ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কার্যক্রম স্থগিতের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। এর কার্যক্রমের ফলে স্বপ্নের দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ পথে পাড়ি জমানো স্বপ্ন দেখা মানুষগুলোর প্রতীক্ষা এখন আরও দীর্ঘ হলো। একই সঙ্গে বেড়েছে অনিশ্চয়তাও। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ হাজারো আবেদনকারী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য সব ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকার কারণে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের নতুন প্রবেশদ্বার বিলম্বিত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আমেনা মহসীন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কার্যক্রম স্থগিতে বাংলাদেশ ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, ইমিগ্র্যান্টকে নিরুৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের ধারণা এসব দেশ থেকে বহু লোক সেখানে গিয়ে কোনো কাজ করছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক উন্নয়নেও তাদের ভূমিকা কম। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন ইমিগ্র্যান্ট বন্ধ করতে এই নীতি গ্রহণ করেছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর এ ব্যাপারে বলেন, যারা ভিসা নিবেন বলে ভাবছেন বা যাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন আছে তাদের জন্য এখন রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী আছে এবং তাদের মধ্যে যারা পরিবার পরিজন নিয়ে আসার কথা ভাবছেন তাদের জন্য সমস্যা হয়ে যাবে।
ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে সাময়িকভাবে ভিসা স্থগিত করা হলেও একসঙ্গে এত সংখ্যক দেশের ইমিগ্র্যান্টস ভিসা স্থগিতের নজির নেই। ফলে এমন পরিস্থিতিতে ভিসা প্রত্যাশীদের অপেক্ষা করা ছাড়া বিকল্প পথ নেই। কিছুদিন আগেই ভিসা বন্ডের তালিকায় রাখা হয়েছিল বাংলাদেশের নাম। এবার ৭৫টি দেশের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের তালিকায়ও যুক্ত করা হয়েছে।
করোনা মহামারিতে সাময়িক সময়ের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের ঘোষণা আসলো। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে যারা স্বামী-স্ত্রী, সন্তান কিংবা বাবা-মা, ভাইবোন আনার চেষ্টা করছেন হঠাৎ করে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন।
নানা প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে আবেদনকারীদের মানসিক ও পারিবারিক জীবনে গভীরভাবে প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে ছিলেন, তাদের হতাশা সবচেয়ে বেশি। কিছুদিন আগে ৫৪ শতাংশ সরকারি সুবিধা গ্রহণের তালিকায় বাংলাদেশের নাম প্রকাশিত হওয়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশিরা আমেরিকা আসার আগেই কীভাবে সুবিধা গ্রহণ করা যাবে সেই চিন্তা করি। এমন অনেকে আছেন যারা কোনো কাজ না করে বিভিন্নভাবে সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক উন্নয়নে এরা কোনো ভূমিকা রাখছে না। ফলে ৭৪টি দেশের সঙ্গে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতে বাংলাদেশের নামও এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী জানান, অতীতে বিভিন্ন সময়ে সাময়িকভাবে ভিসা স্থগিত করা হলেও একসঙ্গে এত সংখ্যক দেশের ইমিগ্র্যান্টস ভিসা স্থগিতের নজির নেই। আবার কবে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা চালু হবে তারও নির্দেশনা দেয়া হয়নি। ভিসা স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের ফলে যাদের ফাইল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, এমনকি যাদের সাক্ষাৎকার নির্ধারিত ছিল, তারাও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন মঈন চৌধুরী জানান, ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন এমন ব্যক্তিদের প্রবেশ ঠেকাতে ‘পাবলিক চার্জ’ আইনের অধীনে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

















