ছবি: সংগৃহীত
সব দেশের ক্ষেত্রে কিন্তু এ কথাটি প্রযোজ্য নয়। তবে এই কথাটি সত্য আমার সোনার বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। এ পেশায় টাকা আসে বানের মতো। কিন্তু তেমন কিছুই করতে হয় না। তাই তো’ নেতা হওয়ার দৌড়ে এত হানাহানি মারামারি। কেউ কারে নাহি ছাড়ে।
কোনভাবে যদি এমপি হওয়ার টিকিট মেলে বা হওয়া যায়, যে কোনো পদ পদবী পাওয়া যায়, তবেই তো বাজিমাত। সম্পদ হয় কাড়ি কাড়ি। হম্বিতম্বি শো শা করে জীবন পার করা যায় অনায়াসে। জনগণ তো’ নেতার ভয়েই জড়োসড়ো। জনগণের মুখে কুলুপ না এটে উপায় কি! নেতা ক্ষেপে গেলে তো রক্ষা নেই।
আমি আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন যাদেরকে রাজনীতির নামে মারামারি, চাঁদাবাজি, গোলাগুলি করতে দেখেছিলাম তারা পরবর্তীতে এমপি-মন্ত্রী হয়েছে। তারা ঠিকমতো ক্লাস না করে, পরীক্ষা না দিয়ে, চাকরি ব্যবসায়ী এসব না করেও শত বা হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে! উল্লেখ্য, মূলত বাংলাদেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা তারা। আর যারা ভালো করে পড়াশোনা করে ভালো কাজেও ঢুকলো তারা রইল পশ্চাতে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আগে যারা ক্ষমতায় ছিলো তারা তো গত ১৫/১৬ বছরে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি, অনেকটা দৌড়ের উপর ছিলো বা অনেকে দেশান্তরী ছিলো। কিন্তু দেখেন তারা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি তেমন সুবিধা ভোগ না করেও দিব্যি আছে। নিষ্কর্মা থেকেও টাকার অভাব তেমন হয়নি তাদের। অন্যদিকে গত সরকারের দুর্নীতি পরায়ন বিতাড়িত এমপি মন্ত্রী বা সুবিধাভোগীরা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন দেশে এবং বিলাসী জীবনযাপন করছে তারা। যদি তারা বহু বছর ক্ষমতা ফিরে নাও পায় তাতেও কাজ না করে তাদের জীবন চলবে মৌজ মাস্তি করে। মজাই মজা, এমন পেশাইতো সেরা পেশা। জনগণের টাকা চুরি করে বা অন্যের ধনে পোদ্দারি করে জীবন উপভোগ করা। কি হবে সৎ থেকে, কি হবে লেখা পড়া শিখে আর কি হবে মানবিক হয়ে? তাই সব বাদ দিয়ে হও নেতা কিংবা নেতার হাতা। অন্যকে মারো আর মেরে কেটে খাও। ওকালতি, ডাক্তারি, মাস্টারি সব বাদ দাও শুধু রাজনীতি করো। আমার সোনার বাংলাদেশে এর চাইতে বড়, লোভনীয় আর মধুর পেশা আর তো কিছু নেই!
লেখক: অভিনেতা।

















