শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

এআই সৃষ্ট এক ‘ভয়াবহ ভবিষ্যৎ’

শঙ্কা কাটিয়ে ফের চাঙ্গা  মার্কিন প্রযুক্তি বাজার

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৭:৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শঙ্কা কাটিয়ে ফের চাঙ্গা  মার্কিন প্রযুক্তি বাজার

ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর প্রভাবে সৃষ্ট এক ‘ভয়াবহ ভবিষ্যৎ’-এর পূর্বাভাস কাটিয়ে প্রযুক্তি শেয়ারের দর আবার বাড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি একটি ভাইরাল হওয়া গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছিল যে, এআই-এর প্রভাবে বেকারত্বের হার ১০% ছাড়িয়ে যাবে। সেই প্রতিবেদনের জেরে বাজারে যে ধস নেমেছিল, প্রযুক্তি শেয়ারগুলো এখন সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে।

সপ্তাহের শুরুতে বড় ধরনের দরপতনের পর, বুধবার লেনদেনের মাঝপথে প্রযুক্তি-নির্ভর নাসডাক সূচক ২৫০ পয়েন্টের বেশি বেড়েছে। এছাড়া এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ৫০ পয়েন্ট এবং ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজও প্রায় ২৫০ পয়েন্ট বেড়েছে।
গত রোববার ‘চিত্রিনি রিসার্চ’-এর প্রকাশিত ৭,০০০ শব্দের একটি নিবন্ধে বিশ্বব্যাপী ‘ইন্টেলিজেন্স ক্রাইসিস’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক সংকটের একটি কাল্পনিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। এর প্রভাবে সোমবার ডাও জোন্স সূচক ৮০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়। বুধবারের এই উত্থান সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠারই ইঙ্গিত।
উক্ত প্রতিবেদনে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে এআই-এর কারণে গণ-ছাঁটাই এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের ৩৮% পতনের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এআই-এর এই ‘কেয়ামতকাল’-সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী বিনিয়োগকারীদের মনে আতঙ্ক ছড়ালেও, অনেক নামী অর্থনীতিবিদ ও প্রতিষ্ঠান এটিকে স্রেফ ‘অনুমান’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউস কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যাডভাইজারস-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিয়েরে ইয়ারেড এই গবেষণাপত্রটিকে একটি ‘মজার সায়েন্স ফিকশন’ বা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি এটি নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন, তবে দেখবেন এটি অর্থনীতির কিছু মৌলিক হিসাবনিকাশকেই লঙ্ঘন করে।’
অন্যদিকে, ‘সিটাডেল সিকিউরিটিজ’ দাবি করেছে যে, এআই-এর উন্নতি শ্রমবাজারকে ধ্বংস করে দেবে, এমন কোনো প্রমাণ বর্তমান তথ্যে নেই। সিটাডেলের ফ্রাঙ্ক ফ্লাইট বিনিয়োগকারীদের জানান, অতীতেও প্রযুক্তির বড় বড় পরিবর্তন শ্রমশক্তিকে পুরোপুরি অকেজো করে দেয়নি।
চিত্রিনির সেই ‘ভয়াবহ চিত্র’ অনুযায়ী, হোয়াইট কলার বা দাপ্তরিক কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা যন্ত্রের কাছে চাকরি হারিয়ে কম বেতনের কাজে যোগ দিতে বাধ্য হবেন, যার ফলে বন্ধক এবং প্রাইভেট-ইকুইটি ঋণের কিস্তি খেলাপি হওয়ার জোয়ার আসবে এবং অর্থনীতি ভেঙে পড়বে।
তবে বেশ কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীও কর্মসংস্থানে এআই-এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন। অ্যানথ্রোপিক প্রধান দারিও আমোদি গত বছর সতর্ক করেছিলেন যে, চরম পরিস্থিতিতে বেকারত্ব ২০% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, জানুয়ারিতে প্যালান্টিয়ার সিইও অ্যালেক্স কার্প বলেছিলেন, এআই মানবিক বিদ্যার চাকরিগুলো ধ্বংস করলেও কারিগরি বা ব্লু-কলার পেশার সুযোগ বাড়িয়ে দেবে।
 

শেয়ার করুন: