ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, লস অ্যাঞ্জেলেসের গৃহহীনদের অভিজাত এলাকার এমন সব নতুন অ্যাপার্টমেন্টে রাখা হচ্ছে, যার প্রতি রুমের পেছনে করদাতাদের খরচ হচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত।
২০২০ সাল থেকে শহর ও কাউন্টির বিশাল গৃহহীন জনগোষ্ঠীর জন্য হোটেল, মোটেল এবং ডরমিটরি কেনা ও সংস্কারের পেছনে অন্তত ২.৬ বিলিয়ন (২৬০ কোটি) ডলার খরচ করা হয়েছে।
গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের ‘হোমকি’ উদ্যোগ থেকে প্রাপ্ত ১.৩ বিলিয়ন ডলার দিয়ে এই সম্পত্তিগুলো কেনা হয়েছিল এবং পরে লস অ্যাঞ্জেলেস শহর ও কাউন্টির আরো ১.৩ বিলিয়ন ডলার তহবিল দিয়ে সেগুলো সংস্কার করা হয়।
পশ্চিম হলিউড, চেভিয়ট হিলস এবং ভেনিস বিচের মতো দামী এলাকাগুলোতে অবস্থিত এই স্যুইটগুলোর কয়েকটিতে এমনকি ব্যক্তিগত ব্যালকনি, ইন-ইউনিট লন্ড্রি (ঘরের ভেতরেই কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা) এবং গেটেড পার্কিংয়ের সুবিধাও রয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস যখন আবাসন সংকট, কঠোর ভবন নির্মাণ বিধিমালা এবং বাজেট ঘাটতির সাথে লড়াই করছে, তখন বিশেষজ্ঞরা এই বেহিসাবী খরচের তীব্র সমালোচনা করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ডেভেলপার এবং সাবেক মেয়র পদপ্রার্থী রিক কারুসো ‘বিলাসবহুল প্রকল্পে অর্থায়নের’ জন্য শহর, কাউন্টি এবং রাজ্য নেতাদের ধুয়ে দিয়েছেন। তিনি যোগ করেন যে, ভালো বিকল্পগুলো উপেক্ষা করে শহর কর্তৃপক্ষ ‘অস্থায়ী’ বা টেকসই নয় এমন খাতে বিশাল অঙ্কের অর্থ অপচয় করছে।
ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট জনস্বার্থে তথ্যের অধিকার আবেদনের মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়া আবাসন ও সম্প্রদায় উন্নয়ন বিভাগ থেকে প্রাপ্ত ৮৩টি সম্পত্তির নথি পর্যালোচনা করেছে, যার সবকটিই গৃহহীনদের আবাসে রূপান্তরের জন্য নির্ধারিত।
রেকর্ড অনুযায়ী, পশ্চিম হলিউডের ২০ রুমের ‘হলোওয়ে মোটেল’ কেনা এবং সংস্কার করতে খরচ হয়েছে প্রায় ২২ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে খরচ প্রায় ১০.৫ লাখ ডলার। এ মোটেলটি শহরের অন্যতম ব্যয়বহুল এলাকায় অবস্থিত ‘সোহো হাউস’-এর বিলাসবহুল নতুন লোকেশনের ঠিক উল্টোদিকে।
সান ফার্নান্দোর অন্য একটি প্রকল্পে মাত্র ২৭টি ইউনিট তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৪০.৭ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রতিটির পেছনে ব্যয় ১৫ লাখ ডলার। ভেনিস বিচের ওয়াশিংটন অ্যাভিনিউতে একটি প্রাক্তন ‘রামাডা ইন’ ২০২০ সালে ৮ মিলিয়ন ডলারে কেনা হলেও প্রকল্পটির খরচ বেড়ে এখন প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। ৩২ ইউনিটের এই থমকে থাকা প্রকল্পের প্রতিটি রুমের দাম এখন দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৬ লাখ ২৫ হাজার ডলার।
শহর কর্তৃপক্ষের দাবি, কেনা সম্পত্তিগুলোর বেশ কয়েকটিতে প্রতিবন্ধীদের প্রবেশের আইনি বাধ্যবাধকতা মেটাতে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়েছে, যার কারণেই খরচ এত বেশি।
দেশের অন্যতম বৃহৎ রিয়েল এস্টেট জায়ান্টে-র প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান কারুসো বলেন, এই ব্যয় তার দীর্ঘদিনের বিশ্বাসকেই নিশ্চিত করেছে, লস অ্যাঞ্জেলেস প্রতিজন গৃহহীন ব্যক্তির পেছনে প্রায় ১০ লাখ ডলার খরচ করে।
তিনি মিডিয়াকে বলেন, ‘এত বিশাল খরচের পরেও আমরা আশানুরূপ ফলাফল পাচ্ছি না—নিশ্চয়ই কোনো টেকসই ফলাফল নয়।’ তিনি আরো বলেন, শহর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কর্মসূচিগুলো উপেক্ষা করে এমন সব প্রোগ্রামে অর্থ ঢালছে যা কোনো কাজেই আসছে না।
তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমাদের ব্যর্থ পদ্ধতিগুলো বন্ধ করে এমন মডেল অনুসরণ করা উচিত যা বাস্তবে কাজ করে। এমন কিছু অলাভজনক গোষ্ঠী আছে যাদের সাফল্যের হার ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ তাদের মাধ্যমে আবাসনে পাঠানো ৯০ শতাংশ মানুষই থিতু হতে পেরেছে।’ তিনি ‘ডাউনটাউন উইমেনস সেন্টার’ এবং ‘দ্য পিপল কনসার্ন’-এর মতো সংস্থাগুলোকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন যেগুলো অনুসরণ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

















