ছবি: সংগৃহীত
শিশুটির যাওয়ার মতো কোনো জায়গা প্রয়োজন ছিল। তাই কর্মকর্তারা তার মা-বাবাকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশনে (অভিবাসন কারাগার) নিয়ে যাওয়ার আগের সেই উন্মত্ত মুহূর্তগুলোতে, শিশুটির মা তাদের যাজক (পাস্তর) এবং তার স্ত্রীর শরণাপন্ন হলেন। ফ্লোরিডার লেকল্যান্ডে পরিবারের ট্রেলার হোমের বাইরে যখন পুলিশের গাড়িগুলো অপেক্ষা করছিল, তখন তিনি ৪ মাস বয়সী শিশুটির যতœ নেওয়ার একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ দিচ্ছিলেন তাদের।
গোলগাল গাল আর মাথায় ঘন কালো চুলের শিশু ব্রায়ানি সাধারণত এত কান্নাকাটি করে না। কিন্তু জানুয়ারির সেই রাত তখন অনেক, প্রায় মধ্যরাত, এবং সে তখনও ক্ষুধার্ত ছিল। তার মা, ডরিস ফ্লোরেস তাকে শান্ত করতে বুকের দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি। যখন তিনি ব্রায়ানিকে বুকে টেনে নিলেন, তখন দুধ আসছিল না। ফ্লোরেস ভেবেছিলেন, কর্মকর্তারা যখন শিশুটির বাবাকে গ্রেফতার করল এবং তাকে জানাল যে এরপর তার পালা, তখন থেকে যে আতঙ্ক তাকে গ্রাস করেছে, এটি হয়তো তারই ফল।
শিশুটির জন্য ফর্মুলা দুধের ব্যবস্থাও ছিল। যাজক এবং তার স্ত্রী, যাদের নিজেদের কোনো সন্তান ছিল না, তাদেরকে দুধের বোতল এবং হলুদ রঙের ফর্মুলা কৌটাগুলো দিয়ে প্যাকেটের গায়ে লেখা নির্দেশিকা অনুসরণ করতে বলা হলো। তাদের বলা হলো অবশ্যই ডিস্টিল্ড ওয়াটার (পরিশ্রুত পানি) ব্যবহার করতে, কলতলার পানি কখনো নয়। ব্রায়ানি প্রতিবার ৫ আউন্স করে দুধ খায় এবং তাকে প্রতি দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা অন্তর খাওয়াতে হবে।
তার পরবর্তী টিকা দেওয়ার সময় প্রায় হয়ে এসেছিল। সে এখন ৩ নম্বর সাইজের ডায়াপার পরার মতো বড় হয়েছে। আর কেউ তাকে কোলে তুলে নিলে সে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়।
৫৮ বছর বয়সী রেভারেন্ড ইসরায়েল ভাজকুয়েজ, যিনি মৃদুভাষী এবং ছোট করে ছাঁটা চুলের মানুষ, এর আগেও ব্রায়ানিকে কোলে নিয়েছিলেন—যখন তিনি তার পেন্টেকোস্টাল চার্চে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি এবং তার স্ত্রী (যিনি ওই চার্চের একজন যাজক) যদি এই মেয়ে দুটির দায়িত্ব না নিতেন, তবে তাদের ফস্টার কেয়ারে (সরকারি অনাথ আশ্রমে) যেতে হতো। ‘আমাদের আর কী করার ছিল?’ তিনি বিষণœ মনে বললেন।
বয়স্ক এই দম্পতির জন্য শিশুটির সৎ বোনকে দেখাশোনা করা কিছুটা সহজ হবে। আট বছর বয়সী ব্রায়ানা শান্ত ও নম্র স্বভাবের। সে স্প্যানিশের চেয়ে ইংরেজিতে কথা বলতে বেশি পছন্দ করে। তার প্রিয় রঙ নীল।
পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিসের ডেপুটিরা শিশুটির স্ট্রলার এবং বাউন্সি সুইং (দোলনা) দম্পতির গাড়িতে তুলে দিতে সাহায্য করলেন। এরপর ট্রাম্প প্রশাসনের হয়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী ফ্লোরিডার শত শত সংস্থার একটির নিযুক্ত কর্মকর্তারা ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকা ফ্লোরেসের হাতে হাতকড়া পরিয়ে দিলেন।
প্রোপাবলিকার সাথে একচেটিয়াভাবে শেয়ার করা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-এর একটি নতুন দেশব্যাপী ডেটাসেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর আমেরিকান নাগরিক সন্তান রয়েছে এমন অভিবাসী বাবা-মাকে গ্রেফতার ও আটকের ঘটনা দ্বিগুণ বেড়েছে। তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম সাত মাসে কর্তৃপক্ষ অন্তত ১১,০০০ মার্কিন নাগরিক শিশুর বাবা-মাকে গ্রেফতার ও আটক করেছে, যদি এই গতি বজায় থাকে, তবে এতক্ষণে এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এর অর্থ হলো, প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনেরও বেশি মার্কিন নাগরিক শিশুর বাবা অথবা মাকে ডিটেনশনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস একটি চলমান পাবলিক রেকর্ড মামলার অংশ হিসেবে এই বিশ্লেষণের ভিত্তিগত তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছে। এতে জো বাইডেন প্রশাসনের শেষ তিন বছর এবং ২০২৫ সালের আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন বংশোদ্ভূত শিশুদের অভিবাসী বাবা-মায়ের গ্রেফতারি বেড়েছে
বাইডেন প্রশাসনের তুলনায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম সাত মাসে মা-বাবার আইসিই গ্রেফতারির হার দ্বিগুণ হয়েছে।
আমাদের বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে যে, দুই প্রেসিডেন্টের অধীনে আটক হওয়া অভিবাসী বাবা-মায়ের পরিণতির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। মায়েদের ওপর এর প্রভাব বিশেষভাবে স্পষ্ট। বাইডেনের তুলনায় ট্রাম্প প্রতিদিন গড়ে প্রায় চারগুণ বেশি মার্কিন নাগরিক শিশুর মায়েদের বহিষ্কার করছেন।
প্রথমত, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আগের চেয়ে অনেক বেশি মায়েদের গ্রেফতার করছে, তবে শুধুমাত্র এটিই বহিষ্কার বৃদ্ধির একমাত্র কারণ নয়। একবার গ্রেফতার হলে, তাদের এখন আর পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার অনুমতি খুব কমই দেওয়া হয়। বাইডেনের অধীনে এমন গ্রেফতারির প্রায় ৩০% ক্ষেত্রে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের অধীনে তা প্রায় ৬০%-এ পৌঁছেছে।
বাইডেন প্রশাসনের তুলনায় ট্রাম্পের কর্মকর্তারা এমন অনেক বেশি মা-বাবাকে আটক করছেন যাঁদের অপরাধের ইতিহাস অত্যন্ত সামান্য অথবা একেবারেই নেই। ট্রাম্পের অধীনে আটক হওয়া মার্কিন নাগরিক শিশুদের বাবাদের অর্ধেকেরও বেশি এবং মায়েদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশের যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাফিক বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ ছাড়া অন্য কোনো অপরাধের সাজা নেই।
ট্রাম্প প্রশাসনের সময় মার্কিন নাগরিক শিশুদের মায়েরা খুব কমই মুক্তি পাচ্ছেন
প্রোপাবলিকা ২০২৪ (বাইডেন) এবং ২০২৫ (ট্রাম্প) সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত একই সাত মাসের সময়কালে গ্রেফতার হওয়া মার্কিন নাগরিক শিশুদের মায়েদের সাথে কী ঘটেছে তা তুলনা করতে ১,০০০-এর বেশি মামলা পর্যালোচনা করেছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় হওয়া গ্রেফতারির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বহিষ্কারের দিকে গড়িয়েছিল। ট্রাম্পের অধীনে সেই হার দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

















