শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

নতুন কোভিড ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ অঙ্গরাজ্যে  দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে 

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ২৭ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ অঙ্গরাজ্যে  দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে 

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন এক কোভিড-১৯ ভ্যারিয়েন্ট-বিএ.৩.২ (ইঅ.৩.২) ছড়িয়ে পড়ছে—যা বর্তমান ভ্যাকসিনের সুরক্ষা আংশিকভাবে এড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকরা বলছেন, এই ভ্যারিয়েন্টটি এখনও প্রাধান্য বিস্তার না করলেও এর বিস্তার এবং জেনেটিক বৈশিষ্ট্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি এই ভ্যারিয়েন্টটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৫টি অঙ্গরাজ্যে শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, কানেকটিকাট, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, আইডাহো, ইলিনয়, মেইন, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিসৌরি, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিউ জার্সি, নেভাডা, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস, ইউটা, ভারমন্ট, ভার্জিনিয়া, ওয়াইয়োমিং, লুইজিয়ানা, মিশিগান ও ওহাইও।
এটি শনাক্ত হয়েছে—চারজন আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীর নাকের নমুনায়, চারটি অজ্ঞাত অঙ্গরাজ্যের পাঁচজন রোগীর ক্লিনিক্যাল স্যাম্পলে, তিনটি বিমানের বর্জ্য পানিতে এবং ২০টির বেশি অঙ্গরাজ্যের ১৩২টি ওয়েস্টওয়াটার নমুনায়। এ থেকে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বাস্তবে এর বিস্তার আরও বেশি হতে পারে।
জানা যায়, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট থেকে উদ্ভূত বিএ.৩.২ (ইঅ.৩.২) প্রথম শনাক্ত হয় ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায়। যুক্তরাষ্ট্রে এটি প্রথম ধরা পড়ে ২০২৫ সালের জুনে, নেদারল্যান্ডস থেকে আসা এক ভ্রমণকারীর শরীরে। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এটি দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত ২৩টি দেশে এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
এই ভ্যারিয়েন্টটির স্পাইক প্রোটিনে প্রায় ৭০–৭৫টি জেনেটিক পরিবর্তন রয়েছে—যা ভাইরাসকে সহজে মানবদেহে প্রবেশ করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এড়িয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি-এর রোগব্যাধি ও মৃত্যুহার বিষয়ক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ইঅ.৩.২ জেনেটিকভাবে ২০২৪ সালে প্রচলিত ঔঘ.১ লাইনের ভ্যারিয়েন্টগুলোর থেকে আলাদা। ফলে বর্তমান ভ্যাকসিন আপডেট করার প্রয়োজন হতে পারে।
ল্যাবরেটরি গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান কোভিড ভ্যাকসিন থেকে তৈরি অ্যান্টিবডি ইঅ.৩.২-এর বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর। বিশেষ করে ২০২৫–২০২৬ সালের খচ.৮.১-ভিত্তিক সজঘঅ ভ্যাকসিনটি ঔঘ.১ ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর হলেও ইঅ.৩.২-এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
রোগের তীব্রতা কেমন?
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইঅ.৩.২ সংক্রমণ অন্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় বেশি মারাত্মক নয়।ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে তিনটি অঙ্গরাজ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর শরীরে এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে—দুইজন ছিলেন বয়স্ক এবং আগে থেকেই অসুস্থ, একজন ছিল শিশু, যাকে আউটপেশেন্ট চিকিৎসা দেওয়া হয়। সবাই সুস্থ হয়েছেন। 
গবেষকদের মতে, হাসপাতালে রোগী পাওয়া গেলেও এটি বেশি মারাত্মক এমন কোনো প্রমাণ এখনও নেই।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড এখন এন্ডেমিক পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাই ভাইরাস নিয়মিত পরিবর্তিত হবে।
কানাডার ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচুয়ানের ভাইরোলজিস্ট অ্যাঞ্জেলা রাসমুসেন বলেন,ভাইরাস যতবার ছড়াবে, ততবারই এটি নতুন রূপ নেওয়ার সুযোগ পাবে। তাই সংক্রমণ কমানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে অন্যান্য ওমিক্রন উপধারা বেশি প্রভাবশালী। শীতকালে ফ্লু ও জঝঠ সংক্রমণ কোভিডকে ছাড়িয়ে গেছে কোভিড সংক্রমণ। হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু—সবই আগের বছরের তুলনায় কমেছে। তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি।
সিডিসি -এর তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ কোভিডে মারা গেছেন।যার মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে বেশি। 
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রীষ্মকালে আবারও সংক্রমণ বাড়তে পারে—যেমনটি গত কয়েক বছর ধরে দেখা গেছে। তাই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এবং প্রয়োজনে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও ভ্যাকসিন কৌশল সমন্বয় করা জরুরি।
 

শেয়ার করুন: