ছবি: সংগৃহীত
কানাডা থেকে নেমে আসা বিপজ্জনক আর্কটিক হিমপ্রবাহ এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। তীব্র শীতের তা-ব সরাসরি প্রভাব ফেলছে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি অঞ্চলে। জনজীবন ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত হিটিং ব্যবস্থা না থাকলে ঘরবাড়িতে থাকা লোকজনকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। বাইরে যাওয়ার সময় অতিরিক্ত গরম কাপড় ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হিমাংকের অনেক নিচে তাপমাত্রা অবস্থান করছে। তীব্র ঠা-ায় জমে প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে এবং আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। দিনে সূর্যের আলো থাকলেও ঠান্ডার তীব্রতা কমবে না, রাতের দিকে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি বা তার নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হিমশীতল বাতাসের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও ব্যাহত হতে পারে। রাস্তাঘাটে বরফ জমে পিচ্ছিল অবস্থার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটি, ব্রঙ্কস, কুইন্স, ব্রুকলিন এবং নিউজার্সির উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচল কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যানবাহন দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যা এবং দৈনন্দিন কাজে বিঘœ ঘটার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। ঠা-ায় পানি জমে ঘরের পাইপ ফেটে যাওয়াসহ নানা বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এই তীব্র শীতের প্রভাব সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত এবং কিছু ক্ষেত্রে পরের সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তুষারপাত এবং বরফ জমার কথাও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। শিশু, বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং গৃহহীনদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়া, ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত উষ্ণতা বজায় রাখা, গরম কাপড় ব্যবহার করা এবং রাস্তায় চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই কয়েক দিন নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঞ্চলের জন্য কঠিন সময় হতে চলেছে—সতর্কতা ও প্রস্তুতিই শীত মোকাবিলার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

















