ছবি: সংগৃহীত
ভবিষ্যতে বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়ার পথে ভ্রমণকারীদের বাহন হতে পারে এই বৈদ্যুতিক হেলিকপ্টার।
নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সির পোর্ট অথরিটির নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন গার্সিয়া বলেন, “আপনাদের মধ্যে যারা তরুণ, তারা হয়তো ‘দ্য জেটসনস’ কার্টুনটি দেখেছেন। সেটি মূলত মহাকাশ যুগ এবং আমরা কীভাবে মহাশূন্যে যাতায়াত করতে পারি, তা নিয়ে ছিল। আর আজকের এই ঘটনাটি সেই ভবিষ্যতের প্রথম ধাপ বলে মনে হচ্ছে।”
এটিকে বলা হচ্ছে ই-ভিটল, যার পূর্ণরূপ হলো বৈদ্যুতিক উপায়ে খাড়াভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ। এটি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে এবং কয়েক বছর আগে নিউইয়র্ক সিটিতে যাচাই করা হয়েছিল। তবে সোমবার একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করা হয়েছে, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ম্যানহাটানের হেলিপোর্ট পর্যন্ত প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা করার মাধ্যমে।
এই উড়োজাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ‘জোবি এভিয়েশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জোবেন বেভার্ট বলেন, ‘শান্ত এবং নির্গমনমুক্ত এয়ার ট্যাক্সির মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সংযুক্ত করার যে স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।’
এটি প্রচলিত হেলিকপ্টারের তুলনায় ১০০ গুণ বেশি শব্দহীন।
জোবি এভিয়েশনের অপারেশন প্রেসিডেন্ট বনি সিমি বলেন, ‘আমাদের এ উড়োজাহাজটি খুবই শান্ত। লক্ষ্য হলো এটিকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলা, যাতে মানুষ তাদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে পারে।’
এটি এতটাই নিস্তব্ধ এবং পরিবেশবান্ধব যে, যাত্রাপথের বাসিন্দাদের কোনো প্রকার বিরক্ত না করেই এর পরিসর বাড়ানো সম্ভব। এই বৈদ্যুতিক হেলিকপ্টারটি প্রথাগত হেলিকপ্টারের মতো প্রপেলারগুলো উপরের দিকে রেখে যাত্রা শুরু করে, কিন্তু মাটি থেকে ১,০০০ ফুট উপরে ওঠার পর প্রপেলারগুলো বিমানের মতো আড়াআড়িভাবে ঘুরে যায়।
এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিমানবন্দর এবং ম্যানহাটানের মধ্যে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনা।
সিমি বলেন, ‘ম্যানহাটানের ওয়েস্ট সাইডের থার্টি স্ট্রিট থেকে এখানে আসতে মাত্র সাত মিনিট সময় লাগবে। কিন্তু যদি আপনি উবার নিয়ে ভ্যান উইক এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে আসতে চাইতেন, তবে কে জানে কত সময় লাগত!’
জোবি এভিয়েশন এখনো ফেডারেল অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, তবে সেই সাত মিনিটের ফ্লাইটের সুবিধা হয়তো খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে।
ক্যাথরিন গার্সিয়া বলেন, ‘আমার মনে হয় আগামী এক বা দুই বছরের মধ্যে আমরা প্রকৃত বাণিজ্যিক ফ্লাইট এবং এর বিস্তার দেখতে পাব।’
জোবি এভিয়েশন আশা করছে, কার্যক্রম শুরুর পর এর ব্যাপক প্রসারের ফলে এই হেলিকপ্টারে বিমানবন্দরে যাওয়ার খরচ সাধারণ কার সার্ভিস বা উবারের ভাড়ার প্রায় সমান হয়ে আসবে।

















