ছবি: সংগৃহীত
সতর্কবার্তা পরিষ্কার : হয় সুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালান, নাহলে চরম বিপদে পড়ুন।
সাফোক কাউন্টি পুলিশ আশা করছে, বারবার মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এক ব্যক্তির কাছ থেকে জব্দ করা ৬০ হাজার ডলার মূল্যের একটি সুসজ্জিত ‘করভেট স্টিংরে’ সম্ভাব্য মদ্যপ চালকদের কাছে একটি কড়া বার্তা দেবে। আর তা হলো, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালালে আপনাকে চরম মূল্য দিতে হবে।
২০২২ সালে কাউন্টি আইনের অধীনে এর আগের মালিকের কাছ থেকে সাফোক পুলিশ এই ক্লাসিক গাড়িটি জব্দ করে। মদ্যপ চালকদের লাগাম টানতে পুলিশের নতুন জনসংযোগ প্রচারণার কেন্দ্রে রয়েছে এ গাড়িটি। এটি মূলত পুলিশের সেই বিশেষ অভিযানের অংশ যা গত তিন বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা কমাতে সাহায্য করেছে।
সাফোক কাউন্টি পুলিশ কমিশনার কেভিন ক্যাটালিনা মিডিয়াকে বলেন, ‘গাড়িটি জব্দ করার ঘটনাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি নিশ্চিত, আগের মালিক সারা জীবন এটি মনে রাখবেন।’
২০২০ মডেলের এই চমৎকার উজ্জ্বল ‘ভেট’ গাড়িটিতে সানরুফ এবং ভি৮ ইঞ্জিন রয়েছে এবং এটি মাত্র ৩,০০০ মাইলের কিছু বেশি চলেছে। ‘কেলি ব্লু বুক’-এর হিসাব অনুযায়ী গাড়িটির বাজারমূল্য ৬০ থেকে ৬৫ হাজার ডলার, যদিও ইন্টারনেটে এই মডেলের গাড়িগুলো ৯০ হাজার ডলার পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
আগের মালিক দ্বিতীয়বার মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে। এরপর তারা গাড়িটিতে সাফোক কাউন্টি পুলিশের লোগো-সংবলিত রঙ এবং নতুন রূপ দেয়। গাড়িটিতে পুলিশের সাইরেন এবং ফ্ল্যাশিং লাইট লাগানো হয়েছে, তবে এতে একটি বিশেষ লেখা রয়েছে যা সাধারণ টহল গাড়িতে দেখা যায় না, আর তা হলো মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে জব্দ।
গাড়িটি পুলিশের নিয়মিত টহলে ব্যবহার করা হবে না; বরং এটি বিভিন্ন জনসমাগম এবং প্যারেডে প্রদর্শিত হবে। এটি মানুষকে চাক্ষুষ মনে করিয়ে দেবে, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালালে আপনার পকেট থেকে বিশাল অংকের সম্পদ খোয়া যেতে পারে।
ক্যাটালিনা বলেন, ‘নিলামে এই গাড়িটি বিক্রি করে আমরা যা পেতাম, তার চেয়ে এটি আমাদের জন্য ভবিষ্যতের একটি বড় বিনিয়োগ। আমরা এই গাড়িটি বারবার ব্যবহার করতে পারব এবং আমরা আশা করছি এটি সাফোক কাউন্টিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো রোধ করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা আমাদের বিনিয়োগের দশগুণ ফেরত পেয়েছি। যদি আমরা একটি প্রাণও বাঁচাতে পারি, তবে এটি হবে ’৯০-এর দশকে অ্যামাজনের শেয়ারে বিনিয়োগ করার মতো লাভজনক।’
২০২৩ সাল থেকে বিভাগটি রাস্তা থেকে মদ্যপ চালকদের সরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে, যার ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু কমেছে এবং এটি পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কমিশনার বলেন, ‘আমরা টহলরত পুলিশদের বলে দিয়েছি, যদি তোমরা সাফোক কাউন্টি পুলিশ বিভাগে পদোন্নতি পেতে চাও অথবা ডিটেকটিভ বা কোনো তদন্ত ইউনিটে যেতে চাও, তবে তোমাদের কাজের রেকর্ডে মদ্যপ চালক গ্রেফারের সাফল্য থাকতে হবে।’
মূলত ১৯৯৯ সালে গৃহীত এই যানবাহন জব্দ করার আইনটি বিভিন্ন আইনি চ্যালেঞ্জের পর ২০০৪ সালে কিছুটা সংশোধন করা হয়েছিল।

















