ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া খরচ ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) ডলারের বেশি কমিয়ে আনতে হবে। এর মধ্যে বিতর্কিত আবাসন ভাউচার কর্মসূচি এবং স্কুল ফান্ডিংয়ে বড় ধরনের কাটছাঁট অন্তর্ভুক্ত। সিটির আর্থিক পর্যবেক্ষক এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
সিটি কন্ট্রোলার মার্ক লেভিন মঙ্গলবার বলেন, অ্যালবানি (রাজ্য সরকার) এ বছর সিটির বাজেট ঘাটতি মেটাতে উদ্ধারকারী হিসেবে এগিয়ে এলেও ভবিষ্যতে বিল পরিশোধের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে এখন থেকেই খরচ কমানো শুরু করতে হবে। বুধবার সিটি কাউন্সিলের প্রথম বাজেট শুনানিতে সাক্ষ্য দেওয়ার আগে লেভিন বলেন, ‘দ্রুত বাড়তে থাকা এই ব্যয়ের খাতগুলোর দিকে আমাদের খুব কঠোরভাবে নজর দিতে হবে।’
কন্ট্রোলারের কার্যালয় প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছে, যা মেয়র জোহরান মামদানির দাবি করা আগামী দুই বছরের ঘাটতির চেয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বেশি। বড় ধরনের কোনো ব্যয় সংকোচন ছাড়া লেভিন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আগামী বসন্তেও সিটিকে একই ধরনের আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।
লেভিন জানান, মামদানির ১২৭ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক বাজেট প্রস্তাব থেকে অন্তত ৬ বিলিয়ন ডলার কমাতে হবে, যার অর্ধেক আসবে বিভিন্ন সিটি এজেন্সি বা সংস্থা থেকে এবং বাকি অর্ধেক আসবে সিটির দ্রুত বাড়তে থাকা সামাজিক সেবা কর্মসূচিগুলো থেকে।
ব্যয়ের সবচেয়ে বড় খাত হিসেবে রয়ে গেছে আবাসন ভাউচার কর্মসূচি, যা ‘সিটি এফএইচইপিএস’ নামে পরিচিত। ২০১৯ সাল থেকে এটি প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এটা বিস্ময়কর ৯৪০% প্রবৃদ্ধি। সিটি কাউন্সিলের গত কয়েক দফার সম্প্রসারণের ফলেই এমনটি ঘটেছে। লেভিন সতর্ক করে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই ভাউচার বাবদ প্রতি বছর প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে।
পূর্বসূরি মেয়র এরিক অ্যাডামসের শুরু করা একটি মামলা মামদানি প্রশাসনও চালিয়ে যাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য এই সামাজিক সেবা সীমিত করা। এই মামলার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে খরচ আরো বহুগুণ বাড়তে পারে। বর্তমানে প্রায় ৬৫,০০০ পরিবার এই ভাউচার ব্যবহার করছে। তবে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট বাজেট অফিস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পূর্ণ আইনটি কার্যকর হলে এই সংখ্যা ১,১০,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা সিটির বার্ষিক খরচে আরো ৩.৪ বিলিয়ন ডলার যোগ করবে।
কন্ট্রোলারের নজরদারিতে আরো রয়েছে শিক্ষা বিভাগ, যার বাজেটের পরিমাণ বিশাল ৪২ বিলিয়ন ডলার। এটা সিটির পুরো ব্যয় পরিকল্পনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। লেভিন বলেন, ‘শিক্ষা বাজেটের এমন এক ব্যবস্থা রয়েছে যেখানে ২০২০ সাল থেকে ১ লাখ শিক্ষার্থী কমেছে, অথচ খরচ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।’
লেভিনের মতে, ক্রমাগত বাড়তে থাকা কর্মসূচির মধ্যে একটি হলো ‘কার্টার কেসেস’। এর আওতায় সিটি যখন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের যথাযথ সুবিধা দিতে পারে না, তখন শিক্ষা বিভাগ তাদের বেসরকারি স্কুলের খরচ বহন করে। এই খাতে খরচের পরিমাণ প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় তিনগুণ বেশি।
তহবিলের অপব্যবস্থাপনা হিসেবে তিনি আরো যেসব খাতের কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র সেবা এবং এমটিএ-তে সিটির আর্থিক অবদান।

















