শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

খাইরুল ইসলাম পাখি’র কিচিরমিচির- একশো বারো

মব সংস্কৃতি বলে দেয়  সমাজ কতটা অসহিষ্ণু

খাইরুল ইসলাম পাখি

প্রকাশিত: ০০:০৮, ১৪ মার্চ ২০২৬

মব সংস্কৃতি বলে দেয়  সমাজ কতটা অসহিষ্ণু

ছবি: সংগৃহীত

অনেকতো হলো, মবের রাজাও গত হয়েছেন, তবুও মব বন্ধ হচ্ছে না!
কেননা প্রায় দু’বছরে সমাজ সংস্কারের ধুলি উড়িয়ে গোটা সমাজকেই বরং অন্ধকারে নিমজ্জিত করা হয়েছে। জনমনে এমন শান্তি বিলিয়েছেন বর্ষীয়ান ওই শান্তির দেবদূত যার প্রেক্ষিতে জনগণ তাকে ‘শান্তি কাকু‘ অভিধায় ভূষিত করেছেন।

কোনো জনপদে এমন অভিশাপ যুগ যুগ পরে আসে, যা বিলীন হতেও সময় যায় প্রচুর। তাহার প্রতি অনেকের মতো আমারও শ্রদ্ধা ও কিছুটা বিশ্বাস ছিল বলে আশায় বুক বেঁধেছিলাম। ভেবেছিলাম দেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল সেখান থেকে জাতি-দেশ ঘুরে দাঁড়াবে এবং ইতিবাচক কোনো পথে বাঁক নেবে। কিন্তু তার অসাধুতা, লোভাতুর ঐতিহ্য আর প্রতিহিংসা পরায়ণতা গোটা সমাজ ব্যবস্থাকেই ভেঙে চৌচির করে দিয়েছে। যে কারণে পারস্পরিক বন্ধন, বন্ধুতা, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সমাজ থেকে উবে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির জন্ম হয়েছে। মানুষে মানুষে বিভাজন, রেষারেষি আর হিংসাত্মক প্রবণতা যেন শেষ হচ্ছে না। একে অন্যের প্রতি যেনো তেতে আছেন। কেউ কাউকে যেনো সহ্যই করতে পারছেন না। কিন্তু এ অবস্থাতো যুগ যুগ ধরে চলতে পারেনা। এ অবস্থারতো অবসান হতে হবে। আমাদের সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে এই অন্ধ যুগ থেকে। নতুবা দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম লাগামহীন ভাবে অব্যাহত থাকবে আর সাধারণ মানুষ যারা রাজনীতির ধারে পাছেও নেই তারা বরাবরের মতোই নিগৃহীত হতে থাকবে প্রতিনিয়ত। 
দেশে এখন একটি নির্বাচিত সরকার, 
তাই তাদের প্রতি সবার ঐকান্তিক প্রত্যাশা একটি সহমর্মী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে অতি সম্প্রতি মবের পুনরাবৃত্তি দেখলাম। এ প্রসঙ্গে বলাবাহুল্য অন্তর্বর্তী সরকার মব সংস্কৃতিকে শুধু প্রশ্রয় দেয়নি, তারা মূল হোতা বা প্রবর্তক। তবে আশা করছি বর্তমান নব গঠিত সরকার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে যেভাবে মব হলো সেসব অচিরেই রুখবেন এবং এই প্রবণতা প্রতিহত করবেন। নতুবা এ সরকার যে (তাদের ভাষ্য মতে) মব বিরোধী সেটা নিজেরাই মিথ্যা প্রমাণ করবেন। সমাজের ও জনগণের, সর্বোপরি দেশের স্বস্তি ও শান্তি আনয়নে নবীন এ সরকার যথাযথ ও কার্যকরী ভূমিকা রাখবেন সেটাই সবার একান্ত কামনা। লেখক: অভিনেতা।
 

শেয়ার করুন: