ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) রাজনৈতিক আশ্রয়ের (অ্যাসাইলাম) আবেদনকারীদের ‘ওয়ার্ক পারমিট’ বা কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র (যা আনুষ্ঠানিকভাবে ইএডি নামে পরিচিত) প্রদানের নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, যাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তারা সেই সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি পেয়ে থাকেন।
এই নতুন নিয়মটি ‘ডিফেন্সিভ’ (যাদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে) এবং ‘অ্যাফারমেটিভ’ (যারা সরাসরি ইউএসসিআইএস-এ আবেদন করেছেন) উভয় ধরনের আবেদনকারীর ওপর প্রভাব ফেলবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালার মূল পরিবর্তনগুলো নিচে দেওয়া হলো :
১. অপেক্ষার সময় বৃদ্ধি
বর্তমানে একজন আশ্রয়প্রার্থী আবেদনের ১৮০ দিন পর ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। ডিএইচএস এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩৬৫ দিন (এক বছর) করার প্রস্তাব করেছে।
২. ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন বাধা
নতুন নিয়মে বেশ কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হবে, যেমন :
ক্স যারা অপরাধমূলক কর্মকা-ের কারণে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
ক্স যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছরের মধ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ক্স যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন (তবে এক্ষেত্রে খুব সীমিত কিছু ব্যতিক্রম থাকবে)।
৩. বায়োমেট্রিক বাধ্যবাধকতা
এখন থেকে ওয়ার্ক পারমিটের নতুন আবেদন এবং নবায়নÑউভয় ক্ষেত্রেই বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ দেওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে আশ্রয়ের মূল আবেদনের সময় বায়োমেট্রিক নেওয়া হলেও ইএডি আবেদনের জন্য এটি নিয়মিত ছিল না। সংস্থাটি জানিয়েছে, এর ফলে কর্মকর্তাদের পক্ষে আবেদনকারীর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা গুরুতর সাজা আছে কিনা তা যাচাই করা সহজ হবে।
৪. আবেদনের অগ্রাধিকার ও প্রত্যাখ্যান
যদি ওয়ার্ক পারমিট যাচাইয়ের সময় কোনো আবেদনকারীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক বা অপরাধমূলক তথ্য পাওয়া যায়, তবে তার মূল আশ্রয়ের আবেদনটি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হবে। একইভাবে, ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় যদি মূল আশ্রয়ের আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করা হয়, তবে তার ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনটিও সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে।
৫. প্রসেসিং টাইম এবং আবেদন গ্রহণ স্থগিত করা
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবটি হলো, যদি ইউএসসিআইএস-এর আবেদনের প্রসেসিং সময় ১৮০ দিন ছাড়িয়ে যায়, তবে সংস্থাটি নতুন করে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবে। যখন টানা ৯০ দিন ধরে গড় প্রসেসিং সময় ১৮০ দিন বা তার নিচে নেমে আসবে, কেবল তখনই আবার নতুন আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। ডিএইচএস দাবি করেছে, এই স্থগিতাদেশ পুরোপুরি কাজের গতির ওপর নির্ভর করবে, কর্মকর্তাদের ইচ্ছাধীন নয়।
বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে ইউএসসিআইএস-এর প্রসেসিং সময় ১৮০ দিনের চেয়ে অনেক বেশি। ডিএইচএস উল্লেখ করেছে, যদি শুধু এই একটি নিয়ম কার্যকর করা হয়, তবে সংস্থাটি কয়েক বছর পর্যন্ত কোনো নতুন আবেদন নিতে পারবে না। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান গতিতে ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে ১৪ থেকে ১৭৩ বছর সময় লাগতে পারে। তবে সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে যে, অন্য প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো একসাথে কার্যকর হলে প্রসেসিং সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তারা আশা করছে।

















