শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

নাইচা ভাড়াটেদের  কাছে মামদানির  আবেদন

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০০:২০, ১৪ মার্চ ২০২৬

নাইচা ভাড়াটেদের  কাছে মামদানির  আবেদন

ছবি: সংগৃহীত

জনস্বাস্থ্য আবাসনের (পাবলিক হাউজিং) সমস্যা উপেক্ষা করার অভিযোগে বিদ্ধ এবং দুয়োধ্বনির মুখে পড়ার পর, মেয়র জোহরান মামদানি তার ‘রেন্টাল রিপঅফ’ শুনানির প্রথম সশরীরে উপস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য আবাসনের ভাড়াটেদের মন জয়ের চেষ্টা করেছেন।

ব্রঙ্কসের ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটিতে মামদানি কথা বলা শুরু করতেই এক নারী চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘ মেয়র, আগে পাবলিক হাউজিংয়ের কথা ভাবুন, আগে পাবলিক হাউজিং।’
মেয়র প্রথমে তাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ওই নারী থামেননি। ফলে মামদানি তার বক্তব্যের শুরুতে সেখানে উপস্থিত অল্প কয়েকজন জনস্বাস্থ্য আবাসন বাসিন্দাদের উদ্দেশে কথা বলতে বাধ্য হন।
মেয়র বলেন, ‘আমি জানি যে নাইচা বাসিন্দারা কেবল দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগহীনতার শিকারই হননি, বরং তারা এমন এক সিটি গভর্মেন্টের কাছ থেকে খুব সামান্যই আশা করেন যারা সবসময় তাদের দিকে অন্ধ হয়ে থেকেছে। নাইচা হাউজিংয়ে বসবাসকারী অনেক নিউ ইয়র্কবাসীর কাছে সেখানে থাকার অভিজ্ঞতা মানেই হলো অবহেলিত হওয়ার ইতিহাস।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি এই কথাগুলো বলছি এটা বোঝাতে যে, আমাদের প্রশাসন তার দায়িত্ব সম্পর্কে খুব স্পষ্ট। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই অবহেলার ইতিহাস পাল্টে দেওয়া।’
মামদানি অনুরোধের সুরে বলেন, ‘আপনি যদি নাইচার বাসিন্দা হন, তবে আমরা এই রেন্টাল রিপঅফ শুনানিতে আপনাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনতে চাই। নাইচা বাসিন্দারা যে ধরনের উন্নয়ন পাওয়ার যোগ্য, তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
জবাবে সেই প্রতিবাদকারী নারী চিৎকার করে বলেন, ‘আমরা গল্প শোনাতে চাই না। আমরা চাই আপনি শুনুন মেয়র। পাবলিক হাউজিংয়ের কথা শুনুন।’
মামদানি জানান, এই শুনানিগুলো সরকারের নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে। তিনি ঘোষণা করেন যে, তার প্রশাসন মে মাসের শুরুতে একটি আবাসন পরিকল্পনা প্রকাশ করবে যেখানে এই শুনানির সময় উঠে আসা ‘ধারণাগুলো’ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর কর্মকর্তারা পুরো শহরের আবাসনের উন্নতির জন্য কিছু সুপারিশ-সম্বলিত রিপোর্ট তৈরি করবেন। মামদানি অন্যান্য দুর্বলতার পাশাপাশি একটি ‘আরো কার্যকর ৩১১ রেসপন্স সিস্টেম’ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
উল্লেখ্য, এই শুনানির মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সিটির জরাজীর্ণ পাবলিক হাউজিংয়ের বদলে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ভবনের ভাড়াটে ও মালিকদের ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় মেয়র মামদানি এবং তার বিতর্কিত ভাড়াটে আইনজীবী সিয়া ওয়েভার সমালোচনার মুখে পড়েন। গত সপ্তাহের শুনানিতে ওয়েভার জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘এখানে সবার জন্য দরজা খোলা।’
তবে নাইচা বাসিন্দাদের পক্ষে কাজ করা সংগঠন ‘ক্রাইসিস অ্যাকশন সেন্টার’ মামদানির বিরুদ্ধে পাবলিক হাউজিংয়ের বাসিন্দাদের উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলেছে। এমনকি কুইন্সে অনুষ্ঠিত শুনানির বাইরে মেয়রকে বিদ্রুপ করে একটি ভ্রাম্যমাণ বিলবোর্ডও পাঠিয়েছিল তারা। হাসিমুখ মামদানির ছবিসহ সেই বিলবোর্ডে লেখা ছিল, ‘হাই, আমি মেয়র মামদানি এবং নাইচা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই!’
গত ফেব্রুয়ারিতে ব্রুকলিনের শুনানিতে, যেখানে প্রধান বক্তা ছিলেন ওয়েভার, এক প্রতিবাদকারী মঞ্চে উঠে অভব্য ভাষায় চিৎকার করে দাবি করেন যে, ‘পাবলিক হাউজিংয়ের লোকজনকে এই ভবনের ভেতর ঢুকতে দেওয়া উচিত।’
ব্রুকলিনের সেই ফোরামে নাইচা বাসিন্দাসহ অন্য ভাড়াটেদের প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে, কথা বলার জন্য নাম নিবন্ধন করা প্রায় ৫০০ জনকে সিয়া ওয়েভারের সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
 

শেয়ার করুন: