ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফ্লু দ্রুত বাড়ছে এবং এর পেছনে রয়েছে ভাইরাসের নতুন একটি ভ্যারিয়েন্ট। ছুটির দিনগুলোতে ভ্রমণের কারণে এই আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘সাবক্লেড কে’ নামে পরিচিত এই ভ্যারিয়েন্টটি এর আগে যুক্তরাজ্য, জাপান ও কানাডায় প্রাদুর্ভাব ঘটিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত ডিসেম্বর মাসে ফ্লুর প্রকোপ শুরু হয়। গত মঙ্গলবার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, দেশটির অর্ধেকেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে অসুস্থতার মাত্রা উচ্চ বা অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
সিডিসির অনুমান অনুযায়ী, এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ লাখ মানুষ অসুস্থ হয়েছেন, ৮১ হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৩,১০০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে অন্তত ৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নিউইয়র্কসহ কিছু অঙ্গরাজ্য বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিউ ইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ২০ ডিসেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে সেখানে ৭১ হাজার মানুষ ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন, যা ২০০৪ সালের পর এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড।
সাবক্লেড কে ফ্লু আসলে কী?
ফ্লু ভাইরাস প্রতিনিয়ত তার রূপ পরিবর্তন বা মিউটেশন করে। টাইপ এ ফ্লুর দুটি সাবটাইপ রয়েছে এবং সাবক্লেড কে হলো সেগুলোর মধ্যে একটির (এইচ৩এন২) পরিবর্তিত রূপ। এই এইচ৩এন২ স্ট্রেনটি সবসময়ই বেশ মারাত্মক হয়, বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য।
জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথ-এর ভাইরাস বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু পেকোস বলেন, সাবক্লেড কে-এর মিউটেশনগুলো এতটাও বড় নয় যে একে সম্পূর্ণ নতুন ধরণের ফ্লু বলা যাবে। তবে এগুলো এ বছরের টিকার সুরক্ষা কিছুটা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
সাবক্লেড কে কি মানুষকে আরও বেশি অসুস্থ করবে?
সিডিসি জানিয়েছে, এই মৌসুমটি কতটা ভয়াবহ হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত সিডিসির তথ্যমতে, এ বছর মাত্র ৪২% প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু ফ্লু টিকা নিয়েছে।
কাদের ফ্লু টিকা নেওয়া প্রয়োজন?
সিডিসি এবং প্রধান চিকিৎসা সংস্থাগুলো ৬ মাস বা তার বেশি বয়সী প্রায় প্রত্যেকের জন্য ফ্লু টিকার সুপারিশ করে। ফ্লু বিশেষ করে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ, গর্ভবতী নারী, ছোট শিশু এবং হাঁপানি, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিপজ্জনক।
সব বয়সীদের জন্য ইনজেকশন বা টিকার ব্যবস্থা রয়েছে এবং ২ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের জন্য রয়েছে নাকে দেওয়ার স্প্রে। এ বছর প্রথমবারের মতো কিছু ব্যক্তি বাড়িতে বসেই নিজে নিজে এই ‘ফ্লু-মিস্ট’ ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারেন।

















