ছবি: সংগৃহীত
১ জানুয়ারি, ২০২৬ মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) একটি নতুন নীতি স্মারক (পিএম-৬০২-০১৯৪) জারি করেছে। এর শিরোনাম : ‘অতিরিক্ত উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের নাগরিকদের দাখিল করা ইউএসসিআইএস সুবিধা আবেদনগুলো আটকে রাখা এবং পর্যালোচনা করা’।
এ নির্দেশনাটি মূলত ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত এবং ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া প্রেসিডেন্সিয়াল প্রোক্ল্যামেশন ১০৯৯৮ (পিপি ১০৯৯৮)-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার লক্ষ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত করা।
এই নীতিমালার অধীনে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাদের তিনটি প্রধান পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে :
১. আবেদন স্থগিত রাখা : নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, পিপি ১০৯৯৮ তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের সমস্ত ঝুলে থাকা আবেদনের ওপর ‘হোল্ড’ বা স্থগিতাদেশ জারি করা, যতক্ষণ না একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা শেষ হয়। এটি প্রবেশের তারিখ নির্বিশেষে কার্যকর হবে।
২. পদ্ধতিগত পর্যালোচনা : উল্লিখিত দেশগুলোর নাগরিকদের আবেদন স্ক্রিনিং, যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট সকল নীতি ও পদ্ধতির একটি সামগ্রিক পর্যালোচনা পরিচালনা করা।
৩. পূর্বতন আবেদনের পুনরায় পর্যালোচনা : ২০ জানুয়ারি, ২০২১ বা তার পরে অনুমোদিত হওয়া উল্লিখিত দেশগুলোর নাগরিকদের সকল আবেদন পুনরায় বিশদভাবে পরীক্ষা করা।
এই ঘোষণার পর প্রায় ৬০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় আবেদনকারীরা এখন দীর্ঘসূত্রতার সম্মুখীন হতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস অতিরিক্ত তথ্য বা প্রমাণ চাইতে পারে, যা আবেদনকারীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে।
কারা এর প্রভাবের আওতায় পড়ছেন
স্থগিতাদেশ এবং এই বিশেষ পর্যালোচনা প্রক্রিয়াটি পিপি ১০৯৯৮ তালিকায় থাকা সকল দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :
আফগানিস্তান, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা, বেনিন, বুর্কিনা ফাসো, বার্মা (মিয়ানমার), শাদ, কোত দিভোয়ার, কিউবা, ডোমিনিকা, নিরক্ষীয় গিনি, ইরিত্রিয়া, গ্যাবন, গাম্বিয়া, হাইতি, ইরান, লাওস, লিবিয়া, মালাউই, মালি, মৌরিতানিয়া, নাইজার, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তাঞ্জানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, ভেনিজুয়েলা, ইয়েমেন, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।
এছাড়া ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা বা অনুমোদিত ভ্রমণ নথিপত্র যাদের আছে, তারাও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ জাতীয়তা, জন্মস্থান বা ‘ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে নাগরিকত্ব’ সিবিআই) গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ব্যতিক্রম
তবে কিছু ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস আবেদন প্রক্রিয়া চালু রাখতে পারবে :
ক্স যাদের ফরম আই-৯০, ফরম এন-৫৬৫, এবং ফরম এন-৬০০ আবেদন ঝুলে আছে।
ক্স জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) কোনো আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি চাইলে।
ক্স বিশেষ জরুরি বা জনস্বার্থে প্যারোলে থাকা ব্যক্তি (সি-১১) এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তাকারী ব্যক্তিদের (সি-১৪) কর্মসংস্থানের অনুমতি (আই-৭৬৫)।
ক্স ৪ জানুয়ারি, ১৯৯৫-এর পরে আবেদন করা রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের প্রাথমিক কর্মসংস্থান আবেদন।
ক্স যাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ জাতীয় স্বার্থের জন্য সহায়ক বলে বিবেচিত হবে।
ক্স বিশ্বকাপ, অলিম্পিক বা বড় কোনো ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাথলেট, কোচ এবং তাদের নিকটাত্মীয়দের আবেদন।
ক্স কোনো নির্বাহী আদেশ বা প্রোক্ল্যামেশনের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রোগ্রামের সাথে সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি।
বর্তমান পরিস্থিতি
এই ব্যতিক্রমগুলোর সুযোগ খুবই সীমিত এবং সাধারণ আবেদনকারীদের অনেকের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। পলিসিটি ঘোষণার প্রায় ৬০ দিন পার হলেও আবেদনগুলো কবে নাগাদ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ফিরবে, সে বিষয়ে ইউএসসিআইএস কোনো নতুন তথ্য দেয়নি। ফলে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর আবেদনকারীরা (তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই থাকুন না কেন) বড় ধরনের বিলম্ব এবং কঠোর নজরদারির সম্মুখীন হতে পারেন।

















