
ছবি - নবযুগ
নিউইয়র্কের স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন ‘জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি ইনক ২৫ বছর অতিক্রম করছে। প্রস্তুতি চলছে ২৫ বছরপূর্তীও ব্যাপক আয়োজনের। আগামী অক্টোবর মাসের সুবিধাজনক সময়ে দু’দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘সামার ভ্যাকেশন’ উপভোগ করতে গত ৪ আগষ্ট সোমবার কুইন্সের কার্নিংহাম পার্কে আয়োজন করা হয় ‘ফ্যামিলি বারবিকিউ পার্টি’র। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত এই পার্টিতে ছিলো নানা আয়োজন।
এতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও মূলধারার রাজনীতিকসহ সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশিরা সপরিবারে অংশ নেন। দিনভর আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর অংশগ্রহনের ফলে অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশিদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে খাবার দাবারের পাশাপাশি বারবাকিউ পার্টি, বাচ্চাদের জন্য হাটডগ, অভিভাবকদের জন্য ঝাল মুড়ি ও আম ভর্তাসহ ছিলো নানা আয়োজন। আরো ছিলো খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যাফল ড্র। ছিলো অতিথিদের দিনভর আড্ডা।
ব্যাতিক্রমী এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএস কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন লু, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডোনাভান রিচার্ড, সিটি কাউন্সিম্যান লিন্ডা লি এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। এছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন মূলধারার রাজনীতিক ড. দিলীপ নাথ, কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নীর প্রতিনিধি রোকেয়া আক্তার, বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র ট্রাষ্টি বোর্ড সদস্য আহসান হাবিব, সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূইয়া রুমি, সাংগঠনিক কর্মকর্তা ডিউক খান, সাবেক কর্মকর্তা কাজী তোফায়েল ইসলাম, নওশাদ হোসেন ও ফারহানা চৌধুরী, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর নূরুল আজিম, বিশিষ্ট লোন অফিসার আকিব হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম জাকির, মোহাম্মদ ইকবাল, মাহমুদ খান সুলতান ও আবু জাফর, জালালাবাদ এসোসিয়েশনে অব আমেরিকার একাংশের কোষাধ্যক্ষ মইনুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুর সমিতির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন, মাদারীপুর সমিতির সভাপতি কামরুল ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট রাশেদুজ্জামান হিমু, সৈয়দ রাব্বী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ওসমান গনি, উপদেষ্টা যথাক্রমে ডা. ওয়াজেদ এ খান, ছদনূর নূর, রেজাউল করিম চৌধুরী, ডা. টমাস দুলু রায়, অধ্যাপিকা হুসনে আরা, শাহাব উদ্দিন সাগর, শাহ জে. চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম চন্নু, সিনিয়র সহ সভাপতি এ এফ মিসবাউজ্জামান, সহ সভাপতি কামরুল ইসলাম সনি, সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও বিলাল চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আক্তার বাবুল, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত মুন্সী ও ‘ফ্যামিলি বারবিকিউ পার্টি’ আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক জে মোল্লা সানি অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্ব পরিচালনা করেন। বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় বাবরবিকিউ পার্টি। অন্যান্য পর্ব মিলে অনুষ্ঠান চলে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বলেন, জ্যামাইকার বাংলাদেশি কমিউনিটি সব সময় যেমন তার পাশে রয়েছে, তেমনী তিনিও বাংলাদেশিদের পাশে রয়েছেন। যে কোন প্রয়োজনে তার সাথে যোগাযোগের আহবান জানান তিনি। এসময় তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতিরও তীব্র সমালোচনা করেন। পাশাপাশি ফ্রেন্ডস সোসাইটির কর্মকা-ের প্রশংসাও করেন।
স্টেট সিনেটর জন লু বাংলাদেশি খাবারের প্রশংসা করেন। এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রশংসা করেন কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডোনাভান রিচার্ড।
বনভোজনের আদলে আয়োজিত এই ‘ফ্যামিলি বারবিকিউ পার্টি’র খাবার-দাবারে ছিলো ভিন্নতা। মূল আয়োজন বারবিকিউ পার্টি হলেও অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের জন্য ছিলো হাটডগ, অভিভাবকদের জন্য ঝালমুড়ি ভর্তা, আম ভর্তা, চা-পানসহ নানা আয়োজন। নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোর-কিশোরীদের জন্য ছিলো তাদের পছন্দের খাবার। যা তারা উপভোগ করছে। দিনব্যাপী ছিলো খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশেষ করে রশি টানাটানির পর্বটি ছিলো খুবই উপভোগ্য। এতে যৌথভাবে নারী-পূরুষরাও অংশ নেন। সাংস্কৃতিক পর্বে প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব, মারিয়া মৌ ও নিপা জামান সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সবশেষে ছিলো র্যাফেল ড্র’র পুরস্কার বিতরণ।
অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ইকবাল আহমেদ ও সদস্য সচিব নওশাদ হায়দারসহ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সকল কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।