ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে এক মুসলিম নারীর পুরো শরীর ঢাকা হিজাব জোরপূর্বক ছিঁড়ে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ৩০ বছর বয়সী লেটিফ ক্যালডওয়েলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ১০৯ স্ট্রিট ও ইস্ট ড্রাইভের কাছে ৪৫ বছর বয়সী ওই নারীর ওপর এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্রুকলিনে একটি সাবওয়ে স্টেশনে এক মুসলিম নারীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে এক মুসলিম নারীর পুরো শরীর ঢাকা হিজাব জোরপূর্বক ছিঁড়ে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ৩০ বছর বয়সী লেটিফ ক্যালডওয়েলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ক্যালডওয়েল ওই নারীকে একটি বেঞ্চে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং তার পরনের হিজাব কোমরের উপর পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর তিনি তার পোশাক টেনে নামিয়ে তাকে লাথি মারেন। অর্ধেক পোশাক খুলে যাওয়া অবস্থায় ভুক্তভোগী নারী নিজেই প্রথমে আক্রমণকারীকে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন এবং পরে সাহসী পথচারীরা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। কাছেই টহলরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলেই ক্যালডওয়েলকে গ্রেপ্তার করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ক্যালডওয়েলকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি ওই নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছিলেন কিনা, তিনি সরাসরি “হ্যাঁ” বলে স্বীকার করেন।
বুধবার ক্যালডওয়েলকে চেষ্টা করা ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি নির্দোষ দাবি করে জামিনের আবেদন করলেও তাকে বিনা জামিনে আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ঘটনাটি ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়নি, যা নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
এটি ক্যালডওয়েলের প্রথম এ ধরনের অপরাধ নয়। ২০২২ সালে ম্যানহাটনের ইস্ট ১৩ স্ট্রিটে ২৩ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই মামলায় ২০২৩ সালে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর গত বছর কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পরপরই আবারও একই ধরনের গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়া নিউইয়র্কের প্যারোল ব্যবস্থা ও পুনরাবৃত্তিমূলক অপরাধ প্রতিরোধ নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সিটির ব্রুকলিনে একটি সাবওয়ে স্টেশনে এক মুসলিম নারীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সতেরো মার্চ সকাল প্রায় দশটা পঞ্চাশ মিনিটে নাইন্থ সাবওয়ে স্টেশনে দক্ষিণমুখী ডি ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে ওই ব্যক্তি বিশ বছর বয়সী নারীর বিপরীতে বসে ইরানের যুদ্ধ এবং “শহরে সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে” এমন মন্তব্য করতে থাকেন।
এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীকে ধরে মাটিতে ফেলে দেন এবং ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করতে থাকেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ। সূত্র জানায়, হামলার সময় তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি-কে নিয়েও কটূক্তি করেন।
হামলার পর ভুক্তভোগী নারীকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি মুসলিম পোশাক পরিহিত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ওই নারীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সর্বশেষ কালো-সাদা জ্যাকেট, গাঢ় রঙের প্যান্ট এবং কালো জুতা পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে।
ঘটনাটি ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ধানে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে এবং তথ্য দিতে ক্রাইম স্টপার্স হটলাইনে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

















