ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা আসন্ন রাজ্য বাজেটে মেয়র জোহরান মামদানির ‘ধনীকর’ আরোপের প্রস্তাবকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা গভর্নর ক্যাথি হোকুলের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত।
স্টেট সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলীয় নেতা আন্দ্রেয়া স্টুয়ার্ট-কাজিন্স বুধবার নিশ্চিত করেছেন, ধনী ব্যক্তি এবং বড় কর্পোরেশনগুলোর ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাবটি আগামী সপ্তাহে উচ্চকক্ষের প্রতীকী ‘ওয়ান-হাউস’ বাজেট রেজোলিউশনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি যে, আমরা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করছি এবং রাজস্ব বাড়ানোর উপায়গুলো অবশ্যই আমাদের প্যাকেজের অংশ হবে।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘সাধারণভাবে আমরা সবসময় প্রগতিশীল কর কাঠামোতে বিশ্বাস করি এবং নিউইয়র্কবাসীদের চাহিদা পূরণের পথ খুঁজি। স্পষ্টতই আমরা নিউ ইয়র্ক সিটিকে সাহায্য করতে আগ্রহী।’
পলিটিকো প্রথম এ খবরটি প্রকাশ করার পর নেত্রীর এই নিশ্চিতকরণ বার্তা আসে। সেখানে বলা হয়েছিল, স্টেট সিনেট এবং অ্যাসেম্বলি উভয় কক্ষের ডেমোক্র্যাটরাই গভর্নর হোকুলকে অগ্রাহ্য করে মামদানির ধনীকর আরোপের প্রস্তাবকে সমর্থন দেবেন। উল্লেখ্য, গভর্নর হোকুল বারবার আয়কর বাড়ানোর বিরোধিতার কথা বলে আসছেন।
আইনসভার নেতারা অতীতেও এ ধরনের বাধ্যতামূলক নয়, এমন প্রস্তাব ব্যবহার করে ধনীদের ওপর উচ্চহারে কর আরোপের সংকেত দিয়েছেন। যেমন গত বছর স্টেট সিনেটের একটি প্রস্তাবে রাজ্যজুড়ে কর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল, যা মামদানির বর্তমান নিউ ইয়র্ক সিটি-কেন্দ্রিক প্রস্তাবের চেয়েও ব্যাপক ছিল।
তবে ধনীদের ওপর কর চাপানোর এই সম্ভাবনাকে এখনো গভর্নর হোকুলের তীব্র বিরোধিতার বাধা অতিক্রম করতে হবে। যদিও তার মিত্ররা এখন পর্যন্ত এ বিষয়টি নিয়ে সাবধানে পা ফেলছেন, কারণ এটি ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রগতিশীল অংশকে বেশ উজ্জীবিত করেছে।
স্টেট ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান জে জ্যাকবস, যিনি হোকুলের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অতীতে রাজ্যব্যাপী কর বৃদ্ধির বিরোধিতা করেছেন, তিনি এই লড়াইয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জ্যাকবস বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে লোকজনকে পরামর্শ দিচ্ছি।’
কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস, যিনি হোকুলের মিত্র এবং একইসাথে মামদানির সমর্থক, তিনি জানিয়েছেন যে মিলিয়নেয়ারদের ওপর কর বাড়ানোর জন্য আলবানির (রাজ্য সরকারের কেন্দ্র) ওপর চাপ এবার অতীতের তুলনায় অনেক বেশি জোরালো।
তিনি বলেন, মামদানির প্রচেষ্টার বাইরেও শহরের কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি পূরণের একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রিচার্ডস যোগ করেন, ‘আমি বরং রাজ্যকেই এই দায়ভার নিতে দেখতে চাই। যদি তা না হয়, তবে আমি মিলিয়নেয়ারদের ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব সমর্থন করব।’

















