শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

সিটি প্রেমিক অনেক মিলনিয়ার হারাবে রাজ্য 

নতুন করারোপের কারণে  নিউইয়র্ক ছাড়বে ধনীরা! 

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০০:২৭, ১৪ মার্চ ২০২৬

নতুন করারোপের কারণে  নিউইয়র্ক ছাড়বে ধনীরা! 

ছবি: সংগৃহীত

রাজ্য আইনসভা ধনীদের ওপর উচ্চহারে কর আরোপের আহ্বান জানানোর এক দিন পরই গভর্নর ক্যাথি হোকুল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে সর্বোচ্চ উপার্জনকারীরা রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে পারেন।

বুধবার অ্যালবানিতে ‘পলিটিকো’ আয়োজিত এক ফোরামে এম্পায়ার স্টেটে (নিউইয়র্ক) উচ্চবিত্তদের ধরে রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়ে হোকুল বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করতে চাই যে আমাদের ব্যবস্থাটি হবে বুদ্ধিদীপ্ত, যেখানে কেবল কর আদায়ের খাতিরেই কর আরোপ করা হবে না। রাজ্যে আমরা যে উদার সামাজিক কর্মসূচিগুলো চালাতে চাই, তার জন্য আমার উচ্চ নিট সম্পদের অধিকারীদের সমর্থন প্রয়োজন।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘অনেক দেশপ্রেমিক কোটিপতি আছেন যারা এগিয়ে আসতে চান। ঠিক আছে, তাহলে আমাকে চেক লিখে দিন। আপনারা যদি সত্যিই সমর্থন করতে চান, তবে প্রথম পদক্ষেপ হবে পাম বিচে (ফ্লোরিডা) গিয়ে দেখা যে আপনারা কাদের ঘরে ফিরিয়ে আনতে পারেন, কারণ আমাদের করের ভিত্তি ক্ষয়ে যাচ্ছে।’
তবে তিনি এও জানান, ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর তাত্ত্বিক ধারণার বিরুদ্ধে তিনি নন। গভর্নর বলেন, ‘দর্শনগতভাবে আমার এতে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু আমাকে এই বাস্তবতার দিকে তাকাতে হবে যে আমি অন্য রাজ্যগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় আছি, যেখানে করপোরেট এবং ব্যক্তিদের ওপর করের বোঝা অনেক কম।’
প্রগতিশীল গোষ্ঠী ‘ওয়ার্কিং ফ্যামিলি পার্টি’, যারা ২০২২ সালে হোকুলকে সমর্থন দিয়েছিল কিন্তু আগামী নির্বাচনের জন্য এখনো সমর্থন দেয়নি, তারা জানিয়েছে যে গভর্নরের মানসিকতায় পরিবর্তন আসতে পারে। দলটির নির্বাহী পরিচালক জেসমিন গ্রিপার বলেন, ‘গভর্নর হোকুল দেখছেন যে ভোটাররা এখন কী চায়; ডেমোক্র্যাট, স্বতন্ত্র বা রিপাবলিকান, সব স্তরের ভোটাররাই অতি-ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর পক্ষে।’
এটি এমন এক সময়ে এলো যখন ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন রাজ্য আইনসভা বার্ষিক ৫ মিলিয়ন (৫০ লাখ) ডলার বা তার বেশি আয়কারীদের ওপর ব্যক্তিগত আয়কর, বড় ব্যবসার ওপর করপোরেট ট্যাক্স এবং অন্যান্য উৎস থেকে রাজস্ব বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে। এ বছরের রাজ্য বাজেট চূড়ান্ত হওয়ার পর এই ধারণাগুলো আইনে পরিণত হবে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি হোকুল। তিনি বলেন, ‘আমি এই বাজেট নিয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেব এবং সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার দিকে খেয়াল রাখব।’
অন্যদিকে, তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী নাসাউ কাউন্টি এক্সিকিউটিভ ব্রুস ব্লেকম্যান আইনসভার এই প্রাথমিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের নতুন কর এবং ৩৫ বার ইউটিলিটি বিল বাড়ানোর পর আরো কর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া করদাতাদের বিশ্বাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। আমি গভর্নর হলে নিউইয়র্কবাসীদের জন্য আয়কর এবং ইউটিলিটি কর কমিয়ে দেব।’
এছাড়া হোকুল রাজ্যের জলবায়ু আইন সংশোধনের জন্যও জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘নিউ ইয়র্কবাসীরা আর অর্থ দিতে পারছে না। আমাদের তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে হবে। এই বাজেটে এটাই আমার এক নম্বর কাজ।’
যদিও রাজ্য কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে স্বীকার করেছে যে ২০৩০ সালের জন্য নির্ধারিত প্রথম কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না, তবুও হোকুল এখন ২০১৯ সালের জলবায়ু আইনে বর্ণিত সব সময়সীমা আরো পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমার সময় প্রয়োজন।’
 

শেয়ার করুন: