
ছবি: সংগৃহীত
উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় অভিজাত এলাকা বুজিগা হিল। গত সপ্তাহে এলাকাটিতে নজর কেড়েছিল বিলাসবহুল একটি বাড়ি। তিনদিন ধরে অতিথি আগমন, পানাহার আর গভীর রাত পর্যন্ত আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ছিল বাড়িটি। চলছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। যার বিয়ে, তিনিও মানুষটি যেনতেন কেউ নন-জোহরান মামদানি। নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন তিনি।
মামদানির বয়স ৩৩ বছর। ডেটিংঅ্যাপে তার পরিচয় হয়েছিল ২৭ বছর বয়সী রামা দুয়াজির সঙ্গে। সেখান থেকেই প্রেম। এরপর গত বছরের ডিসেম্বরে দুবাইয়ে বাগদান। ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কে ছোট পরিসরে একটি অনুষ্ঠানে বিয়ে করেন তারা। এবার কাম্পালায় হলো বিশাল আয়োজন। গত ২২ জুলাই থেকে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলেছে ২৪ জুলাই পর্যন্ত। এর আগে ২০ জুলাই রোববার উগান্ডা যান মামদানি।
এতো জায়গা থাকতে উগান্ডায় বিয়ের অনুষ্ঠান কেন? মামদানির জন্ম আসলে আফ্রিকার এ দেশটিতেই। মাত্র সাত বছর বয়সে জন্মভূমি ছেড়ে নিউইয়র্কে চলে যান তিনি। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। কাম্পালার বুজিগা হিলের অভিজাত বাড়িটি তার বাবা মাহমুদ মামদানির (৭৮)। পেশায় তিনি অধ্যাপক আর মামদানির মা মীরা নায়ার (৬৭) একজন খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা।
বুজিগা হিলে উগান্ডার ধনী ব্যক্তিদের বসবাস। বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে মামদানিদের বাড়িটিকে জমকালো রূপ দেওয়া হয়। বাগানের গাছগুলো সাজানো হয় রঙিন বাতি দিয়ে। ভেসে আসছিল সংগীতের সুর। ২২ জুলাই মঙ্গলবার অনুষ্ঠানের শুরুর দিনে বাড়িটিতে হাজির হতে শুরু করে মার্সিডিজ ও রেঞ্জ রোভারের মতো নামীদামি ব্র্যান্ডের গাড়ি।
এদিন বাড়িটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কড়া। সচরাচর নিরাপত্তা নিয়ে এলাকাটিতে এতোটা তৎপরতা দেখা যায় না। প্রত্যক্ষদর্শী একজনের ভাষায়, ‘বাড়ির বাইরে ২০ জনের বেশি বিশেষ বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তাদের অনেকের মুখে ছিল মুখোশ। মুঠোফোন জ্যাম করার ব্যবস্থা ছিল। এসব কিছুই করা হয়েছিল মামদানির বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য। বাড়ির একটি ফটকেই ছিলেন ৯ জন নিরাপত্তারর্ক্ষী।’
২৪ জুলাই আয়োজন ছিল আরো জমকালো। ভারতীয় ধাঁচের অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয় ফলের জুস। নাচ-গান মিলিয়ে অনুষ্ঠান গড়ায় মধ্যরাত পর্যন্ত। এর আগে অতিথিদের উদ্দেশে মাইক্রেফোনে কথা বলেন মামদানি। তিন দিনের অনুষ্ঠান শেষে ২৫ জুলাই শুক্রবার মামদানিদের বাড়ি থেকে অনুষ্ঠানের তাঁবুগুলো খুলে নেওয়া হয়। আর অনুষ্ঠানের ফুলগুলো স্তূপ করে রাখা হয় ফটকের বাইরে।
মামদানির বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে নিরাপত্তা এতোটাই জোরদার ছিল যে রাজধানীর অনেকে জানতেও পারেননি বাড়ির ভেতরে কী হচ্ছে। এ কথা কাম্পালার এক বাসিন্দারই। শহরের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা শুনেছি মামদানি নিউইয়র্কের মেয়র হতে যাচ্ছেন।