মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের নতুন বিলের ওপর শুনানি 

উপাসনালয়ের চারপাশে নিরাপত্তা  বলয় তৈরির প্রস্তাব

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৭:২৯, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

উপাসনালয়ের চারপাশে নিরাপত্তা  বলয় তৈরির প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের একটি নতুন বিলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিলটি পাস হলে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, নগরীর উপাসনালয়গুলোকে বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে কখন এবং কতটুকু এলাকাজুড়ে ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা প্রয়োজন।

কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিনের ঘোষিত ‘সেমিটিজম-বিরোধী’ (ইহুদি-বিদ্বেষ) পাঁচ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ আইনটি আনা হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নিউ ইয়র্কবাসীকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই তৈরি।
স্পিকার মেনিন বলেন, ‘গত জানুয়ারিতেই আমরা দেখেছি যে প্রতিদিন গড়ে অন্তত একটি ইহুদি-বিদ্বেষী ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।’
সিটি কাউন্সিলের সদস্য এবং বিভিন্ন ধর্মের নেতাদের সাথে নিয়ে মেনিন এই আইনের সমর্থনে একটি সমাবেশ করেন। নিউ ইয়র্ক আর্চডায়োসিসের প্রতিনিধি কেভিন সুলিভান বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের আমাদের অস্বস্তিতে ফেলার বা অপ্রীতিকর পরিবেশ তৈরির পূর্ণ অধিকার আছে। কিন্তু ভয় দেখানো, হেনস্তা করা বা সহিংসতার হুমকি দেওয়ার কোনো অধিকার তাদের নেই।’
সমাবেশ-পরবর্তী শুনানিতে নবগঠিত ‘কমিটি টু কমব্যাট হেট’ (ঘৃণা-বিদ্বেষ বিরোধী কমিটি) বেশ কয়েকটি প্রস্তাবিত বিল নিয়ে আলোচনা করে। বিলগুলোর মূল লক্ষ্য হলো :
ক্স    উপাসনালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারপাশে ‘বাফার জোন’ ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরি করতে এনওয়াইপিডি-কে নির্দেশ দেওয়া।
ক্স    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন ঘৃণা-বিদ্বেষের ঝুঁকি সম্পর্কে শিক্ষামূলক উপকরণ বিতরণে শিক্ষা কর্মকর্তাদের বাধ্য করা।
ক্স    ঘৃণা-অপরাধ মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এনওয়াইপিডি-কে প্রতিবেদন দিতে বাধ্য করা।
ক্স    ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জরুরি সুরক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।
ক্স    ঘৃণামূলক ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট করার জন্য একটি ‘হটলাইন’ এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন ব্যবস্থা চালু করা।
স্পিকারের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২০ সাল থেকে ঘৃণা-অপরাধ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি অভিযোগ ছিল ইহুদি-বিদ্বেষ সংক্রান্ত। উদাহরণ হিসেবে গত নভেম্বরে ম্যানহাটনের ‘পার্ক ইস্ট সিনাগগ’-এর বাইরে বিক্ষোভ এবং গত মাসে কিউ গার্ডেনসের একটি মন্দিরের সামনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে হামাস-ঘনিষ্ঠ স্লোগানের কথা উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের উপাত্ত অনুযায়ী মুসলিম-বিদ্বেষী অপরাধও ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান ও কাউন্সিল সদস্য ইউসেফ সালাম বলেন, ‘এসব ঘটনা আমাদের সম্প্রদায়ের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যার ফলে মানুষজন একত্রিত হয়ে ইবাদত করতেও ভয় পায়।’
তবে এই আইনের সমালোচকদের মতে, উপাসনালয়ের বাইরে ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির ফলে মানুষের বাকস্বাধীনতা খর্ব হতে পারে। যদিও স্পিকার এবং পুলিশ কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি ক্ষমতা গ্রহণের পর তার পূর্বসূরীর দেওয়া বেশ কিছু নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছিলেন, যার মধ্যে উপাসনালয়ের বাইরে বাফার জোন তৈরির আদেশটিও ছিল। তবে পরে তিনি সেই আদেশটি পুনরায় বহাল করেন।
 

শেয়ার করুন: