ছবি: সংগৃহীত
আগামী মাসেই নিউইয়র্ক সিটিতে ধর্মঘট শুরু হতে পারে! এমনই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে নিউইয়র্ক সিটির অ্যাপার্টমেন্ট বাসিন্দাদের। শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন এবং ভবন মালিকদের উপদেষ্টা বোর্ডের মধ্যে নতুন শ্রম চুক্তি নিয়ে আলোচনার মাঝেই এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।
পাঁচটি বরোজুড়ে প্রায় ৩,৫০০ কো-অপ, কন্ডো এবং অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের মালিকরা বাসিন্দাদের জানিয়েছেন, যদি ২১ এপ্রিল থেকে কাজ বন্ধ হয়ে যায়, তবে নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে কমবে। উল্লেখ্য, বর্তমান চার বছর মেয়াদি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০ এপ্রিল। এর আওতায় রয়েছেন প্রায় ৩৪,০০০ দারোয়ান (ডোরম্যান), পোর্টার এবং রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী।
চলতি মাসে তিনটি পৃথক ভবনের বাসিন্দাদের পাঠানো নোটিশ অনুযায়ী, ধর্মঘট শুরু হলে ভবনে প্রবেশের জন্য বাসিন্দাদের ব্যাজ পরতে হবে, জরুরি নয় এমন সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে যাবে এবং মালামাল নিয়ে ভবনে প্রবেশ বা বের হওয়া স্থগিত থাকবে। ‘রিয়েলটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড অন লেবার রিলেশনস’ (আরএবি) জানিয়েছে, প্রায় ১০ লাখ রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড (ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত) অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া বাড়ানো স্থগিত হওয়ার আশঙ্কায় শহরের আবাসন শিল্প আয় কমার মুখে পড়েছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভাড়া স্থগিত রাখতে আগ্রহী মেয়র জোহরান মামদানি গত মাসে ৯ সদস্যের প্যানেলে ছয়জন নতুন সদস্য নিয়োগ দিয়েছেন। তারা এই রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড ইউনিটগুলো পরিচালনা করবেন।
চুক্তিভিত্তিক অবস্থান
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানা গেছে, আরএবি কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রিমিয়ামে অবদান রাখার প্রস্তাব দিয়েছে এবং নতুন চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য একটি ‘টায়ার-২’ শ্রেণি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।
শ্রমিক সংগঠন ৩২বিজে এসইআইইউ তাদের বিবৃতিতে জঅই-এর এই সর্বশেষ অফারকে ‘অপমানজনক’ বলে অভিহিত করেছে। ইউনিয়ন জানায়, প্রস্তাবিত নতুন স্তরের কর্মীরা তাদের সমপর্যায়ের অন্যদের চেয়ে কম আয় করবেন এবং আরএবি আরো বেশি অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ দিতে চায়।
ইউনিয়ন সভাপতি ম্যানি পাস্টরিচ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের সদস্যরা প্রতিদিন যে শহরকে সেবা দেয়, সেখানে মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছে। তুষারঝড়, বৈশ্বিক মহামারি, এমনকি সহিংসতার মুখেও আমাদের সদস্যরা কাজ করে গেছে। আমরা রিয়েল এস্টেট শিল্পকে এই জরুরি কর্মীদের স্বার্থ ক্ষুণœ করে খরচ কমাতে দেব না।’
উভয় পক্ষই আলোচনার চলমান অবস্থায় সুনির্দিষ্ট কত শতাংশ মজুরি বাড়ানোর দাবি করা হচ্ছে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে ইউনিয়ন চায়, মালিকপক্ষের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য বিমা সুবিধা বহাল রাখা, মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বৃদ্ধি, শক্তিশালী পেনশন সুবিধা এবং উন্নত কর্মপরিবেশ ও বেতনসহ ছুটি।
এই আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন শ্রমজীবী পরিবারগুলো উচ্চ খাদ্যমূল্য, জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। ধর্মঘট হলে শহরের হাজার হাজার ভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে; যার মধ্যে রয়েছে অ্যাপার্টমেন্ট মেরামত, পার্সেল সরবরাহ নিশ্চিত করা, মালামাল স্থানান্তর তদারকি এবং নির্মাণ শ্রমিকদের সংস্কার কাজ।
দুই পক্ষ আগামী ৩০ মার্চ পুনরায় আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছে ধর্মঘট এড়িয়েছিল, যেখানে চার বছরে গড়ে বার্ষিক ৩% মজুরি বৃদ্ধি এবং এককালীন ৩,০০০ ডলার বোনাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

















