
ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট অ্যাজেন্সি (আইস) মাইগ্রেন্টদের দমনে মূল শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। রেকর্ড তহবিল এবং অভিযান চালানোর নতুন ব্যাপ্তির কারণে তাদের ক্ষমতা অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু তা করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের দম শেষ হয়ে যাচ্ছে, গ্রেফতারের কারণে তাদের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষও বাড়ছে।
দুজন বর্তমান এবং ৯ জন সাবেক আইসিই অফিসার রয়টার্সকে বলেছেন, প্রশাসনের আগ্রাসী এনফোর্সমেন্ট অ্যাজেন্ডার সাথে তাল মেলাতে পারছে না সংস্থাটি। আর সেইসাথে অত্যাধিক পরিশ্রম করতে গিয়ে কর্মকর্তারা যেমন পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ছেন, সেইসাথে হতাশাও গ্রাস করছে তাদের।
সংস্থাটি যত দ্রুত সম্ভব হাজার হাজার নতুন অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে আরো গতিশীল হতে চাইছে। কিন্তু এসব কাজ করতে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছরও লেগে লেগে যেতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন অনেক বেশি হারে দৈনিক গ্রেফতারের কোটা ধার্য করছে। এর ফলে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, এমন লোকজনকেও বিপুল সংখ্যায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমনকি দীর্ঘ দিন ধরে গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে আছেন, বা বৈধ ভিসা নিয়ে আছেন, এমনকি মার্কিন নাগরিকদের পর্যন্ত গ্রেফতার করা হচ্ছে।
অবশ্য বর্তমান ও সাবেক আইসিই কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই পরিচয় প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। সহকর্মীদের প্রতিশোধের মুখে পড়ার আশঙ্কায় তারা পরিচয় গোপন করেই রয়টার্সের সাথে কথা বলেছেন।
প্রশাসনের বেপরোয়া গ্রেফতারের অনেক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এতে করে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। যেকোনো জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। রাস্তা, কর্মস্থল, স্কুলের বাইরে, চার্চ, আদালত প্রাঙ্গন, এমনকি ড্রাইভওয়ে থেকেও লোকজনকে গ্রেফতারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।
ট্রাম্পের অধীনে ২১ হাজার সদস্যবিশিষ্ট সংস্থাটির গ্রেফতার আগের বছরের তুলনায় ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চান, সবচেয়ে খারাপের মধ্যেও যারা আরো খারাপ, তাদেরকে গ্রেফতার করতে। কিন্তু আইসই হিসাবে দেখা যায়, কোনো ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত নয়, এমন ব্যক্তিদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে।
মানবপাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধীদের গ্রেফতারের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইস তদন্ত কর্মকর্তাদের যখন সাধারণ অভিবাসন দমনে নিয়োজিত করা হয়, তখন অনেক আইস কর্মকর্তা হতাশ হয়ে পড়েন।
রয়টার্সের সাথে এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্পের বর্ডার জার টম হোম্যান স্বীকার করেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা এবং স্পেশাল অ্যাজেন্টদের অন্য কাজে লাগানোর কারণে আইস অনেক কর্মকর্তার মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাজ করার চাপ কমিয়ে আনা হবে।