ছবি: সংগৃহীত
২০২০ সালে যখন পুরো বিশ্ব থমকে গিয়েছিল এবং ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল, তখন অনেক বাড়ির মালিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তাদের ‘ওয়াক-ইন ক্লোজেট’ (বড় আলমারি বা কাপড় রাখার ঘর) আর ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ঘরের অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে এই প্রশস্ত ক্লোজেটগুলোই সবচেয়ে দ্রুত অফিস স্পেসে রূপান্তরিত হয়েছিল।
কোভিড যুগে এটি একটি ভালো আইডিয়া মনে হলেও, ২০২৬ সালে এসে এটি একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষ করে যারা নিকট ভবিষ্যতে নিজেদের ঘর বিক্রি করতে চাইছেন তাদের জন্য। মহামারীর সময়ে আপনিও যদি এই ‘ক্লো-ফিস’ (ক্লোজেট + অফিস) ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে থাকেন, তবে ডিজাইনাররা মনে করছেন যে আপনার সেই আলমারি বা ক্লোজেটটিকে তার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে।
ডিজাইন বা নকশার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, ওয়াক-ইন ক্লোজেটকে হোম অফিসে রূপান্তর করার বিষয়টি তখন প্রয়োজনের তাগিদে করা হয়েছিল। ঘরগুলোকে হঠাৎ করেই একসাথে অফিস, ক্লাসরুম এবং থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছিল।
ইউটার ওয়াশিংটনের ‘লাভ ভার্সাস ডিজাইন’-এর ইন্টেরিয়র ডিজাইনার শ্যানডন ব্যারেট বলেন, ‘দিনের বেলা যখন অনেক মানুষ-স্বামী/স্ত্রী, রুমমেট এবং শিশুরা ঘরে থাকত, তখন রান্নাঘর বা ডাইনিং রুমের মতো জায়গাগুলো মনোযোগ দিয়ে কাজ করার বা ভিডিও কলের জন্য আর উপযুক্ত ছিল না।’
ওয়াক-ইন ক্লোজেটগুলো বড় কোনো নির্মাণ কাজ ছাড়াই গোপনীয়তা এবং আলাদা কাজের জায়গা তৈরি করার সুযোগ দিয়েছিল, যা অনেক বাজারের জন্য ছিল একটি বাস্তবসম্মত সমাধান। ব্যারেট আরও বলেন, ‘যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করিনি, তবে ডিজাইন এবং রিয়েল এস্টেট কমিউনিটিতে বিদ্যমান জায়গাকে দ্রুত কাজে লাগানোর একটি সৃজনশীল উপায় হিসেবে এটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল।’
বর্তমানে বাড়ির মালিকদের ওপর এর প্রভাব (এবং তারা যা করতে পারেন)
২০২৬ সালে এসে ক্রেতাদের অগ্রাধিকার বদলে গেছে। যদিও দূরবর্তী কাজ বা রিমোট ওয়ার্ক এখনো একটি বাস্তবতা, তবুও অনেকে তাদের প্রতিষ্ঠানের অফিসে ফিরে গেছেন। এর ফলে, কিছু বাড়ি ক্রেতা এখন এমন ঘর খুঁজছেন না, যেখানে কাজকে বাড়িতে টেনে আনা যায়। বরং তারা এমন জায়গা খুঁজছেন যেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা যায়।
ডালাসের ‘দ্য ডিজাইন হাউস’-এর সিইও এবং ডিজাইনার জেনিফার হোমিয়ার বলেন, “একটি ‘ক্লো-ফিস’ এখন আর কাঙ্ক্ষিত জায়গা নয়, বরং স্টোরেজ বা মালামাল রাখার জায়গা এখন একটি অপরিহার্য বিলাসিতা। ক্রেতারা এখন কাস্টম ক্যাবিনেট এবং একটি গোছানো জায়গা দেখতে চান, রিমোট কাজের ক্লান্তি বা ভয়ের কোনো স্মৃতি নয়।”
আপনি যদি কোভিডের সময় আপনার ওয়াক-ইন ক্লোজেটকে অফিস স্পেসে রূপান্তর করে থাকেন, তবে হোমিয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন যে ঘরটি বিক্রি করার আগে সেটিকে তার আসল রূপে ফিরিয়ে নিন। হোমিয়ার ব্যাখ্যা করেন, ‘ক্রেতারা নিজেরা এই পরিবর্তন করতে চাইবেন না। আর যদি করতেও চান, তবে তারা এটিকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আপনার ঘরের দাম কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।’
সৌভাগ্যবশত, আপনার ওয়াক-ইন ক্লোজেটটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া বেশ দ্রুত সম্ভব। এমনকি এই প্রক্রিয়ায় আপনি এটিকে কিছুটা আপগ্রেড বা আধুনিকায়ন করতে পারেন, যা আপনার ঘর বিক্রির ক্ষেত্রে একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে কাজ করতে পারে।

















