ছবি: সংগৃহীত
আজকের ‘মর্নিং পিপল’-এ সরকারি স্কুলগুলোর জন্য নিউইয়র্ক সিটির প্রথম অফিশিয়াল ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্লেবুক’ বা নির্দেশিকা নিয়ে প্যাট কিয়ারনান এবং জেমি স্টেল্টার আলোচনা করেছেন।
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে শহর কর্তৃপক্ষ তাদের প্রথম অফিশিয়াল ‘এআই প্লেবুক’ বা নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি ‘মর্নিং পিপল’ অনুষ্ঠানে প্যাট কিয়ারনান এবং জেমি স্টেল্টার এই নতুন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
ট্রাফিক লাইট পদ্ধতি : লাল, হলুদ ও সবুজ সংকেত
এই নতুন নির্দেশিকায় এআই ব্যবহারের সুযোগকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যা অনেকটা ট্রাফিক সিগন্যালের মতো :
সবুজ সংকেত (অনুমোদিত) : শিক্ষকরা পাঠ পরিকল্পনা, ক্লাসের আইডিয়া তৈরি এবং সাধারণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে এআই-এর সাহায্য নিতে পারবেন। এটি তাদের কাজের চাপ কমিয়ে সৃজনশীল কাজে বেশি সময় দিতে সাহায্য করবে।
হলুদ সংকেত (সতর্কতা) : ছাত্রছাত্রীদের ডেটা বিশ্লেষণ বা দ্বিভাষিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনুবাদের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা যাবে, তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই একজন প্রশিক্ষিত মানুষের সরাসরি তদারকি থাকতে হবে। এআই-এর দেওয়া তথ্য যাচাই না করে ব্যবহার করা যাবে না।
লাল সংকেত (নিষিদ্ধ) : শিক্ষার্থীদের গ্রেডিং, শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত সিদ্ধান্ত, স্নাতক বা পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই-এর ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে মানুষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কই মূল
নির্দেশিকাটিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এআই কখনোই একজন শিক্ষকের বিকল্প হতে পারবে না। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মধ্যে যে মানবিক সম্পর্ক এবং বিশ্বাসের জায়গা রয়েছে, তা বজায় রাখাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তি এখানে কেবল একটি সহায়ক সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করবে।
ডেটা সুরক্ষা ও গোপনীয়তা
শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ডেটা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো আনঅফিশিয়াল বা অনুমোদনহীন এআই টুল-এ শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রদান করা যাবে না। এছাড়া, এআই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি প্রাথমিক খসড়া। আগামী মে মাসের শুরু পর্যন্ত এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে আগামী জুন মাসে একটি পূর্ণাঙ্গ এবং চূড়ান্ত ‘এআই প্লেবুক’ প্রকাশ করা হবে।

















