাবেন। তাই সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ কারো বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো বা কুৎসা রটানোর চর্চা থেকে বিরত থাকতে হবে।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, গত দুই-তিন বছর যাবত গীবত ও কুৎসা অনেক বেড়েছে কমিউনিটিতে। এমনকি গত দুই-তিন মাসে তা এটো প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, সারাদিন চিন্তায় থাকি কখন কার বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখা হয়, কখন নিজের নামে লেখা হয়।
ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজহারুল হক মিলন বলেন, এমন কুৎসা রটানোর ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। ফেসবুকে যা লেখা হচ্ছে তা পড়তেও রুচিতে বাঁধে। যারা লিখছেন তাদের প্রতি বলছি এসব অসভ্যতা বন্ধ করুন। সোসাইটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান বলেন, কমিউনটির সভাই আমরা ভাই-ভাই। তাই আসুন কুৎসা রটানো ও একে অপরে বিরুদ্ধে বলা বন্ধ করে আমরা কমিউনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যাই। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি ও বাংলাদশে সোসাসইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, আহসান হাবীব, কাজী সাখাওয়াত হোসন আজম, আমেরিকান বাংলাদেশি লায়ন্স ক্লাবের সাবেক সভাপতি আহসান হাবীব, বর্তমান সেক্রেটারি মশিউর রহমান মজুমদার, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট শাহ শহীদুল হক, রিয়েলটর নূরুল আজিম, রিয়েলটর মোহাম্মদ আজহার, সন্ধীপ সোসাইটির সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট আব্দুস সোবহান, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক, শাহ জে চৌধুরী, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের বদরুল খান, আজিমুল ইসলাম খোকন, রোকন হাকিম, শাহীন ভূইয়া, নিরু নিরা, লিটন চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির নেতা জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, হাসান জিলানী, ড্রামের কাজী ফৌজিয়া প্রমুখ। সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ খান, পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, নবযুগ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন সাগর, এনটিভির নিউইয়র্ক প্রতিনিধি ফরিদ আলম, সাংবাদিক শাহেদ আলম, নিউইয়র্ক কাগজ সম্পাদক আফরোজা ইসলাম, সাপ্তাহিক ইনকিলাব সম্পাদক জাহেদ আলম, টাইম টিভির পরিচালক সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল হক প্রমুখ। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ইমাম কাজী কায়্যূম।